নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ইমাম আকুঞ্জি ও তারা মিয়া হত্যা মামলা আসামী অস্কার মুরেলের সর্বোচ্চ শান্তি

আদালতে শুনানীর সময়ে আসামী অস্কার মুরেল

বর্ণমালা নিউজ, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমাম মওলানা আকুঞ্জি ও তার সহযোগী তারা মিয়াকে প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি করে হত্যা মামলার রায়ে আসামী অস্কার মোরেলকে (৩৭) সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্ট। ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে ১২ সদস্যের জুরিবোর্ড ও বিচারক তাদের রায় দেয়। আদালত আসামীকে

নিহত ইমাম মওলানা আকুঞ্জি

দোষী সাব্যস্ত করলেও আগামী ১৮ এপ্রিল আসামীর শাস্তি কি হবে তা ঘোষনার জন্য তারিখ ধার্য করেন। রায়ে আসামী মুরাল খুনী প্রমাণিত

নিহত তারা মিয়া

হওয়ায় তাকে ফাস্ট, সেকেন্ড, থার্ড ও ফোর্থ ডিগ্রি মার্ডারার হিসাবে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সাধরনত: এমন রায়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ডই হয়ে থাকে এবং অস্কার মোরেলের ভাগ্যে তাই রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিরা।

২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সংগঠিত ইমাম আকুঞ্জি ও তারা মিয়া হত্যাকান্ডটিকে নিউইয়র্কের মুসলিম কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম হিসাবে চিহ্নিত করলেও আদালত তা নাকচ করে বলেছে এক্ষেত্রে খুনির উদ্দেশ্য পরিষ্কার না। কিন্তু বহুল আলোচিত তিন সপ্তাহব্যাপী ট্রায়াল শেষে জুরীরা একে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

রায় ঘোষনার পর কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এর্টনী রিচার্ড এ, ব্রাউন বলেন, এই হত্যাকান্ডটি দিনে দুপুরে আবাসিক এলাকায় পরিবার ও শিশুদের সামনে সংগঠিত একটি কান্ডজ্ঞানহীন গান ভায়েলেন্সের বহির্প্রকাশ ছিল। এক বিবৃতিতে রিচার্ড ব্রাউন বলেন, এই রায় হত্যাকান্ডের শিকার দুটি পরিবার ও তার বন্ধু ও কমিউনিটিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিবে।

২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট নিউইয়র্কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ওজন পার্কে দুর্বৃত্ত অস্কার মোরেলের গুলিত নিহত হন নিউইয়র্কের ওজনপার্কের ওজোনপার্কের আলফোরকান মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি (৫৫) ও তার সহযোগী মুসল্লী তারা মিয়া। স্থানীয় লিবার্টি এভিনিউ’র ৮০ স্ট্রিটে এই হত্যাকান্ড ঘটে। নিউইর্য়কের অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা ওজন পার্ক। প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশীর বাস এই এলাকায়। এখানেই বাস করতেন আল ফোরকান মসজিদের নিহত ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি এবং বৃদ্ধ তাঁরা মিয়া। তাঁরা মিঞা, ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজির প্রতিবেশী ছিলেন এবং প্রতিদিন তারা দু’জনে একসঙ্গে মসজিদে যেতেন এবং নামাজ পড়তেন। ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকুনজির বাড়ী বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে আর মসুল্লী মরহুম মুহাম্মদ তারা মিয়ার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গাহাটা গ্রামে। চার বছর ধরে ইমাম আকুনজি আল ফোরকান মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমেরিকার ইতিহাসে কোন মুসলিম ইমাম হত্যার ঘটনা এটিই প্রথম।

ঘটনার দিন দুপুরে জোহরের নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পথে ফুটপাত দিয়ে হাটছিলেন দুজন। এ সময়ে খুনি মোরেল পিছন তেকে এসে দুজনকে তাদের মাতার পেছনে গুলি করলে তারা লুটিয়ে পরেন মাটিতে। তৎক্ষণাত তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসরা জানান ইমাম আকুঞ্চি ঘনটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে হাসপাতালে তার মিয়ার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পালিয়ে যাবার সময় গাড়ী একসিডেন্ট করে পুলিশের হাতে ধরা পরে খুনি অস্কার মুরাল। পরে পুলিশ তার ব্রুকলীনের বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩৮ রিভলবারটি উদ্ধার করে।
মামলা চলাকালে অস্কারের আইনজীবী দাবী করেছিলেন পুলিশ অস্ত্রটি তার বাসায় রেখে তাকে দোষী সাব্রস্ত করতে চেয়েছে। কিন্তু বিচারক তার এই বক্তব্য আমলে না নিতে বলেন জুরীদের। এই হত্যাকান্ডের পর থেকেই হত্যাকারীর দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবীতে বাংলাদেশী কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ সোচ্চার ছিলেন।

এদিকে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অত্যন্ত আলোচিত ঐ জোড়া খুনের ঘটনা ব্যাপক সারা ফেলে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের পরিবারের পাশে ছিল বাংলাদেশী কমিউনিটি। প্রতিটি শুনানীর দিন আদালতে তাদের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি ছিল।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রচারণা চলার সময়ে দু‘বছর আগে সংগঠিত এই জোড়া হত্যাকান্ডটি নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম কমিউনিটিতে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিরা। সে সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারনা শিবির থেকে মুসলিম বিদ্বেষী বিভিন্ন কথাবার্তায় সারা আমেরিকা জুড়ে মুসলমানরা কোনঠাসা হযে পরেছিলেন, আর ঠিক সে সময়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমাম আকুঞ্জি ও তার সহযোগী তারা মিয়া খুন হন। অবশ্য গ্রেপ্তার হবার পর জেলখানায় দেয়া এক সাক্ষাতকারে ডেইলি নিউজকে অস্কার মোরেল বলেছিলেন, তিনি সব ধর্মকে সবার শ্রদ্ধা করেন।

সিটির মুসলিম কমিউনিটির উপর এই আক্রমণকে তীব্র ভাষায শুধু নিন্দা করেননি সে সমযে মেযর বিল ডি ব্লাজিও, পরের দিন ওজন পার্কে ইমাম আকুঞ্জি ও তারা মিয়ার নামাজে জানাজায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আশ্বস্ত করেন মেয়র ব্লাজিও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here