নিউ ইয়র্কে পুলিশের গুলিতে ফের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত

0
34

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আবারো পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম শহীদ ভ্যাসেল। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল পৌনে ৫টায় ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায় বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বুধবার বিকেলে এক ফোনকল পেয়ে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় পুলিশ। শহীদ ভ্যাসেলের হাতে থাকা পাইপকে বন্দুক মনে করে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করে পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের নির্বিচার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ধারাবাহিক সংস্কৃতি বিরাজমান। একইভাবে নির্বিচার পুলিশি দায়মুক্তিও সেখানে সাধারণ ঘটনা। তবে ২০১৪ সালে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে পুলিশ কর্তৃক এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় উত্তাল বিক্ষোভ হয়। অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াউকি নামের শহরে ডন্ট্রে হ্যামিলটন নামের এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জোরালো বিক্ষোভ সত্ত্বেও জড়িত পুলিশকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে একই ধরনের অন্যান্য ঘটনায় বিক্ষোভ হলেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। সর্বশেষ সাক্রামেন্টোতে স্টিফেন ক্লার্ককে হত্যার ঘটনায় আবারো ফুঁসে উঠেছিল জনগণ। দায়ী দুই সদস্যকে ছুটিতে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে পুলিশ বিভাগ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ প্রধান তেরেন্স এ মোনাহান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৯১১ এ কল করে পুলিশকে ডাকা হয়েছিল। ফোন দিয়ে তাদের জানানো হয় যে ওই ব্যক্তির কাছে অস্ত্র আছে বলে শঙ্কা করছেন তারা।

মোনাহান বলেন, ‘বুধবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নিউ ইয়র্ক পুলিশের কাছে বেশ কয়েকটি ফোনকল আসে। আমাদের বলা হয়, একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি বাদামি রঙের জ্যাকেট পড়ে একটি রূপালি রঙের অস্ত্র তাক করছে পথচারীর দিকে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ওই বিবরণে এক ব্যক্তিতে তারা দেখতে পান বলে জানান মোনাহান। তাদের দাবি এসময় ওই ব্যক্তি পুলিশের দিকে একটি বস্তু তাক করেছিলেন। চারজন পুলিশ ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে তাকে নিবৃত্ত করে।

এরপর শহীদ ভ্যাসেলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করে ডাক্তার। পুলিশ এখনো তার বিস্তারিত পরিচয় দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়,  শহীদ ভ্যাসেল এলাকায় খুবই পরিচিত।

পুলিশ জানায়, তাদের দিকে তাক করে রাখা বস্তুটি একটি পাইপ। কোনো পুলিশ সদস্যের কাছেই বডি ক্যামেরা ছিল না।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে অনেক স্থানীয় জড়ো হন। পুলিশের এমন আচরণে সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর অফিস থেকে জানানো হয়, তিনি এই গোলাগুলি সম্পর্কে অবগত।

দুই সপ্তাহ আগেই স্টিফেন ক্লার্ক নামের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে হত্যা করেছিল পুলিশ। তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনকে অস্ত্র ভেবে আটবার গুলি করেছিল  পুলিশ।

ব্রুকলিনের ওই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়। প্রতিবাদ জানাতে তারা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছে। বড় ধরনের একটি বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here