বাজেটে নতুন কর নেই: অর্থমন্ত্রী

0
19

বাজেটের পর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হবে জুন মাসেই গঠন করা হবে ব্যাংকিং কমিশন রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৪০০ কোটি টাকা

বর্তমান সরকারের শেষ ও নিজের একটানা ১০তম বাজেট ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেন, ‘আসছে বাজেটে নতুন করে কোনো করারোপ করা হবে না। এটাই আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে জনগণের জন্য সুখবর।’

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদহার এখন ব্যাংকের সুদহারের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার চায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার ব্যাংকের চেয়ে ১ থেকে ১.৫ শতাংশ বেশি থাকবে। বাজেটের পর সঞ্চয়পত্রের সুদহার পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপায় বের করতে চলতি মাসেই ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন অর্থবছরে নতুন করে করারোপ করা না হলেও রাজস্ব বাড়বে। কারণ রাজস্ব আহরণকারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে আইনগত জটিলতাও কমানো হয়েছে। তাই বেশিসংখ্যক মানুষ আয়কর দিচ্ছে। এ থেকেই রাজস্ব বাড়বে। আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম আয়কর রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এটা আগামীর জন্য  আশাজাগানিয়া বিষয়। আরো ভালো খবর হলো, নতুন করদাতাদের বেশির ভাগই তরুণ।

কর দেওয়া অনেক সহজ করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রিটার্ন দাখিল করলেই হয়রানি হতে হবে—এই আশঙ্কায় আগে অনেকে রিটার্ন দিত না। কিন্তু এখন হয়রানি হতে হয় না, এটা প্রমাণিত। এনবিআরের কর্মকর্তারা এখন করদাতাদের অভিনন্দন জানান। তা ছাড়া হয়রানি বন্ধে আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে রিটার্নে ২০ থেকে ২৫ বছরের হিসাব দিতে হতো। এখন এটা তিন বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে মানুষ কর দিতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন পর্যায় থেকে আয়কর নেওয়া হবে, তাতে কোনো পরিবর্তন হবে না। গতবারও কোনো পরিবর্তন করিনি। বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে ঘন ঘন পরিবর্তন করা হয় না। তবে এখন কর অফিসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ২০০টি উপজেলায় অফিস হয়েছে। আগামী দিনে প্রতিটি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অফিস বাড়লে করদাতার সংখ্যাও বাড়বে।’

নতুন বাজেটে ভ্যাটের স্তর ৯টি থেকে পাঁচটিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে ভ্যাট তিন স্তরে নামানো। ভ্যাটের সর্বোচ্চ স্তর ১৫ শতাংশই থাকবে। নিচের স্তরগুলোতে পরিবর্তন আসবে। চলতি অর্থবছরের মতো আগামী অর্থবছরও ভ্যাট থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা। পরের অবস্থানেই থাকবে আয়কর।’

মন্ত্রী বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বাড়তি কোনো সুযোগ থাকছে না। তাই আইন অনুযায়ী ২৫ শতাংশ জরিমানা দিয়েই সাদা করার সুযোগ থাকবে। করপোরেট করহারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। মোবাইল ও সিগারেট কম্পানির ওপর ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর আছে। মোবাইল কম্পানিগুলোর আয় ভালো। সিগারেটের উদ্দেশ্য অন্য। সারচার্জও আগের মতোই রয়েছে। তবে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করপোরেট কর ৩৭.৫ শতাংশ। যারা নিম্নস্তরে আছে, তারা আগের মতোই থাকছে। আমি শুধু উচ্চস্তর নিয়ে পর্যালোচনা করছি। নিচের স্তরটা খারাপ না। সিগারেটে এবারও কর বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া করের আওতায় আসছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘কর-ভ্যাটের বাইরে থেকে যারা ব্যবসা করছে, তারা করের আওতায় আসবে।’

বাজেটের আকার কত? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে মুহিত বলেন, আকার এখনই বলা সম্ভব নয়। আরো দু-একদিন পর এটা চূড়ান্ত হবে। তবে এটা চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার আশপাশে থাকবে। জ্বালানি খাত আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এই মুহূর্তে সারা দেশে সর্বজনীন পেনশন বাস্তবায়নের মতো অবস্থা নেই উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চিন্তা করছি ন্যাশনাল সার্ভিসের মতো সারা দেশে না করে একটা এলাকা ঠিক করে সেখানে শুরু করা যায় কি না। বাজেটে এ বিষয়ে একটি রূপরেখা দেওয়া হবে।’

সঞ্চয়পত্রের সুদহার পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রের সুদহারের ক্ষেত্রে আমরা বাজার রেট থেকে এক বা দেড় শতাংশ বেশি রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু এখন এটা অনেক বেশি হয়ে গেছে। সুতরাং অবশ্যই বাজেটের পর এটা পর্যালোচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য নিশ্চয়ই বরাদ্দ রাখতে হবে। তারা আমাদের জন্য এক বোঝা (বার্ডেন)। বাজেটে তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকবে।’

চলতি জুনের যেকোনো সময় ব্যাংক খাতের জন্য কমিশন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সব কিছু ঠিক হয়ে আছে। শুধু সদস্যগুলো ঠিক করলেই হবে। সর্বশেষ ২০০৪ সালে কমিশন করা হয়েছিল। এরপর ব্যাংক নিয়ে আর তেমন কিছু করা হয়নি। আগের কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুহিত বলেন, কোনো কমিশনের সুপারিশই পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। কিছু কিছু হয়।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয়েছে, ‘আগামী ৭ জুন বেলা ১২-৩০টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। এটি বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ ও অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ১২তম বাজেট। পরদিন বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here