আকায়েদের পরিবারের সদস্যরা মুনা‘র সদস্য

0
2726

বর্ণমালা নিউজ: আকায়েদ উল্লাহর আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনার পর পরই ব্রুকলীনের মুসলিম উম্মাহ (মুনা)‘র ঘাটি হিসাবে পরিচিত কোর্টলি রোডের ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’-এ তল্লাশি চালায় নিউইয়র্ক পুলিশ ও এফবিআই। এই ঘটনায় এবং পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে আকায়েদ উল্লাহর সাথে একজন ইমামের সম্পর্কের ঘটনায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মসজিদগুলোর উপর আবার যাতে নজরদারীর খড়গ নেমে না আসে এবং মসজিদগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে পরিচালনা করতে পারে তার জন্য তৎপর হয়েছে “ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল ইউএসএ”। গত ১৯ ডিসেম্বর জ্যাকসন হাইটসে “ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল ইউএসএ” আয়োজন করে ’রোল অন ইমাম-ওলামা এন্ড কমিউনিটি লীডার’ নামে এক আলোচনা সভা। আর এই সভায় কেউ কেউ উপযাজক হয়ে আকায়েদ উল্লাহর ঘটনায় বাংলাদেশের জামাতের রাজনীতির সমর্থক ‘মুসলিম উম্মাহ অব নথ আমেরিকা’ সংক্ষেপে মুনা নামের সংগঠনটিকে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার পর অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে পরিবারের মহিলারা মুসলিম উম্মাহর সাথে শুধু ওতপৎভাবে জড়িত নন, তার মা ও বোনেরা সংগঠনটির মহিলা শাখার দায়িত্বপূর্ণ কর্মী হিসাবে সংগঠনের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নেন।

আর এই মুসলিম উম্মাহর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী বিচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নামের সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির দন্ডাদেশ কার্যকর হওয়া জামাত নেতা কাদের মোল্লাকে নিয়ে নিউইয়র্ক ও লস এঞ্জেলেসে মুসলিম উম্মাহর শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। জামাতের আরেক নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পক্ষেও সংবাদ সমম্মেলনে উপস্থিত থাকেন সংগঠনটির সাবেক এক সভাপতিও।

‘কোয়ালিশন অব বাংলাদেশী আমেরিকান’ নামে জামাতপন্থী একটি জোট সংগঠনের ব্যানারে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে শিবির-জামাত করা নেতা-কর্মীরা যাদের বেশীর ভাগই মুসলিম উম্মাহর সাথে সাংগঠনিকভাবে জড়িত সভা সমাবেশ আয়োজন করেছে এবং এখনও করছেন। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরের সময়ে তাদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আকায়েদ উল্লাহকে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবী করেছেন ব্রকলীনের নাম না প্রকাশে ইচ্ছুক একটি সূত্র। সূত্রটি বলেছেন ম্যানহাটানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আয়োজিত সেই সমাবশটিতে মুসলিম উম্মাহর কর্মীদের সাথে আকায়েদ যোগ দিয়েছিলেন তার ছবিও তিনি দেখেছেন। এছাড়া ব্রুকলীনের কোর্টলি রোডের ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’-এ আকয়েদের যাতায়াত বেশী ছিল বলে জানিয়েছেন মসজিদটির এক মুসল্লী। আর তাই আকায়েদের আত্মঘাতি বোমা হামলার পর স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ প্রথমেই এই মসজিদটিতে তল্লাশিী চালিয়েছে। এই মসজিদটি মুসলিম উম্মাহর সদর দপ্তর হিসাবে পরিচিত।

এদিকে আকায়েদের পরিবারের মহিলা সদস্যরা মুসলিম উম্মাহর সাথে জড়িত তা নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বেশ ক‘জন নেতা-কর্মী। তারা বলেন, ব্রুকলীনে বসবাসরত: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পর্যায়ের দুজন নেতার স্ত্রীও মুসলিম উম্মাহর সক্রিয় সদস্য এবং তারাও আকায়েদের পরিবারের মহিলা সদস্যদের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকেন। এদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের এক সাবেক নেতার স্ত্রীও মুসলিম উম্মাহর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিএনপির এই নেতা স্ত্রীর এই অবস্থানকে নেমে না নেওয়ায় তার স্ত্রী তাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঐ দুই নেতা বিভিন্ন সময়ে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষন দিলেও ঘরের শত্রু বিভীষনের বিরুদ্ধে তেমন উচ্চবাচ্য করেন না।

সেদিন ১১ ডিসেম্বর পোর্ট অথিরিটি বাস টার্মিনালে আকায়েদের পাইপ বোমা হামলার মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা না পেরুনোর আগেই মুসলিম উম্মাহর ওয়েব সাইটে আকায়েদের বোমা হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর বিষয়টি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের কেউ কউে বলছেন ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে তাদের ওয়েব সাইটে ঘটনার নিন্দা করার মধ্যে দিয়ে মুসলিম উম্মাহ (মুনা) কি বোঝাতে চেয়েছে তা বোধগম্য হয়নি। ঐ ঘটনার নিন্দা করে সংগঠনটি সন্ত্রাস বা জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ঘোষণা করলেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে তাদের পরস্পর বিরোধী অবস্থানই তুলে ধরেছে।

এদিকে আকায়েদের সাথে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার’র সম্পৃক্তাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল ব্রুকলীনের কেনসিংটন এলাকার আল নূর মসজিদের ইমামের সাথে আকায়েদের সম্পৃক্তার তথ্য প্রচার করছে বলেছেন মসজিদটির কয়েকজন মুসল্লী। আল নূর মসজিদটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধে মুসলিম উম্মাহর একটি গ্রুপ এই মসজিদটি করায়ত্ব করতে ব্যর্থ হয়ে এখন আকায়েদ উল্লাহর ঘটনায় মসজিদের ইমমাকে জড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্ঠা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া কেউ যখন মুসলিম উম্মাহর সাথে আকায়েদের জড়িত থাকার কথা বলেননি তখন নিজে থেকে মুসলিম উম্মাহর নেতা-কর্মীরা কেন নিজেদের সংগঠন এতে জড়িত না বা মুনা‘র নাম কোন সন্ত্রাসের সাথে জড়িত না করার আহ্বান জানান তখন স্বাভাবিক ভাবে বলতে হয় ‘ঠাকুর ঘরে কে রে …আমি কলা খাই না?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here