সিঙ্গাপুরে ৪৭-তম বিজয় দিবস পালিত

0
83

বাংলাদেশ হাই কমিশন, সিঙ্গাপুর এর উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ৪৭-তম বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃšদ, হাই কমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। হাই কমিশনার জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা হয়।

এরপর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নিহত শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও জাতির সুখ, শান্তি, কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী পড়ে শোনোনো হয়।

অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় হাই কমিশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অবদান সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। হাই কমিশনার জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বক্তৃতায় মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত মা-বোনদের আত্মত্যাগ এবং অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভ’মি উল্লেখ করে হাই কমিশনার বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে বিশ^ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্তিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে বিশ^দরবারে মহিমান্বিত করেছে বলে উল্লেখ করেন।

হাই কমিশনার তাঁর বক্তৃতায় প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশগড়ার কাজে ও দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহবান জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে যাতে বিকশিত হয়, সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।  আলোচনা সভা শেয়ে একটি মনোজ্ঞ  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্ববোধক গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নাচ দর্শক-শ্রোতাগণ আনন্দচিত্তে উপভোগ করেন। অনুষ্ঠান শেষে অভ্যাগত অতিথিগণকে বাংলাদেশী খাবার সহযোগে আপ্যায়ন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here