২০৪১ সালের কর্মপরিকল্পনায় আমলাদের চিন্তা-ভাবনা সন্নিবেশের আহ্বান

0
14

ঢাকা: দেশের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মচারিদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং চিন্তা-ভাবনা কর্মপরিকল্পনায় সন্নিবেশের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আপনাদের সেখানে কোনো পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা যোগ করার থাকলে আপনারা তা করতে পারেন।

আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সরকারি কর্মচারিদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সরকারের প্রদত্ত বাজেট বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কর্মোদ্দীপনার ওপরই জাতির উন্নয়ন নির্ভরশীল।

দেশের উন্নয়নের জন্য কাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমরা রাজনিতিবিদরা শুধু উন্নয়নের পথ দেখাতে পারি কিন্তু এই কাজের বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের ওপরই বর্তায়।

শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুষ্ঠুভাবে কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে গেলে অনেক নতুন কিছু চোখে পড়ে। কাজেই আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পরবর্তী ধাপটা কি হবে-২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের কোথায় কি করণীয়- এ ব্যাপারে যে ধারণাগুলো আপনারা পাবেন, অন্তত সেটুকু আপনারা দিতে পারেন, যাতে করে আমরা আগামী দিনের পরিকল্পনায় সেটা নিয়ে নিতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘যদি একটা সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা আমাদের থাকে, একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আমাদের থাকে তখন যেই ক্ষমতায় থাকুক না কেন সেটার বাস্তবায়ন অবশ্যই করতে পারবে এবং করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

আর সেই লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মচারিদের কর্মক্ষেত্রে তাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো সমন্বয় করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তাহলে ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জনেও সেটা অনেক কাজে আসবে বলে আমি মনে করি।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও উন্নয়ন) এনএম জিয়াউল আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সচিববৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের প্রধানগণ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনিতিকবৃন্দ।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং পরে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এই চুক্তির একটি করে কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় ২০১৬-১৭ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এবারই প্রথম অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০১৭-১৮ প্রদান করা হয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব, মো. মফিজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here