ড. নীনাকে সমর্থন দিলেন ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা

0
75

নিউইয়র্ক থেকে : নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, নিউইয়র্ক, মিশিগান এবং নিউ হ্যামশায়ার অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সিটি ও রাজ্য পার্লামেন্টের নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশিদের ‘কমিউনিটি হিরো’ হিসেবে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হলো বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে। গত শনিবার দুপুরে সর্বস্তরের প্রবাসীদের সরব উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান হয় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে বেলজিনো পার্টি হলে। পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের লে. গভর্নর প্রার্থী ড. নীনা আহমেদকেও ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের পর সিটি কাউন্সিলম্যানরা এক যোগে তার নির্বাচনে সহযোগিতার সংকল্প ব্যক্ত করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের জন্য আমেরিকায় এই প্রথম ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তণ ও সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের উচ্ছ্বল উপস্থিতিতে বিতরণ করা হলো উত্তর আমেরিকা সংস্করণ ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এবং ‘আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন’র সৌজন্যে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের উত্তর আমেরিকা সংস্করণের নির্বাহী সম্পাদক লাবলু আনসার নিজে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট ড. নীনা আহমেদকে প্রদানের আগে অপর জনপ্রতিনিধিগণের মাঝে বিশিষ্ট প্রবাসীরা তা হস্তান্তর করেন। অ্যাওয়ার্ড প্রদানের পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন লাবলু আনসার।

                                                 ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড হাতে ড. নীনা আহমেদ।

ড. নূরন্নবী
নিউজার্সির প্লেইন্সবরো সিটির কমিটিম্যান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা-লেখক-বিজ্ঞানী ড. নূরন্নবীকে বিপুল করতালির মধ্যে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ড. নূরন্নবী নির্বাচিত হয়ে আসছেন টানা ১০ বছর যাবৎ। সামনের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের সাথেও তার সুসম্পর্ক থাকায় বিজয় ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই নেতার।

টাঙ্গাইলের সন্তান ড. নূরন্নবী মূলধারার পাশাপাশি বাংলাদেশ, বাঙালি সংস্কৃতি নিয়েও সরব রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্য নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অতি সম্প্রতি ড. নবীকে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

 কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবীকে ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

শেখ সিদ্দিক
মানিকগঞ্জের সন্তান শেখ মোহাম্মদ সিদ্দিক পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া সিটি সংলগ্ন আপার ডারবি সিটির কাউন্সিলম্যান। তাকে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন পিপলএনটেক ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিফ। শেখ সিদ্দিক নির্বাচিত হয়েছেন ২০১৫ সালে। সেই দায়িত্বে এখনও রয়েছেন। উল্লেখ্য, এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় টাউনশিপ। ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই নেতা একইসাথে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিলাডেলফিয়ার সাথেও জড়িত রয়েছেন ঘনিষ্ঠভাবে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের এগিয়ে নিতে ডেমক্র্যাটিক পার্টিতেও দেন-দরবার অব্যাহত রেখেছেন।

                                   কাউন্সিলম্যান শেখ সিদ্দিককে ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছেন ফারহানা হানিফ।

 

নূরল হাসান
চট্টগ্রামের সন্তান নূরল হাসান কাউন্সিলম্যান হিসেবে নির্বাচিত হবার পর পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিলবোর্ণ বরোর সকল কাউন্সিলম্যানের মধ্যকার নির্বাচনে তিনি বরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা নূরল হকের পুত্র একইসাথে পিপল এন টেকের প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই সংগঠককে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রখাত রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন।

                         কাউন্সিলম্যান নূরুল হাসানকে ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছেন আনোয়ার হোসেন।

মনসুর আলী
পাবনার সন্তান মনসুর আলী মিলবোর্ন সিটির কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসায়ী হলেও কম্যুনিটির সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বাংলাদেশি সংস্কৃতির জয়গানে উজ্জীবিত মনসুর আলী তার সহকর্মীর সাথে জোট বেঁধে মিলবোর্ন বরোতে বাঙালিদের বিশেষ একটি স্থানে অধিষ্ঠিত করতে আগ্রহী। তাকে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম।

 

