ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুরোধের গবেষণা টিমে বাংলাদেশি সৌখিন

0
56

নিউইয়র্ক:প্রাথমিক স্তরেই ব্রেস্ট ক্যান্সার স্থায়ী নির্মূল এবং এর বিস্তৃতি রোধে করা একটি গবেষণার রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নালে। ‘এ্যাসপ্যারাজিন বায়োএভেইলিবিলিটি গভার্নস মেটাস্ট্যাটিস ইন এ্যা মডেল অব ব্রেস্ট ক্যান্সার’ নামের গবেষণাটি এক বছরের বেশ সময় ধরে পরিচালনা করেন ২১ সদস্যের গবেষক-টিম। এতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার ২১ তরুণ চিকিৎসা-বিজ্ঞানী। এর মধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকান সৌখিন খানও রয়েছেন।

মানবতার কল্যাণে অপরিসীম ভূমিকা রাখতে সক্ষম এই গবেষণার ফেলোশিপ প্রদান করে ‘দ্য হোপ ফান্ড ফর রিসার্চ’। ক্যান্সার সেন্টার সাপোর্ট গ্র্যান্ট (৫পি৩০সিএ০৪৫৫০৮) এর সার্বিক সহায়তায় ছিল যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার রিসার্চ, ক্যামব্রিজ ইন্সটিটিউট প্রটিউমিক্স কোর ফ্যাসিলিটি। এই গবেষণা কর্মকে অব্যাহত রাখতে স্থায়ী ফেলোশিপ প্রদান করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার হিউম্যান ফ্রন্টিয়ার সাইয়েন্স প্রোগ্রাম।

নিউইয়র্কে বসবাসরত জামালপুরের মাদারগঞ্জের সন্তান শাহীন খান ও নাসরীন শিল্পীর জ্যেষ্ঠ পুত্র সৌখিন খান। বর্তমানে নিউইয়র্কে হাওয়ার্ড হাজেস মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটে ওয়াটসন স্কুল অব বায়োলজিক্যাল সাইয়েন্সেসের ছাত্র তিনি।

                                                    সপরিবারে সৌখিন

সৌখিন খান বলেন, চেষ্টা করেছি খাদ্যাভাসে ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিস্তার কীভাবে ঘটে এবং বংশানুক্রমে অথবা অন্য কোনভাবে ক্যান্সারে আক্রান্তদের মৃত্যু কীভাবে ঠেকানো যায় তার খুঁজে বের করা। ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সারা দুনিয়াতেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। এ্যাসপ্যারাজিনের প্রভাব বেশি থাকলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের জীবানু সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায়। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার রোগীকে বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ এ্যাসপ্যারাজিন বেশি থাকার অর্থই হলো মেটাস্ট্যাটিসের আশঙ্কা প্রবল হওয়া।

সৌখিন খান উল্লেখ করেন, জীনের মাধ্যমে এ্যাসপ্যারাজিনের প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে, কারণ প্রত্যেকটা জীন জৈব রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার বাহন হিসেবে কাজ করে থাকে। অনেক রোগী কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নেই।

গবেষণা টিম কেবল এ্যাসপ্যারাজিন এবং মেটাস্ট্যাটিস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছে। আর এই গবেষণা কর্মকে সঠিকভাবে নিরূপণের অভিপ্রায়ে ইঁদুরের ওপর নির্ভর করেছেন তারা। কোন একটা মেটাবলিক পন্থার মাধ্যমে জীন থেকে এ্যাসপ্যারাজিনের প্রকাশকে রুদ্ধ করা যায়, এবং যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এ্যাসপ্যারাজিন আর তৈরি হচ্ছে না, তাহলেই ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে এ নিয়ে আরও বেশি বেশি গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। এই গবেষণা টিম হয়তো দ্বিতীয় ধাপে সে পরিকল্পনায় এগুবেন বলে সকলের ধারণা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here