এমপিওভুক্তির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

0
22

ঢাকা: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত করণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। বিষয়টি আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করব এবং পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারব। স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ বা এমপিওভুক্ত নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে। কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী কত, শিক্ষার মান কেমন, শিক্ষকদেরও যোগ্যতা কেমন এবং স্কুলটি জাতীয়করণের যোগ্য কি না তা দেখতে হবে। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতাই সর্বপ্রথম প্রায় ৩৬ হাজার স্কুলকে সরকারিকরণ করেছিলেন। এরপর আবার আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করল তখন আমরা ২৬ হাজার স্কুল সরকারি করে দিয়েছি। তখন কিন্তু একটা কথা ছিল যে আর কোনো স্কুলকে সরকারিকরণের দাবি করা যাবে না, এমপিওভুক্ত করলেই হবে। এরপর অনেক স্কুলকে এমপিওভুক্ত করে দিয়েছি। এরপর দেখলাম আবার শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেক এলাকায়  কোথায় কত স্কুল হবে, কয়টা স্কুল প্রয়োজন- সেগুলো কিন্তু একটা হিসাব করে সেভাবে তৈরি করার নীতিমালা আমরা করে দিয়েছি। সেভাবেই করা হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণি আছে তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে যদি অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল’ বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে, তাদের গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণির মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। জনগণের ভোট পাবে না বলে তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই।

তিনি আরো বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকা-বাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এই শ্রেণির মানুষরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমি সাহস নিয়ে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এজন্যই আমাকে হত্যার জন্য বুলেট-গুলি, গ্রেনেড হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা হয়। তবুও আমি মরি না। আল্লাহ আমাকে কীভাবে যেন বাঁচিয়ে রাখেন। হয়তো দেশের মানুষের জন্য কোনো ভাল করাবেন। আর মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। কী পেলাম আর কী পেলাম না- সেই হিসাব আমি মেলাই না। বরং দেশের জন্য কী করতে পারলাম, দেশের মানুষকে কতটুকু শান্তি, স্বস্তি ও উন্নতি দিতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।

ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন বিশেষণ সম্পর্কে বলেন, কী পেলাম বা কী পেলাম না তার হিসাব আমি করি না। কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, এদেশের প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর কেন দেশের উন্নয়ন হয়নি? একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আমি উচ্চবিত্তদের কথা চিন্তা করি না, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তারা দু’বেলা পেটভরে খেয়ে স্বস্তি, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলছে কি না, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা এবং আমার প্রধান লক্ষ্য।

জাসদ দলীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে ন্যায় বিচার দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও জিয়ারা খুনীদের বিচার বন্ধ করে পুরস্কৃত করে। আত্মস্বীকৃত খুনীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো বিশেষ আইনে অথবা কোনো বিশেষ আদালতে খুনীদের বিচার হয়নি। বিচার প্রক্রিয়া এবং আপিল শুনানি শেষে হত্যাকারীদের সাজা ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এখনও যে সব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বা আশ্রয় গ্রহণ করে আছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দাবির প্রতি সমর্থন রেখে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করার জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ অফিসিয়াল গ্রেজেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সরকারি দলের সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ডুয়েলগেজ রেললাইনসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এলাকার জনগণের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এজন্য যমুনা নদীর ওপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইনের সংস্থানসহ পৃথক রেল সেতু নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদিত হয় এবং ২০১৬ সালের ২৯ জুনে জাইকার সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের জন্য (পরামর্শক নিয়োগ) ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটির বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের জন্য গত বছরের ২ মার্চে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত বছরের ১৫ মার্চ থেকে কাজ শুরু করে। বর্তমানে জিওটেকনিক্যাল ও টপোগ্রাফিক সার্ভেসহ ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। অচিরেই রেল সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here