নাগরিকত্ব পেয়ে হারাতে বসছেন এক বাংলাদেশী! আকায়েদ উল্লাহ‘র সন্ত্রাসী হামলার জের!

বর্ণমালা নিউজ: সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তা খুঁজে পেলে সিটিজেন হলেও নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন না, যারা নাগরিকত্ব গ্রহনের সময়ে সে তথ্য লুকিয়ে রেখে নাগরিকত্ব নিয়েছেন। আর এক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসায় যারা এসেছেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশী করে তদন্ত করা হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়া গত সপ্তাহে এক বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশী এক আইনী সহায়তাকারী সাপ্তাহিক বর্ণমালা‘কে জানিয়েছেন, পারিবারিক ভিসায় আমেরিকায় আসা সেই ব্যক্তিটি নাগরিকত্ব নেবার পর পাসপোর্টও করেছেন। কিন্তু গত সপ্তাহে তাকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে চিঠি দিয়ে তার ‘সিটিজেনশীপ’ নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছে। ভীত সন্ত্রস্ত সেই বাংলাদেশীর কাগজপত্র দেখে সেই আইনী সহায়তাকারী বলেছেন এমন ঘটনা কষ্মিনকালেও তিনি শুনেননি।

সেই আইনী সহায়তাকারী বলেন, নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট আকায়েদ উল্ল্যাহর আত্মঘাতি বোমা হামলার ঘটনার পর এমন ঘটনার জন্ম হল। এর অর্থ হচ্ছে পারিবারিক ভিসায় আসাদের নিয়ে নতুন করে তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ। হয়তো তা করতে গিয়ে উল্লেখিত ব্যক্তির বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য এসছে যা তিনি নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় গোপন করেছিলেন।

এদিকে এই ঘটনাকে হালকাবাবে না নিতে পরামর্শ দিয়েছেন ইমিগ্রেশন বিষয়ে অভিজ্ঞজনরা। তারা বলছেন বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যারা বিভন্ন সময়ে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ পরিবারিক ভিসা বা এখানে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিলেও তাদের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষ এখন অধিতর তদন্ত করছে। আর তাই আকায়েদ উল্ল্যাহর আত্মঘাতি বোমা হামলার পরে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক আশ্রয় ডাবার হার শূণ্যের কোটায় নেমে এসছে বলে জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বেশ ক‘জন বাংলাদেশী আইনজীবী ও আইনীসহায়তারী।

নিউইয়র্কের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বাংরাদেশী ইমিগ্র্যান্ট আকায়েদ উল্ল্যাহর আত্মঘাতি বোমা হামলার পর পুলিশ ও এফবিআই ব্রুকলীনের বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারে হানা দিয়ে বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ পাবার মসজিদটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মুসলিম উম্মাহ (মুনা) ও এর নেতৃবৃন্দ বিভিন্নভাবে তাদের সাথে আকায়েদের সম্পৃক্তা ছিলো না বলে প্রমাণ করার চেষ্ঠা করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে আকায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন ও সময় কাটাতেন।

এছাড়া আকায়েদের পরিবারের মহিলা সদস্যরা মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)‘র সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন।
এদিকে নিউইয়র্কে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা (মাদ্রাসা) ও মসজিদের আয়-ব্যয় নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারী শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ঠরা। আকায়েদ উল্ল্যাহ বাংলাদেশে কোন উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না এ তথ্য নিশ্চিত হবার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ও এফবিআই অনুসন্ধানে নেমেছে আকায়েদ কিভাবে আমেরিকায় এসে উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আর সেটা বের করতে গিয়ে গিয়ে নিউইয়র্ক ভিত্তিক বাংলাদেশী মসজিদগুলোর কার্যক্রমে গভীর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here