ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমান সহজে

0
18

ডায়াবেটিস এখন কতটা ছড়িয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। স্থূলদেহীদের পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা কিছু মৌলিক পরামর্শ দিচ্ছেন। এ নিয়েই আজকের টিপস।

কী খাবার খাচ্ছেন?

আসলে কী কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিন। স্বাদের বিষয়ে আপস না করেও খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে মনে রাখা উচিত, খাবারের প্লেটের তিন ভাগের এক ভাগে যদি থাকে বাদামি চালের ভাত কিংবা রুটি, তো বাকি এক ভাগে মাছ বা মাংস থাকতে পারে। আর শেষ ভাগে অবশ্যই ফল ও সবজি রাখতে হবে। সিঙ্গাপুরের হেলথ প্রমোশন বোর্ড (এইচপিবি) জানায়, দিনের দুই বেলা ফল ও সবজি খাওয়া উচিত। আবার একবেলাও খেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরের বেলা অবশ্যই ফল বা সবজির জুস বানিয়ে খাবেন। তবে এতে চিনি মেশাবেন না। ফল বা সবজির পরিবর্তে ভিন্নতা আনতে অন্য বেলায় ২৫০ মিলিলিটার করে জুস খেতে পারেন।

খাবার পছন্দে স্মার্ট হোন

কী ও কিভাবে খাচ্ছেন—এ দুটো জিনিসই সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দের বিষয়ে স্মার্ট হতে হবে। আইসক্রিমের পরিবর্তে নিম্নমাত্রার ফ্যাটযুক্ত দই কিংবা তরকারিতে নারিকেলের দুধের পরিবর্তে টক দই সত্যিকার অর্থে স্মার্ট পছন্দ। সুপারশপে বাজার করতে গেলে খুব সাবধানী হতে হবে। সত্যিকার অর্থে প্রক্রিয়াজাত খাবার কেনা এড়িয়ে যেতে পারলে সবচেয়ে ভালো। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় ফ্যাট ও সোডিয়াম কম আছে—এমন খাবার বেছে নিন। এ ছাড়া চিনি ও ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত এবং উচ্চমাত্রায় ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খুঁজতে হবে। এগুলো স্মার্ট পছন্দ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে ফল ও সবজির ‘রঙধনু’ তৈরি করুন। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফল বা সবজির যত বেশি সমাগম ঘটাতে পারবেন, উপকারিতা তত বেশি। ফল-সবজির একেক রঙে একেক ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মেলে। যেমন—বেগুনের বেগুনি রঙে আছে হৃদযন্ত্রের জন্যে উপকারী অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনলের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আবার গাঢ় কমলা রঙের গাজরে থাকে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’, যা কি না চোখ ও ত্বকের জন্যে খুবই উপকারী।

ভারসাম্য আনুন

তৃষ্ণা মেটাতে দরকার পানি। এ কাজে অযথাই চিনিযুক্ত জুস বেছে নেবেন না। উচ্চ চিনিযুক্ত কার্বোনেটেড পানীয় আরো বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু অনেকের কাছেই পানি এক স্বাদহীন জিনিস। আবার অনেকে ফল বা সবজি খেতে চান না। কিন্তু প্রত্যেকের খাদ্য তালিকায় ভারসাম্য একটা আনতেই হবে। মন চাইলেই বাচ্চাকে পানির পরিবর্তে সোডা বা জুস কিনে দেবেন না। এসব খেলে দেহে অতিরিক্ত চিনি প্রবেশ করতে থাকবে। এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়বে। এসবে কোনো পুষ্টি উপাদানও নেই। প্যাকেটজাত জুসের পরিবর্তে বাড়িতেই ফলের জুস বানিয়ে দিন।

— স্ট্রেইট টাইমস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here