শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজ আজ মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

0
43

ঢাকা: কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১২ শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় তাঁর কার্যালয় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারান্সের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করবেন বলে তার অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি এখানে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে। বন্দরটি নির্মাণ করা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা খালাসের জন্য। এটি বহুমুখি কাজে ব্যবহারের চিন্তা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজও শুরু হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে সরকার বিদ্যুতের একটি হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে কয়লা থেকে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। আমদানিকৃত তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকেও সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এ ছাড়া সেখানে সাগরে ভাসমান জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করে তা পাইপ লাইনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হবে। ইতিমধ্যে এ জন্য ৯০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মাণের কাজ শেষ করেছে গ্যাস সঞ্চালন কর্তৃপক্ষ জিটিসিএল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রথম দফায় প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করার ঘোষণা করেছে সরকার।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের আগস্টে মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকা এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে। বাকি টাকা দিবে সরকার।

জানা গেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ঢালঘাটা ইউনিয়নের ১৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে ১৭ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পে বর্তমানে ৪০০ শ্রমিক কাজ করছেন। পর্যায়ক্রমে আরো ২ হাজার শ্রমিক এ প্রকল্পে যোগ দিবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে গত বছরের জুলাইয়ে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে কোল পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি বাংলাদেশ (সিপিজিসিবিএল)। জাপানি কনসোর্টিয়ামের অন্যতম কম্পানি তোশিবা করপোরেশন। ২০২৪ সালে এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর মহেশখালীর সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের প্রকল্প নিলেও এটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। গভীর মহেশখালির মাতারবাড়ীতে সমুদ্র বন্দরটি ৫৯ ফুট গভীর হবে। এ বন্দরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এ বন্দরকে কি কি কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করছে জাইকা।

সম্প্রতি মাতারবাড়ী প্রকল্প পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য বন্দরটিই পরবর্তীতে গভীর সমুদ্র বন্দরে রূপান্তরিত করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here