বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন দাবির আন্দোলনে প্রবাসীদের একাত্মতা

0
66

নিউইয়র্ক থেকে : গত বুধবার ফ্লোরিডার মারজোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাই স্কুলে ( Marjory Stoneman Douglas High School)নির্বিচার গুলিবর্ষণে হতাহতদের স্মরণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিরবতা পালন এবং অবিলম্বে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জানান।

গত শনিবার অপরাহ্নে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট পামবীচস্থ ‘ফ্লেবার অব ইন্ডিয়া’ রেস্টুরেন্টে ফ্লোরিডা মেট্রপলিটন আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান থেকে ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন’ দাবিতে সারা আমেরিকায় হাই স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলনের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তার প্রতিও দ্ব্যর্থহীন সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। মার্চের ২৪ তারিখ সারা আমেরিকার ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করবে ১৭ মিনিটের জন্যে। নিহত ১৭ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচির সাথে অভিভাবক, সরকারী-বেসরকারি সর্বস্তরের আমেরিকানের সমর্থন কামনা করা হয়েছে।
এরপর ২০ এপ্রিল সকল হাই স্কুলে দিনব্যাপী ক্লাস বর্জন করে এ আন্দোলনের সাথে সকলকে একাকার করার চেষ্টা চালানো হবে।

চলতি সপ্তাহে ফ্লোরিডার স্কুল ছাত্ররা যাচ্ছে টালাহাসি পার্লামেন্টের সমর্থন কামনায়। আরেকদল ১৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় ১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ‘লাশ হয়ে’ মাঠে শুয়ে পড়েন নিহত ১৭ জনের প্রতি সম্মান জানিয়ে।

মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাটদের এ নিয়ে কালক্ষেপণের অবকাশ নেই বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া হাই স্কুলছাত্র জুনিয়র ক্যামেরন ক্যাস্কি (junior Cameron Kasky)অভিযোগ করেছেন যে, ‘ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন’ তথা এনআরএ-র কাছ থেকে মোটা অর্থ চাঁদা পাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এ কারণে তারা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের গণদাবি উপেক্ষা করছেন’ ক্যামেরন সর্বস্তরের আমেরিকানের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মিডিয়ায় ক্ষোভের সাথে বলেছেন, ‘এখন সময় হচ্ছে পক্ষ বেছে নেয়ার। হয় আমাদের আন্দোলনের সাথে, নয়তো বিপক্ষে থাকতে হবে। কারণ আমরা নির্বিচার হত্যার শিকার হচ্ছি। আপনাদের রাজনৈতিক স্বার্থের বলি হচ্ছি’(You’re either with us or against us. We are losing our lives while the adults are playing around)।

ফ্লোরিডা মেট্রপলিটন আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান এবং ফোবানার চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ‘স্কুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে যাবে।’

স্কুল ছাত্রদের আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে প্রত্যেক বাংলাদেশিকে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আতিক। ‘রিপাবলিকানরা মোটা অংকের চাঁদা নেয় এনআরএ (ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন) এর কাছে। এজন্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের ব্যাপারে তাদের ন্যূনতম আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না’-অভিযোগ করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই সংগঠক।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক কামালউদ্দিন ভূইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান জাহাঙ্গির, ভোলা জেলার লালমোহন পৌর মেয়র ইমদাদুল ইসলাম তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খসরু এবং আব্দুর রহিম বুলবুল এবং ফ্লোরিডা মেট্রপলিটন আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব বিন্তু খান।

অনুষ্ঠানে হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও উপস্থিত অভিভাবকদের ‘অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন’ তৈরির আন্দোলনে সোচ্চার হবার আহ্বান জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here