আটলান্টায় ২৭-২৯ জুলাই ওয়ার্লড কংগ্রেস সেন্টারে ফোবানা সম্মেলন

0
399

উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফরম ফোবানা সম্মেলনের ৩২তম আসর বসছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর আটলান্টায়। আর এটির আয়োজক সংগঠন হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশি আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া।

গত ২১ জানুয়ারি রোববার গুইনেট কাউন্টির পুনা রেস্টুরেন্টে আয়োজক সংগঠনের উদযোগে সর্বস্তরের প্রবাসীদের এক স্বতঃস্ফূর্ত অনুষ্ঠানে সম্মেলনের আহবায়ক জসিম উদ্দিন তার স্বাগত ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের মূল ভেন্যু হিসেবে জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টারের নাম ঘোষণা করেন।

শুভেচ্ছা ভাষণ দিচ্ছেন ফোবানার নির্বাহী কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান। বামে নির্বাহী সচিব শাহ্‌ হালিম, ডানে আহবায়ক জসিম উদ্দিন ও সর্ব ডানে সদস্য সচিব নাহিদুল খান।

আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জুলাই শুক্র, শনি ও রোববার তিন দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনে আগত অতিথিদের জন্যে বিশেষ ছাড় মুল্যে সিএনএন জর্জিয়ার ওমনি হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে স্বাগতিক ভাষণে উল্লেখ করেন জসিম।

ঐদিন দুপুর ২টায় প্রাণোচ্ছল পরিবেশে সম্মেলন প্রস্তুতির প্রথম সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি এ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকার (ফোবানা) কার্যনির্বাহীকমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন ঐ কমিটির নির্বাহী সচিব শাহ্‌ হালিম।

বক্তব্য দিচ্ছেন আয়োজক সভাপতি ডিউক খান

উল্লেখ্য,  ফ্লোরিডায় বসবাসকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চেয়ারম্যান আতিক এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক সফরের অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে হিউস্টন বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি ও নির্বাহী সচিব শাহ্‌ হালিম তার আবাসস্থল টেক্সাসের হিউস্টন থেকে সরাসরি আটলান্টায় আসেন।

আটলান্টার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, কবি, নাট্যকর্মী, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে সর্বজনীন এই সম্মিলনী অনুষ্ঠানে আহবায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা আরও তিনটা সম্মেলন এই শহরে করেছি, তার মধ্যে ২০০৬ ও ২০১৩ সালের সম্মেলনে আহবায়কের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলাম। কাজেই অতীতের সেইসব অভিজ্ঞতা ও ভুল ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আসুন, আমরা সবাই মিলে এক যোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের গর্বের এই শহরে আগের চাইতে আরও ভালো ও গুনগত মানের সেরা সম্মেলন উপহার দেই উত্তর আমেরিকার প্রবাসীদের জন্যে”।

এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আমেরিকার মূলধারার সাথে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও বাংলাদেশের সাথে বর্তমান অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক তৎপরতার নানা যোগসূত্রের সমন্বয় সাধন হবে বলে উল্লেখ করেন জসিম।

তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার মূলধারা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এমনকি ভারতীয় কমিউনিটিও আন্তর্জাতিক মানের এই ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টারে নানা অনুষ্ঠান সম্মেলন করে থাকে। আর আমরা বাংলাদেশিরা সামর্থ্যের অভাবে এতদিন সেই সুযোগটি পাইনি। তবে এবার এই প্রথমবারের মত আমরা বৃহৎ পরিসরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগটি পেয়েছি, আসুন, তার সদ্ব্যবহার করে আমরা নতুন ইতিহাস রচনা করি”।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক।

জসিম তার দীর্ঘ ভাষণে এবারের সম্মেলনের সম্ভাব্য উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তিগুলির মধ্যে ফোবানা কর্তৃক বরাদ্দকৃত ছাত্রদের বৃত্তি প্রদানের হার বৃদ্ধি করা, নতুন প্রজন্মকে আগের চাইতে বেশি পরিমানে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, মুক্ত আলোচনা ও একাডেমিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করানো, মূলধারার রাজনিতিবিদ ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, কমিউনিটির সংগঠক, ব্যবসায়ী এবং সেইসাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদযোগ গ্রহণ, সফল গবেষক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকতা, লেখালখি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন শাখায় সফল ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মাননা ও মূল্যায়ন করার মতো বেশ কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের ফোবানা সম্মেলনের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ জামান ঝন্টূ ।

প্রধান অতিথি আতিকুর রহমান আটলান্টার বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে এবারের সম্মেলনে নতুন আঙ্গিকের বৈচিত্র্যসহ গঠনমূলক সাফল্যের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ফোবানা এখন আর তিন দিনের সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা বছরের প্রতিটি দিনেই প্রবাসীদের উনয়নে নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি এবং কাজ করে যাচ্ছি”।

আতিকুর রহমান আরও বলেন, ফোবানা এখন আর দ্বিধাবিভক্ত নয়, একটি শক্তিশালী ঐক্যবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সরকার ও দেশের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা, প্রতিষ্ঠানগুলি উত্তর আমেরিকার প্রবাসীদের কোন তথ্য বা খোঁজ খবর জানতে চাইলে আজকের দিনে ফোবানার সাথেই যোগাযোগ করছে। আজ সুখের কথা যে, জর্জিয়ার রাজ্যের অনেকগুলো সংগঠন যেমন, বাংলাধারা, সেবা লাইব্রেরী, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়া, জর্জিয়া সোশ্যাল এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিক, শিল্পী, লেখক, সংস্কৃতি কর্মী, রাজনিতিবিদ সবাই আজ ফোবানা সম্মেলনের সাথে একাত্ম হয়েছেন। কাজেই আটলান্টার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সেরা সম্মেলন আমরা দেখতে চাই”। 

ফোবানার চেয়ারম্যান পরে আটলান্টার সংগঠক ফোবানা কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সম্মেলনের যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ আহমেদকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তার সাংগঠনিক কাজের প্রশংসা করেন।

বিশেষ অতিথি শাহ্‌ হালিম তার বক্তৃতায় ফোবানার প্রতিটি সম্মেলনে বাঙালির শেকড় থেকে দূরে থাকা নতুন প্রজন্মকে সরাসরি সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে তাদেরকে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডিউক হাসান খান, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার সভাপতি ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি ও ১৯৯৯ সালে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনের যুগ্ম-আহবায়ক মোহাম্মদ জামান ঝন্টু, ফোবানার দলীয় সংগীতের রচয়িতা ও সুরকার রোমেল হোসেন খান, ফোবানার মার্কেটিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার সোহেল আহমেদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক গাইডেন হকিন্স প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সম্মেলনের সদস্য সচিব নাহিদুল খান সাহেল ও সম্মেলনের অনুষ্ঠান পরিচালক গোলাম মহিউদ্দিন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিভিন্ন শহরে ফোবানা সম্মেলন সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডে উইক এন্ডে আয়োজন করা হয়ে থাকলেও এবার ছাত্রছাত্রীদের গ্রীষ্মকালীন লম্বা ছুটির সময়কাল জুলাই মাসকে বেছে নেয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে উদযাপনের লক্ষে।

স্মরণ করা যেতে পারে, ১৯৯৯ সালে প্রথম আটলান্টায় ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে। এরপর একই সংগঠনের আয়োজনে ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এই শহরে। ২০১৩ সালে তৃতীয় বারের সম্মেলনটির দায়িত্ব পায় বাংলাদেশি আমেরিকান এ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া। আর এবার চতুর্থ বারের সম্মেলনটি ন্যস্ত হয় একই সংগঠনের উপর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here