আমেরিকার মুলধারার সংস্কৃতির সাথে দক্ষিন এশিয়া সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

বর্ণমালা ডেস্ক : আমেরিকার মুলধারার সংস্কৃতির সাথে দক্ষিন এশিয়া সংস্কৃতির সেতুবন্ধন তৈরি হল ফ্লোরিডায়। গত ১২ মে শনিবার ফ্লোরিডার ব্রায়ারউড কাউন্টির প্রেমব্রোক পাইন সিটি সেন্টারে প্রথমবরের মত অনুষ্ঠিত হল সাউথ এশিয়ান ফেষ্টিভ্যাল। বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান এই তিন দেশের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির এটাই প্রথম উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ওয়েন মেসাম। অনুষ্ঠানে তিনজনকে কমিটি অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এরা হলেন বাংলাদেশের ড. সালাউদ্দীন আহমেদ, ভারতের ড. পিয়ুষ আগারওয়াল এবং পাকিস্তানের খালিদ মির্জা। সাউথ এশিয়ান কালচারাল ফেষ্টিভ্যালের উদ্দেশ্য কমিউনিটিকে ভালবাসা, ঐক্য এবং নুতন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর আগামী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুলধারায় নেতৃত্ব প্রদান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পোষাক জুয়েলারি, ফুড সহ অন্যান্য সামগ্রীর রকমারি ষ্টল বসে। অনুষ্ঠানে বাংলা সংস্কৃতি প্রসারের জন্য কারিগর প্রডাকসনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ফেষ্টিভ্যালের সভাপতি ফারুক সরকারকেও বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সাউথ এশিয়ান ফেষ্টিভ্যালে কর্মকর্তারা ছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, সভাপতি ফারুক সরকার, পরিচালক ওসমান চৌধুরী অপু, ইস্কান্দার হায়দার, হাফিজুর রহমান, ভারতের পক্ষে সাতবীর সিং, বিশাল পাটেল বাসান্ত মাদানী এবং পাকিস্তানের পক্ষে ইমতিয়াজ আহমেদ, মোশারাফ আহমেদ। 
অনুষ্ঠানে বিশেষ ধন্যবাদ জানায় ডা. আরকে প্রিন্স, আওলাদ হোসেন, বৈশাখী মেলা দল, তিতম মল্লিক, রুমি আওলাদকে। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আরশী আওলাদ ও দেবজতী। তিন দেশের শিল্পীদের পরিবেশিত নৃত্য গান অনুষ্ঠানকে আকর্ষনীয় করে তোলে। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন কওে পাপ্পু রহমান, তানিয়া খান, রোজিনা করিম, সানি, মাহবুবা সোমা, আশরাফুল বারী ও জুলফিকার আহমেদ। পাকিস্তানী শিল্পীদের মধ্যে নায়লা খালিদ এবং ভারতীয় শিল্পী প্রিয়া ইসলাম সহ ভারতের তিনটি নৃত্যদল অংশগ্রহন করে। নৃত্য পরিবেশন করে সাভিত্রা, দেবযানী ও তাজরী। আরশী আমতারের পরিচালনায় ফ্লোরিডা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত দলীয় নৃত্য দর্শক প্রশংসা কুড়ায়। এছাড়া কারিগর প্রোডাকশন ও ডায়না ড্যান্সারের পরিবেশনা দর্শকদের মাতিয়ে রাখে।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটিতে অবদানের জন্য চিত্রা সুলতানা, আবু ওয়াহেদ মাহফুজ, দিনাজ খান, নওশাদ চৌধুরীকে অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সব ভুলক্রটির উর্ধ্বে থেকে অনুষ্ঠানটিকে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন ও সরাসরি আমেরিকার মুলধারার সংস্কৃতির সাথে দক্ষিন এশিয়ার সংস্কৃতির এক অপুর্ব মেলবন্ধন হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here