আটলান্টায় দুইদিনের ভ্রাম্যমান দুতাবাস বসছে ৫ ও ৬ মে

0
36

পবিত্র রোজা শুরু হওয়ার ঠিক কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ দূতাবাসের ভ্রাম্যমান সেবা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টায়। আগামী ৫ ও ৬ মে শনি ও রোববার আটলান্টার ২৪৭৫ শ্যম্বলী টাকার রোড ও বিউফোর্ড হাইওয়েস্থ বেঙ্গল গ্রোসারী ও হালাল মিট ষ্টোরের মিলনায়তনে আয়োজিত এই ভ্রাম্যমান কর্মসূচীটির তত্ত্বাবধান করছে আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়া।

প্রবাসীদের মূল সংগঠন জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করায় গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার ব্যবস্থাপনাতেই ওয়াশিংটন ডি সি থেকে আগত ভ্রাম্যমান দূতাবাসের এই সেবা কার্যক্রম আটলান্টায় সচল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক ও সাধারণ সম্পাদক অসীম সাহা জর্জিয়াসহ আশপাশের সকল রাজ্যের বাংলাদেশিদেরকে এই ভ্রাম্যমান দূতাবাসের সেবা গ্রহণ করার জন্যে সাদর আহবান জানিয়েছেন।

এব্যাপারে ডাঃ মানিক বলেন, “শুধু এই রাজ্যের বাংলাদেশিই নয়, আশপাশের অ্যালাব্যামা, টেনেসি, সাউথ ক্যারোলিনা ও নর্থ ক্যারোলিনার বাংলাদেশিরাও তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্টের নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট তৈরিকরণসহ আমেরিকান পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’এর অনুমোদন ইত্যাদি নানা কাজের চাহিদা মেটাতে এখানেই ছুটে আসেন। আর সেকারনে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের এই প্রধান শহর আটলান্টায় ভ্রাম্যমান দূতাবাসের গুরুত্বটি অনেক বেশি”।

সভাপতি মানিক আরও জানান জানান, প্রায় তিন মাস আগেই বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়াশিংটনস্থ অফিসে টেলিফোনে কথা বলে আগামী মে মাসে এই সেবা কার্যক্রমের দিন-ক্ষণটির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। তবে প্রথমে মে’র ১২ ও ১৩ তারিখে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হলেও পরে এটিকে আরও এক সপ্তাহ এগিয়ে এনে ৫ ও ৬ তারিখ শনি ও রোববার এই দুই দিন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, আটলান্টায় বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার ব্যবস্থাপনায় সর্বশেষ ভ্রাম্যমান দুতাবাস বসেছিল গত বছরের ২০ ও ২১ মে তারিখে। এই সংগঠনের তত্ত্বাবধানে এটি হবে তৃতীয় আয়োজন।

উল্লেখ্য, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পবিত্র রমজান এবং তৃতীয় সপ্তাহ থেকে জর্জিয়া রাজ্যের স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে দেখে বাংলাদেশি কমিউনিটির অসংখ্য পরিবার গতবছরের মতো স্বদেশ ভ্রমনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টের নবায়নসহ আমেরিকান পাসপোর্টে “নো ভিসা রিকওয়ার্ড” এর অনুমোদনের জন্যে অপেক্ষায় রয়েছেন অনেক ভ্রমণেচ্ছুক বাংলাদেশিরাই। তাই জর্জিয়ায় কবে নাগাদ এই ভ্রাম্যমান দুতাবাসটি আসছে, এই প্রশ্ন রেখে মাঝে মধ্যেই অগনিত উৎসুক প্রবাসীর টেলিফোন ও টেক্সটিং আসে সোনালী একচেঞ্জের অফিসসহ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠকদের কাছে।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন অব জর্জিয়ার ব্যবস্থাপনায় ২০১৭ সালের ভ্রাম্যমান দুতাবাসে সেবা প্রদান

সোনালী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন যুক্তরাষ্ট্রস্থ সোনালী একচেঞ্জের আটলান্টা শাখার ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান দূতাবাস কবে আসছে, এই খবরটি জানার জন্য কম করে হলেও দশ-বারোটা করে কল আসে আমার কাছে। তবে সামাজিক মিডিয়াতে দূতাবাস আসার খবরটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পোস্টারের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রচার শুরু হওয়ায় এখন অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন”।

বাংলাদেশ দুতাবাস প্রতিবছরই অন্তত একবার করে বিভিন্ন স্টেটে এই ভ্রাম্যমান দূতাবাসের সেবা কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছে এবং এই কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিকে বছরে দুই বারও এই সেবা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে। তবে দূতাবাসের হিসেব মতে বাংলাদেশ সরকার জর্জিয়া থেকেই সর্বোচ্চ আয় সংগ্রহ করে থাকে অধিকাংশ সময়।

ভ্রাম্যমান দূতাবাসের অন্যান্য দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সংগঠক শাকিরা আলী বাচ্চি, আব্দুল হক, দেবযানী সাহা, অভিষেক শ্যাম, শফিকুল হামিদ কামাল, অজয় রায়, মোহাম্মদ কাম্রুজ্জামানসহ কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here