হার্ভার্ডে আন্তর্জাতিক সেমিনারে তৈরী পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা

0
49

নিউইয়র্ক থেকে : বাংলাদেশের পোষাক খাতকে শক্তিশালী এবং শ্রমিক অধিকার সংহত করতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানদের তৈরি পোশাকের দাম  বাড়ানোর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকার-সুবিধা প্রাপ্তির বিকল্প নেই। শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণামূলক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’ (আইএসডিআই) এর আয়োজনে বাংলাদেশের পোষাক শিল্প নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ অভিমত পোষণ করা হয়। বিজয় দিবসের আমেজে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে শ্বিব্যাপী চলমান পরিস্থিতির আলোকে গার্মেন্টস সেক্টরের সামগ্রিক কল্যাণে ক্রেতা-সংস্থাগুলোর দায়িত্ব অপরিসীম বলেও মন্তব্য করা হয়।

‘বাংলাদেশের টেকসই পোশাক শিল্পের স্বচ্ছতায় মাল্টি স্টেকহোল্ডার সমন্বয় ও উদ্যোগ’ (sustainable apparel sourcing-multi-stakeholder collaboration beyond compliance and transparency )শীর্ষক দিনব্যাপী এ সেমিনারের মুখ্য বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তদুপরী বাংলাদেশের পোষাক শিল্পে কমপ্লায়েন্সের জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ঋণ এবং সহায়তাও পাওয়া যায়নি। কমপ্লায়েন্স এবং ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাপ দেওয়া হলেও প্রতিযোগী দেশসমূহকে অনুরূপ চাপ দেওয়া হচ্ছে না।’

মশিউর আরো বলেন, ‘এতদসত্বেও বাংলাদেশ সরকার গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। কারণ, শেখ হাসিনার সরকার সব সময়ই শ্রমিক শ্রেণীর কল্যাণে বদ্ধপরিকর। একইসাথে গার্মেন্টস সেক্টরের সামগ্রিক উন্নয়নেও অঙ্গিকারাবদ্ধ।’

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অফ মিশন জোয়েল রেইফম্যান(joel reifman, deputy chief of Mission ) বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন পোষাক তৈরী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেছি সেগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নিত হচ্ছে এবং বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। এটি আমাকে আশান্বিত করেছে।’

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের লিয়ানা ফক্সভোগ (Liana Foxvog, Director of International Labor rights forum )বলেন, ‘বাংলাদেশে এ্যকরড এবং এলায়েন্স আসার পর গত কয়েক বছর ধরে গার্মেন্টেসে বড় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে বেশ কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ কমপ্লায়েন্ট হতে পারেনি। এ ব্যাপারে আরো কাজ করতে হবে।’

আয়োজক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ইকবাল ইউসুফ জানান, ‘টানা চতুর্থ বছরের মত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই আন্তর্জাতিক সেমিনার হলো এবং এতে পাঁচটি সেশনে তিরিশ জন বক্তা বাংলাদেশ এবং বিশ্ব বাজারে পোষাক রপ্তানীকারক দেশসমূহের শিল্প প্রতিষ্ঠানের নানা প্রতিকূলতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।’ বরাবরের মত এই সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপের আমদানীকারক, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও লেবার ডিপার্টমেন্ট, বিশ্বব্যাংক, শ্রমিক সংগঠক, গবেষক এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্যরা ছিলেন হার্ভার্ডে কেনেডি স্কুলের এ্যাশ সেন্টার অব ডেমক্র্যাটিক গভর্ণ্যান্স এ্যান্ড ইনোভেশনের ড. ডেভিড ডেপিস, রিসার্চ ডিরেক্টর জন ট্রাম্পবোর, এমআইটির আর্কিট্যাক্ট মিজানুল চৌধুরী, কটন ইনকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক মেসোরা, নর্থ ক্যারলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল কলেজের ড. রেজাউল হাসান, পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক আনের, বিশ্বব্যাপী কর্মরত শ্রমিক-অধিকার নিয়ে গবেষণারত ওয়ার্কার্স রাইটস কনসর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা, হার্ভার্ডের রিসার্চ এসোসিয়েট ডরোটা ওয়েজিয়াক-বায়োলওয়াস্কা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসেচুসেট্্স’র সহকারি অধ্যাপক নিকলয় এ্যাঙ্গুয়েলভ, টেকসই উন্নয়নের পথে গার্মেন্টস সেক্টরকে ধাবিত করতে সর্বাত্মক পরামর্শদানকারি গোব্লু ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা এরিয়েল ক্র্যাটেন, বিশ্বব্যাংকের রিসার্চ এনালিস্ট জ্যাক হেস, হাবিব ব্যাংকের বোর্ড ডিরেক্টও মাশরুফ হাবিব, নিউইয়র্ক মেডিক্যাল কলেজের হেল্্থ পলিসি এ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের হাসনাত আলমগীর, এশিয়া ডিপার্টমেন্ট অব সলিডারিটি সেন্টারের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সোনিয়া মিস্ট্রি, এ্যাম্বার জিন্স এ্যান্ড ওয়াশিং লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জান্নাতুন্নেসা, ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কলার ড. সৈয়দ আবু হাসনাত, বস্টনের ফ্রেমিংহাম ইউনিভার্সিটির বিজনেস ডিপার্টমেন্টের চেয়ার ড. সান্দ্রা সাউদার্নল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসেচুসেট্্স’র অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ড. জেনিফার জেনিশ ক্লিফোর্ড এবং সিনিয়র লেকচারার ড. নূরল আমান, ফ্র্যামিংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ শিবলী, সাফোক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু জালাল প্রমুখ। সেমিনারের বিষয়ের মধ্যে ছিল ‘দ্য রাইজ অব রবোটিক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ম্যানুফাকচারিং’, ‘এক্সামিনিং কন্জ্যুমার এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রেসপন্স টু দ্য ট্রু কোস্ট অব এপারেল’, ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন দ্য এপারেল চেইন এ্যান্ড গ্রীণ ফ্যাক্টরিজ ইন বাংলাদেশ’, ‘ট্র্যান্সপ্যারেন্সি এ্যান্ড সেল্্স এসেসমেন্ট ফর প্রডাক্ট এ্যান্ড ওয়ার্কার্স সেইফটি’, এবং ‘শেয়ার রেসপন্সিবিলিটি ফর এ সাসটেইনেবল আরএমজি সেক্টর ইন বাংলাদেশ’।

সেমিনারে অংশ নেয়া বিদেশী ক্রেতা-প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং গবেষকরা বলেন যে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে হলে এখনই এ খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারিরা মন্তব্য করেছেন, নানা প্রতিক’লতা সত্বেও বাংলাদেশ গার্মেন্টস সেক্টরের সার্বিক কল্যাণে কাজ করছে। তবে কাজের এ গতি ত্বরান্বিত হবে ক্রেতারা যদি আন্তরিক অর্থে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here