‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি‘ থেকে উন্নয়নের উপতক্যায় বাংলাদেশ

শুক্রবার সন্ধায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে লিস ডেভেলাপমেন্ট কান্ট্রি (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের বেড়িয়ে আসা সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রটি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেন সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস।

মাহফুজুর রমান : ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি‘ এখন উপচে পড়া উন্নয়নের উপতক্যায় পরিণত হবার পথে-স¦াধীনতার রজতজয়ন্তী পালনের আগেই ‘বাংলাদেশ‘ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করলো স্বাধীনতার আগুনঝরা মাস মার্চেই। শুক্রবার সন্ধায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে লিস ডেভেলাপমেন্ট কান্ট্রি (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের বেড়িয়ে আসা সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রটি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করেন সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস। এর আগে গত ১৫ মার্চ সিপিডি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি দেয়।এই ঘোষনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে যে অর্থনৈতিক-সামাজিক ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে তার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
সেই কথাই বলেন সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের কাঙ্খিত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ সামাজিক খাতগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন এই উত্তরণের ক্ষেত্রে তার কমিটির বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ-এর স্তরে উঠে আসার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন।

তার আগে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই যা আ

আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল উটইকামানু

মাদের দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্খা। আজ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৮ শতাংশ। আমরা এসডিজি’র সাথে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে একীভূত করেছি। এসডিজি বাস্তবায়নেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের এলডিসি থেকে উত্তরণ এসকল দর্শনের সাথে একই সূত্রে গাঁথা”।
রাষ্ট্রদূত মোমেন আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ – যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস’ । সেই দূর্গম পথ পাড়ি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্ন

ইউএনডিপি‘র হিউম্যান ডেভেলাপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের ডিরেক্টর বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সেলিম জাহান

য়ন কৌশল গ্রহণের ফলে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে আমাদেরকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে‘।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাফল্যগাঁথা নিয়ে আরও বলেন সিপিডি এক্সপার্ট গ্রুপের চেয়ার প্রফেসর হোসে অ্যান্তোনিও ওকাম্পো। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের উজ্জল ইতিহ সের কথা তার জানা আছে বলেস রয়েছে বলে, বাংলাদেশের গতিশীল রপ্তানী খাত, মানবিক সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যাপক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘের এলডিসি, এলএলডিসি ও সিডস্্ সংক্রান্ত কার্যালয়ের উচ্চতম প্রতিনিধি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল উটইকামানু বলেন, “ দ্রারিদ্র্য হ্রাস ও উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ১৪% এর নীচে নেমে এসেছে অতি দারিদ্র্য সীমা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বছর ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। রূপকল্প ২০২১ নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন 

অগ্রাধিকারসমূহকে পরিচালিত করে যাচ্ছে”।

ইউএনডিপি‘র হিউম্যান ডেভেলাপমেন্ট রিপোর্ট অফিসের ডিরেক্টর বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত সেলিম জাহান বলেন, এদিন বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। মাথাপিছু আয়ে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে কিছুটা পিছয়ে থাকলে সামাজিক উন্নয়ন ও মানব সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ শুধু এদুটি দেশে

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বেলজিয়ামের স্থায়ী প্রতিনিধি মার্ক পিস্টিন, তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি সিনিরলিওলু, ইউএনডিপির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক ও জাসিংঘের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হাওলিয়াং ঝু। সকল বক্তাই এই অর্জনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং এই অর্জনের পেছনে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। বক্তারা এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে সদ্য উর্ত্তীণ দেশগুলোকে তাদের টেকসই উত্তরণ টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও চিত্রে উঠে আসে জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কীভাবে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপনের মতো সফলতা দেখাতে যাচ্ছে। উঠে আসে জাতির পিতা কীভাবে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য একতাবদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে কীভাবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হতে যাচ্ছে- সে সকল উন্নয়ন পরিক্রমা। একে একে তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানীমূখী শিল্পায়ন, ১০০ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, রপ্তানী আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচক। তুলে ধরা হয় পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ। এতে প্রদর্শন করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহ্বান, “আসুন দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here