ফাইনালে ফ্রান্সকে মোকাবেলা করার জন্য ক্রোয়েশিয়া প্রস্তুত : ডেলিচ

0
20

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। আর টানা তিনটি ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলার চাপ থেকে রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মোকাবেলা করার আগে দল মোটেই পরিশ্রান্ত থাকবে না বলেই আত্মবিশ্বাসী মনোভাব পোষন করেছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাটকো ডেলিচ।

মস্কোতে সেমিফাইনালে ম্যাচের শুরুতেই কিয়েরান ট্রিপারের ফ্রি-কিকে পিছিয়ে পড়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ৬৭ মিনিটে অধিনায়ক কেনের ভুলে গোল বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের আক্রমন নসাৎ করে দিয়ে এক মিনিট পরই পাল্টা আক্রমন করেই বাজিমাত করে ক্রোয়েশিয়া। ডিফেন্ডার সিমে ভার্সালিকোর ক্রসের বল লাফিয়ে উঠে হাওয়ায় ভেসে বাঁ-পায়ের আলতো ছোঁয়ায় গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পেরিসিচ। ১০৯ মিনিটে মারিও মান্দজুকিচের গোলে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে ফাইনাল নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া।

ডেলিচের দলটিকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বেশ পরিশ্রান্ত মনে হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত পুরোটাই নিয়ন্ত্রন করেছে। বিপরীতে ইংল্যান্ডকে মাঠে একেবারেই অসহায় মনে হয়েছে। বিশেষ করে একের পর এক ভুল পাসে ক্রোয়েশিয়ার বল নিয়ন্ত্রনে নেয়া সহজ হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহে নক আউট পর্বে ডেনমার্ক ও স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে খেলে শেষ পর্যন্ত টাই ব্রেকারে জয়ী হয়ে সেমিফাইনালে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। আর সে কারনেই ক্রোয়েট খেলোয়াড়দের শারিরীক ও মানসিক পরিশ্রান্তের বিষয়টি ফাইনালে আগে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। এমনিতেই ফাইনালের আগে তারা একদিন সময় বেশী পেয়েছে।

ডেলিচ বলেন, ‘এটা সত্যিই অসাধারন। দু’জন খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছিল, কিন্তু কেউ তা বুঝতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে কেউই বদলী হতে চায়নি। এটাই একটি দলের আত্মবিশ্বাসকে প্রমান করে। আর এটাই আমাকে গর্বিত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত কেউই ছেড়ে কথা বলেনি। আমরা ফাইনালে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছি, ফাইনাল ম্যাচ ভালভাবেই খেলতে চাই। অতিরিক্ত সময়ে খেলা কিংবা ফ্রান্সের হাতে অতিরিক্ত একটি দিন আছে- এসব কোন সমস্যা হতে পারেনা। আমাদের এমনভাবে খেলতে হবে যেন আমরা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছি।’

কোন দলই এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই অতিরিক্ত সময়ে খেলে ফাইনাল নিশ্চিত করেনি। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড দুটি ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে খেলার পরে সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানীর কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছিল।

বাছাইপর্ব মিশন শেষ করার কিছু আগে ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডেলিচ। তার অধীনে গ্রীসকে প্লে-অফে পরাজিত করে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ক্রোয়েটরা। ডেলিচের মতে ফ্রান্স একটি বিশ্বমানের দল হলেও তার দলও নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই ফাইনালে উঠেছে। ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার আগে গ্রুপ পর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here