সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতারের নিন্দায় সিরিয়া ও ইরান

0
15

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: শনিবার সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সহযোগিতা দেয়ায় সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতারের কড়া সমালোচনা করেছে সিরিয়া ও ইরান।

ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি বলেন, এসব দেশের বিশ্বাসঘাতকতা কেউ ভুলবে না।

লারিজানি বলেন, সিরিয়ার ওপর আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। এ হামলার প্রতি ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশাপাশি কিছু মুসলিম দেশও সমর্থন দেয়ায় লারিজানি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, মুসলমানদের ঐক্যের দিন হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ (সা)’র পবিত্র নব্যুয়ত প্রাপ্তি দিবসে ইসলাম ধর্ম বিরোধী নেতা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানো কী তাদের জন্য লজ্জা ও অপমানজনক নয়? গত শনিবার সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক হামলার দিন সারা বিশ্বের মুসলমানরা নব্যুয়ত প্রাপ্তি দিবস পালন করেছে।

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পূর্ণ সমর্থনকারী দেশ বিশেষ করে ইসরাইল এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব, বাহরাইন এবং কাতারও যোগ দিয়েছে। বিভিন্ন মতবিরোধে বিভক্ত ২২ সদস্যের আরব লীগ যখন আজ (রবিবার) সৌদি আরবের দাহরান শহরে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছে এর কয়েক দিন আগে সিরিয়ায় হামলা চালানো হলো।

লারিজানি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম ঐক্য এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিদার দেশগুলো একদিকে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে এবং অন্যদিকে মুসলিম জাতিগুলোর ওপর হামলায় ইসলাম বিরোধী নেতাদের কাছে নিজেদের সম্পদ বিলিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, শনিবার ভোররাতে সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের ঘাঁটি ব্যবহৃত হওয়ার ঘটনাকে দোহার জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে সিরিয়ার আসাদ সরকার। এজন্য কাতারের আমিরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়া সরকার।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা- সানাকে বলেছেন, সিরিয়ায় হামলা চালানো পশ্চিমা জঙ্গিবিমানগুলো কাতারের ‘আল-উদেইদ’ বিমানঘাঁটি থেকে আকাশে উড্ডয়ন করেছে।

সিরিয়ার সূত্রটি বলেছে, কাতারের এই লজ্জাজনক অবস্থানে দামেস্ক মোটেও বিস্মিত হয়নি। কারণ, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে কাতার বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া, এসব জঙ্গি গোষ্ঠীকে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সব রকম সহযোগিতা দিয়েছে দোহা।

আল-উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সেনাঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ ঘাঁটিতে ব্রিটেনসহ আরো কিছু দেশের সেনাও মোতায়েন রয়েছে। আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইরাকে সামরিক অভিযান পরিচালনার কাজে আমেরিকা আল-উদেইদ সেনাঘাঁটি ব্যবহার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here