কফিনে শুয়ে স্বজনের কোলে নর্থসাউথের তিনজন

0
24

ঢাকা: সুন্দর করে সাজানো রাশি রাশি ফুল। কোনো কোনো ফুল পাশ থেকে আলতো করে ছুঁয়ে রেখেছে একেকটি কফিন। ওপরে কাগজে সাঁটানো হয়েছে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, বক্সের নম্বর। সেখানে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন তিন শিক্ষার্থী পৃথুলা রশীদ, মিনহাজ বিন নাসির ও খাজা হোসেন মোহাম্মদ শফির কফিনও ছিলো।

স্বজনরা কফিন খুঁজে বের করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কেউ কেউ পরম মমতায় কফিনে হাত বোলায়। স্বজনরা একে অন্যকে জড়িয়েও কাঁদে। বুকফাটা কান্নার এই ঢেউ কয়েক ঘণ্টা পর ভাসায় ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামও।

গত সোমবার বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে মরদেহগুলো নেপাল থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে জানাজার জন্য আনা হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। দুপুর ২টার পর থেকেই স্টেডিয়ামে জানাজায় অংশ নিতে অনেকে হাজির হয়। বিকেল পৌনে ৩টা থেকে নিহতদের শোকার্ত স্বজনরা আসতে শুরু করে।

তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান নিহত কেবিন ক্রু খাজা হোসেন শাফির মা দারাক শাহ সাইফুল্লাহ, শাশুড়ি শাম্মী ফেরদৌসী রহমানসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনরা এসেছিল। তারা জানায়, সাফির স্ত্রী সাদিয়া রহমানও একজন কেবিন ক্রু। তিনি দোহা ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময় খবর পান তাঁর স্বামী যে বিমানে নেপালে গিয়েছিলেন সেটি দুর্ঘটনাকবলিত। এ কারণে তিনি দোহা ফ্লাইটে আর দায়িত্ব পালন করতে যাননি। এক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল।

বিকেল পৌনে ৩টায় আর্মি স্টেডিয়ামে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে প্রথমে আসেন নিহত কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের মা রাফেজা খাতুন, বাবা আনিসুর রশীদ, খালা, খালাতো বোনসহ আটজন। পৃথুলার মা জানান, মেয়ের সঙ্গে গত ১২ মার্চ সকালে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘ফি আমানিল্লাহ।’

মিনহাজ বিন নাসিরের মরদেহ নিতে এসেছিলেন তাঁর বড় ভাই মিরাজ বিন নাসির। তিনি বলেন, ‘লাশ আগে বাসায় মায়ের কাছে নিয়ে যাব। তারপর দাফনের ব্যবস্থা হবে।’ মিনহাজ বিন নাসিরের স্ত্রী আঁখি মনিও ওই দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁদের বিয়ে হয় গত ৩ মার্চ। আঁখি মনির মা হাসনা বেগম জানান, বিয়ের আগে সব মার্কেটিং নিজেই করেছিলেন মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে নেপালে হানিমুনে গিয়েছিলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here