বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনেই স্বাধীন বাংলাদেশের আলোর পথে যাত্রা শুরুঃ ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ

0
31

ডেনমার্কঃ  ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দোয়া মোনাজাত ও আলোচনা সভার মাধ্যমে   দিবসটি পালন করেছে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।  ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বাবু সুভাষ ঘোষ এর সভাপতিত্বে  ও ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্ছারনায়  আলোচনা সভার প্রধান বক্তা ছিলেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাফায়েতুল হক মিঠু । আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন  ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাঃ হাসনাত রুবেল , সহ- সভাপতিঃ জাহিদ চৌধুরী বাবু, যুগ্ম সম্পাদকঃ  নুরুল ইসলাম টিটু , সফিউল সাফি , সাংগঠনিক সম্পাদকঃ সরদার সাইদুর রহমান, ডেনমার্ক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম রনি সহ ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ , স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও  ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেনঃ ১৯৭২ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি পাকিস্তানের কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি লাভ করে তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে থেকে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার মাধ্যমে সে বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। এই দিন স্বাধীন বাংলার নতুন সূর্যালোকে সূর্যের মতো চির ভাস্বর-উজ্জ্বল মহান নেতা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে আসেন তার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে।যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সদ্য স্বাধীন বাঙালি জাতির কাছে ছিল একটি বড় প্রেরণা। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ তীতিক্ষা, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে বাঙালি জাতি যখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি তখন পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বক্তারা আরো বলেনঃ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভেতর দিয়ে চূর্ণ হয়ে যায় এই উপমহাদেশের যুগ-যুগান্তরের চিন্তার অস্থিরতা ও মানসিক অচলায়তন। তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের মানুষ যেমন ফিরে পায় সামনে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা, তেমনি তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালীর আশা ও আকাক্সক্ষার প্রতীক। একই সঙ্গে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে অন্ধকার শক্তির সর্বনাশের সূচনাও হয় তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভেতর দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নেতৃত্ব গ্রহণের ঘটনাটি ছিল জাতীয় ইতিহাসের আশীর্বাদ। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে মুজিবনগর সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট দূর হয়, মুক্তিবাহিনীর অস্ত্র সংবরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন হয়, যা যুদ্ধ-পরবর্তীকালের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তারই আহ্বানে মাত্র দুই মাসের মাথায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন যাত্রাপথ নির্মিত হয়। একের পর সুচিন্তিত পদক্ষেপে তিনি নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি নির্মাণে স্বচেষ্ট হন, শুরু করেন তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’, যার সফল বাস্তবায়ন ঘটেনি। তারই নেতৃত্বে চীনসহ কিছু রাষ্ট্রের প্রতিরোধ উপেক্ষা করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপ্রাপ্তী ঘটে, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এবং ‘ওআইসি’ বা বিশ্ব ইসলামি জোটের সদস্য হয় বাংলাদেশ।কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা বসে থাকে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হয় ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করা হয়। বলা যায়, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকেই স্বাধীনতার শত্রুরা নতুন রাষ্ট্র ও তার জনককে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। তারই পরিণতি ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেনঃআনু মিয়া, ওমর  হুসাইন খোকন,আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ শোহেব, মোহাম্মদ  পলাশ, তাজবির আহমেদ , মোসাদ্দিকুর রহমান রাসেল, রাজু আহম্মদ, মোহাম্মদ আশরাফ ফরাদ, মশিউর রহমান শাওন , রনি, ওমর,আমির জীবন , ফজলে রাব্বি  , সামসুল আলম, সোহেল আহমেদ, সাফায়েত অন্তর, শামীম খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here