নয়টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
20

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বলেছেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতেই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তি যেন বজায় থাকে সেইদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।’

এইদেশে সকল ধর্মের মানুষ বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মের মানুষই এদেশে স্বাধীনভাবে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। এটাই ছিল জাতির পিতার চেতনা এবং চিন্তা। তাই তিনি বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। যেটা ইসলামেরও মূল কথা। কারণ, ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মকে সম্মান করে। বাংলাদেশ সেভাবেই একটি অসম্প্রতায়িক চেতনায় গড়ে উঠবে, আমরা সেটাই চাই।’

প্রধানমন্ত্রী দুপুরে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৯টি স্থানে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ৯টি জেলা-উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রাথমিকভাবে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, নোয়াখালি এবং রংপুরে এই মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিসুর রহমান প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ময়মনসিংহ প্রান্ত থেকে এবং বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি কাজী শাকের আহমেদ চট্টগ্রাম প্রান্ত থেতে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতা করেন। ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আলেম, ওলামা মাশায়েখ সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

এই ধর্মের প্রচার ও প্রসারে জাতির পিতা আরো অনেক কাজ করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ধর্মের মূল শিক্ষা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া এবং নিরীহ মানুষ হত্যা করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের এই পবিত্র ধর্মের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা চাই- ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।

তিনি বলেন, আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই দেশটা তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন এই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে এবং যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে সে পথে যাত্রাও শুরু করেছিলেন কিন্তু, তা আর সম্পন্ন করতে পারেননি। কারণ ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আর এরপরেই বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে।

ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা যেন মানুষ পায় এবং ইসলামী সংস্কৃতিটা মানুষ যেন ভালভাবে রপ্ত করতে পারে, চর্চা করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি জেলায়-উপজেলায় আমরা ৫৬০টি মডেল মসজিদ তৈরি করে দেব। যেখানে সত্যিকারভাবে ইসলাম ধর্মের চর্চা হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়ে আসাতেও তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশ্যে বেতারে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করিম (সা:) ইসলাম। যে ইসলাম জগৎবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে- ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।’ আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং আমাদের ধর্মের সেই মর্যাদাটা সমুন্নত থাকুক, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও মাদক থাকবে না। প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নতি হবে এবং বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে।

দেশ যেন সব দিক থেকে উন্নত হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে সেই প্রার্থনা করে তিনি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের পবিত্র ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন জানতে পারে এবং ধর্ম পালনে আরো উৎসাহীত হতে পারে। তারা ধর্মর্চ্চাটা যেন করে এবং বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের উদ্যোগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, আগে তাঁদের জন্য (ইমাম-মুয়াজ্জিনদের) কোন ব্যবস্থা ছিল না। আমি প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হই সেই সময় এই ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ড করে দেই।

প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করারও আহবান জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, এবং নোয়াখালির সকল শ্রেনী-পেশার জনগণের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here