শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে মরনত্তোর রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করার দাবি

0
38

১৯৯২ সালে যে আন্দোলন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম শুরু করেছিলেন, মূলত সেই আন্দোলনের কারণেই বাঙ্গালী জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে এক হতে পেরেছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের বিচারের দাবীতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের অবদান অবিস্মরণীয়। তাই এই মহীয়সী নারীকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করার দাবী জানান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সংগঠনের নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের নেতৃবৃন্দ।

গত ২০শে জানুয়ারি শনিবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় রয় ড্রাইভিং স্কুলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নুরের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সভার প্রথম পর্বে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের গণহত্যার উপর লেখক, সাংবাদিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যুদ্ধাপরাধ ৭১’ প্রদর্শিত হয়।

নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভার দ্বিতীয় পর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন ‘যুদ্ধাপরাধ ৭১’ -এর মত প্রামাণ্যচিত্র আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় ৭১ সালে কি বর্বর গণহত্যা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছিল। আজ যদিও শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কিন্তু থেমে নেই। আর তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে, বি এন পিও বাংলাদেশকে পাকিস্থানি ধারায় নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আজ যারা মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে তাই নির্মূল কমিটির আর কোন প্রয়োজন নেই, তাদের উদ্দেশ্যে বলি বাংলাদেশে যতদিন জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা না হবে, ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ যতদিন একটি ধর্মনিরপেক্ষ, অসম্প্রদায়িক, জঙ্গিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত না হবে ততদিন বাংলাদেশে নির্মূল কমিটির কার্যক্রম চলবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, এই বছর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর, কারণ আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ না মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল যারা কিনা ৭১ সালে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল সেই বি এন পি সরকার গঠন করবে তার উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা চাই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক, তবে হেফাজতের সাথে আপোষ করে নয়। পাঠ্যপুস্তকে হেফাজতের নখের যে নোংরা আঁচর পরেছে, তার বিষক্রিয়া এখন হয়ত বুঝা যাচ্ছেনা, কিন্তু তার প্রতিদান ২০ বছর পরে হলেও বাঙ্গালী জাতিকে দিতে হবে। তাই সময় থাকতে উচিৎ জামায়াত-হেফাজত থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং দলের ভিতর যেসব জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তাদেরকে এবং দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বিতাড়িত করে, দলকে সুসংগঠিত করা।

সভায় বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য যথাক্রমে চলচ্চিত্রকার কবির আনোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, শীতাংশু গুহ, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডঃ আব্দুল বাতেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিবলি সাদেক, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, একুশে চেতনা মঞ্চের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ মামুন, ইসমাইল হোসেন স্বপন, প্রমুখ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক খসরু, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, নির্মল পাল, শোভন রায় চৌধুরী, খন্দকার রেজাউল করিম, প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here