বিশ্বে শান্তি রক্ষায় ওরা এখন ৭ হাজার ৮০ জন

0
11

ঢাকা: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী পাঠানো ১০টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ বিশ্বের ১১টি দেশে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের মোট সাত হাজার ৮০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছে। এদের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর পাঁচ হাজার ৪৫৬, নৌবাহিনীর ৩৪০, বিমানবাহিনীর ৫০১ এবং পুলিশের ৭৮৩ জন। বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বর্তমানে ১৫৭ জন।

১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি বাংলাদেশের এই সাফল্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকৃতি জানায় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম তা প্রচার করে।

এই ৩০ বছরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি অভিযান সম্পন্ন করেছে। এসব দুঃসাধ্য অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক লাখ ২৬ হাজার ৮৮০, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার ৮৫ জন, বিমানবাহিনীর ছয় হাজার ১২৪ এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ১৮ হাজার ৯৯ জন সদস্যসহ মোট এক লাখ ৫৬ হাজার ৪০৯ জন সদস্য বিশ্বশান্তি রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ১৪৪ জন নিহত এবং ২২৫ জন আহত হয়। সব শেষ গত শনিবার মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ মিশনে আভিযানিক দায়িত্ব পালনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং অপর দুইজন গুরুতর আহত হয়।

২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাঁদেরকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে, শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যে ১৩টি দেশে বাংলাদেশিরা কর্মরত : বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বর্তমানে যে ১৩টি দেশে দায়িত্ব পালন করছে সেগুলো হচ্ছে—ডিআর কঙ্গো, লেবানন, দক্ষিণ সুদান, সুদান (দারফুর), পশ্চিম সাহারা, মালি, লাইবেরিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, হাইতি, সাইপ্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে। এর মধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬১১ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া ডিআর কঙ্গোতে এক হাজার ৯২০, মালিতে এক হাজার ৬৭০ এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে এক হাজার ৪৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছে।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি : এদিকে আইএসপিআর জানায়, এ বছর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্তিতে মঙ্গলবার দিবসটি বিশেষভাবে পালন করা হচ্ছে।

সকালে ‘পিসকীপার্স রান’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে এবং দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হবে। ‘পিসকীপার্স রান’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here