সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা : নিউইয়র্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আযোজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বর্ণমালা ডেস্ক:সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, এই সরকারের সময়ে বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটলে তার বিচার হয়না এমন কোন নজীর নেই। সাংবাদিক হোক, সংসদ সদস্য হোক, ব্যবসায়ী হোক অথবা যেই হোক না কেন আইন সবার জন্য সমান। যে অন্যায় করেছে অন্যায়ের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। সাংবাদিক পেটানোর ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৩০ টিভি, ৬ শ’র বেশী সংবাদপত্র বের হয়। তারা সমানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে কিন্তু সরকার তাতে বাধা দেয়না।  মন্ত্রী আজ ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
 জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় মন্ত্রী আরো বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ দেশ ধেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে এখন সময়ের ব্যপার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই। যে ঘসা দেবেন আর রাতারাতি উন্নত হয়ে যাবে। তবে তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা কাজ করেন। তিনি পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তাহাজ্জুতের নামাজ পড়েন। সকালে কোরআন তেলওয়াত করে কাজ শুরু করেন। দুর্নীতি তার কেশাগ্র স্পর্শ করেনি। তিনি শুধু নয়, তার পরিবার পরিজন কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তিতে ঈর্ষনীয় উন্নতি করছে। আগামী মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উক্ষেপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রযুক্তির এক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছে। মন্ত্রী সরকারের সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের বিবরন তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারনে তাদের জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কারনে আজ আমাদের ওই অঞ্চলের বনসম্পদ এবং পর্যটন মারাত্মক হুমকির মুখে। তিনি বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ওপর সন্ত্রাসীদের নজর পড়েছে। আমরা মিয়ানমারের সরকারকে বলেছি তারা যদি ভবিষ্যতে তোমাদের বিরুদ্ধে কিছু করে তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। মন্ত্রী আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে আবারো ক্ষমতায় আনার জন্য প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। এরআগে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,  বাংলাদেশে এখন আইন আছে সাংবাদিক পেটানো হলে তার বিচার হবে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের যে স্বাধীনতা আছে তা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তিনি বলেন, যখন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে যখন পদ্মা সেতু প্রকল্পে টাকা দিতে অস্বীকার করেছিলো তখন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতা সেদিন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ঘেরাও করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। আমাদের নেতা-কর্মীরা বিএনপির জ্বালাও পোড়াও এর বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের সামনে প্রতিবাদ করেছে। সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। সরকারের উন্নয়ন ঘরে ঘরে পৌচ্ছে দিতে হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার রক্তের প্রতিশোধ নেবো। জনগনকে সাথে নিয়ে আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমরা ক্ষমতায় থাকবো। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বর্ণচোরা আখ্যায়িত করে তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেন।
নেবো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সবাপতি আবুল কাশেম, লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আইরীন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দিন দেওয়ান, ফারুক আহমেদ, কৃষি সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, ত্রান সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যান সম্পাদক সোলায়মান আলী, সদস্য শামসুল আবেদীন, মেজবা আহমেদ প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কবীর আলী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতা জামাল হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল হক খোকন, মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হাসান, সাউথ জার্সি মেট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল শাহজাহান, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি আবদুল মুকিত চৌধুরী, নিউইয়র্ক আওয়ামী ফোরামের মোহাম্মদ হারুন, ব্রুকলিন ব্যুরো আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুল, সেচ্ছাসেবক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের রফিকুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন,  যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপ প্রচার সম্পাদক আব্দুল মালেক, যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া, যুক্তারাষ্ট্র আওয়ামীলীগের মেজবাহ আহমেদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here