শেরশাহ মিজান
নোয়াখালির কবিরহাটের সন্তান শেরশাহ মিজান অত্যন্ত কর্মঠ কাউন্সিলম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আপস্টেট নিউইয়র্কের হাডসন সিটিতে। সর্বস্তরের মানুষের সাথে চমৎকার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সামনে এই সিটির নেতৃত্ব নিতে আগ্রহী এই ডেমক্র্যাট শেরশাহ। কারণ, গত নির্বাচনে তিনি তার এলাকা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রবীন সমাজকর্মী ড. দেলওয়ার হোসেন।

              কাউন্সিলম্যান শেরশাহ মিজানকে ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছেন ড. দেলওয়ার হোসেন।

দেওয়ান বজলু চৌধুরী
হেলিডন সিটির ম্যানচেস্টার ইউটিলিটিস অথরিটির কমিশনার দেওয়ান বজলু চৌধুরী ধীরে ধীরে এগুচ্ছেন মূলধারায়। কম্যুনিটিকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথে সম্পৃক্ত করতে এক দশকেরও অধিক সময় যাবৎ সক্রিয় দেওয়ান বজলু প্যাটারসনে প্রবাসীদের উত্থানেও কাজ করছেন। তাকে ‘কমিউনিটি হিরো’ ক্রেস্ট প্রদান করেন মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়নের লিডার মাফ মিসবাহউদ্দিন।

              কমিশনার দেওয়ান বজলু চৌধুরীকে ‘কমিউনিটি হিরো’ অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছেন মাফ মিসবাহ উদ্দিন।

আবু আহমেদ মূসা
সিলেটের সন্তান আবু আহমেদ মূসা ২০১৩ সাল থেকেই ডেমক্র্যাটিক পার্টির নমিনেশনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমিক সিটির কাউন্সিলম্যান হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। একইসাথে তিনি মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে নানা কাজে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১ সাল থেকেই অত্যন্ত সুনামের সাথে আবু মূসা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে ব্যর্থ হওয়ায় তার ক্রেস্ট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে মিশিগানে।

ক্রেস্ট হাতে নিয়ে সকলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ড. নীনার বিজয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের পক্ষ থেকে কাউন্সিলম্যান-বিজ্ঞানী নূরন্নবী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে মূলধারায় নিজেদের জায়গা করার বিকল্প নেই। এজন্যে যে বা যিনিই মার্কিন প্রশাসনের নির্বাচনে অংশ নেবেন, তার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আন্তরিকতার সাথে আমরা যদি নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দেয়ার পথে সোচ্চার থাকি, তাহলে কেউ আমাদের  ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

ক্রেস্ট হাতে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান-আমেরিকান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা বলেন, ‘আমেরিকায় বাংলাদেশিদের সংখ্যা অনেক। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।’

নিউজার্সির প্যাটারসন, হেলিডন, মিশিগানের হ্যামট্রমিক, নিউইয়র্কের হাডসন সিটি কাউন্সিলে আরো ৮ জন বাংলাদেশি বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু তারা অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ প্রোগ্রামে ব্যস্ত থাকায়। তবে তারাও বাংলাদেশিদের মূলধারায় আরো জোরালোভাবে সম্পৃক্ততার স্লোগানে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের মধ্যে ছিলেন শহীদ পরিবারের সন্তান ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, পিপলএনটেক ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক জেড চৌধুরী জুয়েল, ফোবানার নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জাকারিয়া চৌধুরী, কমিউনিটি লিডার কাজী নয়ন, বেদারুল ইসলাম বাবলা, আবু নাসের, নার্গিস আহমেদ, আজহারুল ইসলাম মিলন, কাজী আজম, আলী ইমাম, এটর্নী পেরী ডি সিলভার, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি হাজী নজমুল ইসলাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ, জেবিবিএর নেতা ও নিউইয়র্ক ইন্স্যুরেন্সের প্রেসিডেন্ট শাহনেওয়াজ, স্মৃতি ফ্যাশনের কর্ণধার মাহবুবুর রহমান টুকু, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ, সমাজকর্মী ডা. ওয়াদুদ ভূইয়া, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর ময়নুল ইসলাম, রংপুর জেলা সমিতির সভাপতি আসেফ বারি টুটুল, অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here