নিউইয়র্কে ৩দিনের বইমেলা সমাপ্ত হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত রাখার সংকল্পে

0
59

নিউইয়র্ক: অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত রেখে প্রবাস প্রজন্মে বাংলা সংস্কৃতির ফল্গুধারা প্রবাহিত করতে সকলে একযোগে কাজের সংকল্প ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে ৩দিনব্যাপী বইমেলা সমাপ্ত হলো ২৪ জুন রোববার রাতে। এ বছরের ‘মুক্তধারা/জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। ‘চিত্তরঞ্জন সাহা পুরস্কার’ পেয়েছেন প্রকাশনা সংস্থা ‘ইত্যাদি’র কর্ণধার জহিরুল আবেদীন জুয়েল । প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে নিরন্তরভাবে সহায়তার জন্যে রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মো. আনোয়ার হোসেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্যে রামেন্দু মজুমদারকেও বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিপুল করতালির মধ্যে এগুলো হস্তান্তর করেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. জিয়াউদ্দিন এবং বইমেলার আহবায়ক ড. নূরন্নবী।

 

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে বেলাজিনো পার্টি সেন্টারে ২২ জুন উদ্বোধনের পর ২৩ ও ২৪ জুন বইমেলা অনুষ্ঠিত হলো জ্যাকসন হাইটসেই পিএস-৬৯ এর মিলনায়তনে। এটি ছিল ২৭তম বইমেলা। ঢাকা, কলকাতা, আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংস্কৃতিক সংগঠকরা এতে অংশ নেন। ২০টিরও অধিক প্রকাশনা সংস্থার স্টল ছিল এবার বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রকাশিত নতুন বইসহ। উল্লেখ্য, এবারই প্রথম বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমিও স্টল দেয় এই মেলায়।

 

প্রবাসের লেখকদের প্রকাশিত নতুন বইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলো ছিল এ মেলার প্রাণ। প্রতিটি বইয়ের লেখক তার প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন এবং প্রায় সবকিছুই প্রাধান্য পায় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যভিত্তিক সংস্কৃতি এবং প্রবাসের কঠোর বাস্তবতা। কেউ কেউ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসামঞ্জস্যসমূহকে কটাক্ষ করে ছড়ার বইও প্রকাশ করেছেন।

এবারের মেলায় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে রাজধানী ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে অনুষ্ঠিত প্রতিকী গণআদালতে অংশ নেয়া বিদেশী এটর্নী টমাস কিটিংকেও সম্মান জানানো হয়। জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ এক আলোচনায় অংশ নেন তারই পুত্র সাইফ ইমাম জামি।

 

লেখক বঙ্গবন্ধু ও তার অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির ওপর আলোকপাত করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। মার্কিন রাজনীতিতে বাঙালির সম্পৃক্ততা জোরালো করার উদাত্ত আহবান জানিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়ান আমেরিকান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ। তিনি বলেছেন, ভাষার জন্যে রক্তদানের পথ বেয়ে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন-এমন ইতিহাস মার্কিনীদের যতবেশী জানানো সম্ভব হবে ততোই মূলধারায় বাঙালির কদর বাড়বে।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়া ভাষা সৈনিক জসীমউদ্দিন আহমদ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় মিলনায়তনভর্তি মানুষ তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানান। নতুন প্রজন্মের সংগঠক ‘সেমন্তী ওয়াহেদের সমন্বয়ে ৩ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানমালায় প্রবাস প্রজন্মের সম্পৃক্ততা সকলকে অভিভ’ত করেছে। বাঙালি সংস্কৃতির সাথে নতুন প্রজন্মকে জড়িয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

‘বই হোক আমাদের উত্তরাধিকার’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই মেলায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্টল প্রদানকারি প্রকাশকরা হতাশার সুরে জানান যে, বইমেলায় বেশী বিক্রি হচ্ছে শাড়ি-কাপড়। প্রকাশকরা উল্লেখ করেন, সামনের বইমেলায় বই বিক্রি বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ঢাকা থেকে মোটা অর্থ ব্যয় করে নিউইয়র্কে এসে যদি অর্ধেক খরচও না উঠে তাহলে ভবিষ্যতে কেউই আর আন্তরিক অর্থে আগ্রহী হবে না বলেও মন্তব্য করেন কোন কোন প্রকাশক।

উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সমাগমে অনুষ্ঠিত এই বইমেলা আয়োজনে বিশেষ সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন, চ্যানেল আই, প্রথম আলো, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মো. আনোয়ার হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here