বোলারদের দাপটে টাইগারদের দুর্দান্ত জয়

0
391

স্পোর্টস ডেস্ক: ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোর করলে বোলারদের ওপর চাপটা এমনিতেই কমে যায়। কিন্তু আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তেমন কিছু হয়নি। বেশ কিছু রেকর্ড হলেও দলীয় পারফর্মেন্স ভালো হয়নি। কম পূঁজি নিয়ে দলকে জেতানোর টার্গেটে মাঠে নামে বোলাররা। শুরুটা করে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। এরপর সাকিব-সানজামুলদের ঘূর্ণিতে মুখ থুবড়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে গ্রায়েম ক্রেমারের দলকে ৯১ রানে উড়িয়ে দিয়ে অপরাজিত থাকল টাইগাররা। ২১৭ রানের টার্গেটে ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ রানেই থামল জিম্বাবুয়ে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২১৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৪ রানেই প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক মাশরাফির বলে সাব্বির রহমানের তালুবন্দি হন অভিজ্ঞ হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (৫)। এরপর সাকিবের জোড়া আঘাতে কার্যত ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে। একই ওভারে পরপর দুই বলে সলোমন মির (৭) এবং ব্রেন্ডন টেইলরের (০) উইকেট তুলে নেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। ক্রেইগ এরভিনকে (১১) সেই সাব্বিরের তালুবন্দি করে দ্বিতীয় শিকার ধরেন মাশরাফি।

সিকান্দার রাজা আর পিটার মুর মিলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমন সময় মঞ্চে আবির্ভাব সানজামুলের। পরপর দুই বলে মুর (১৪) আর ওয়েলারকে (০) ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন তিনি। দুজনই শিকার হন লেগ বিফোর উইকেটের। অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারকে (২৩) এলবিডাব্লিউ করে প্রথম শিকার ধরেন রুবেল হোসেন।

এরপর মঞ্চে আবির্ভাব মুস্তাফিজের। কাটার মাস্টার তার ভেলকি দেখিয়ে ৫৯ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করা সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করে দেন। চেতারাকে (৮) প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন সাকিব। মুস্তাফিজের বলে জার্ভিস (১০) মাহমুদ উল্লাহর তালুবন্দি হলে ৩৬.৩ ওভারে ১২৫ রানেই থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের নেমে জিম্বাবুয়ের বোলিং তোপে ৯ উইকেটে ২১৬ রান তোলে বাংলাদেশ। ধীর শুরুর পর দলীয় ৬ রানেই রানে কাইলি জার্ভিসের বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন এনামুল হক বিজয়। ৭ বলে তার সংগ্রহ ১ রান। তামিম ইকবালের সঙ্গী হন সাকিব। দুজনে মিলে গড়েন ১০৬ রানের চমৎকার এক জুটি। সিকান্দার রাজার বলে ৩৭তম হাফ সেঞ্চুরি করে সাকিব (৫১) আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

সাকিবের বিদায়ের পরই ৭৮ বলেই ক্যারিয়ারের ৪১তম এবং চলতি সিরিজে টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। তার ব্যক্তিগত স্কোর ৬৬ স্পর্শ করতেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডে ৬ হাজার রানের মালিক হয়ে যান তামিম। এর আগেই অবশ্য লঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভেঙে একই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। তামিমের রেকর্ড গড়ার পরের বলেই গ্রায়েম ক্রেমারের শিকার হন মুশফিকুর রহিম (১৮)।

মুশফিকের ভায়রা ভাই মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদও আজ ব্যর্থ। ক্রেমারের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে করেন ৭ বলে ২ রান। রিয়াদের বিদায়ের পরই ক্রেমারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১০৫ বলে ৭৬ রান করা তামিম। তার দশম সেঞ্চুরি আজও হল না। এরপরই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। দাঁড়াতে পারেননি কেউ। সাব্বির রহমান (৬) আর নাসির হোসেন (২) উভয়েই শিকার হয়েছেন জার্ভিসের। ৮ বলে কোনো রান না করেই জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের শিকার হন টাইগার ক্যাপ্টেন মাশরাফি।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর দলের স্কোর ২০০ পার করান টেইল এন্ডাররা। ২৪ বলে ৩ চারে ১৯ করেন সানজামুল। জার্ভিসকে বিশাল এক ছক্কা মেরে ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত রইলেন রুবেল। মুস্তাফিজ আজ হঠাৎ ব্যাটসম্যান রূপে দেখা দেন। তার ২২ বলে অপরাজিত ১৮ রানের ইনিংসে ছিল ২টি বাউন্ডারির মার। ৫০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৬ রান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here