ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

 স্পোর্টস ডেস্ক: অ্যান্টিগার পর জ্যামাইকা টেস্টেও বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একই বেহাল দশা। তৃতীয় দিন সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ছাড়া আর চোখে পড়ার মতো কিছু ছিল না। বাংলাদেশের অধিনায়ক বল হাতে নিলেন ৬ উইকেট, আর ব্যাটিংয়ে করলেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩৩৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৬৮ রানে অলআউট বাংলাদেশ। তাতে ১৬৬ রানের হারে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো স্টিভ রোডসের শিষ্যরা।

বাংলাদেশের আরেকটি হতাশার মাঝে সাকিব ছিলেন উজ্জ্বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস ১২৯ রানে গুটিয়ে দিতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। লক্ষ্যে নেমে সব ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে করেছেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু অন্যদের সহযোগিতার অভাবে একা হাতে অলৌকিক কিছু করতে পারলেন না সাকিব।

জ্যামাইকা টেস্টে প্রায় তিন দিন হাতে রেখে ৩৩৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় দিন চা বিরতির আগেই ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে তারা। সাকিবের প্রতিরোধে সেটা কিছুটা সামলে উঠলেও শেষ সেশনে তাদের বাকি ৭ উইকেট তুলে নেয় উইন্ডিজ বোলাররা।

লক্ষ্যে নেমে ৭ বল খেলে রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের কাছে এলবিডাব্লিউ হন তিনি।

২ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ৩৮ রানের জুটিতে। কিন্তু তাদের দুজনের বিদায়ে শেষ হয় দ্বিতীয় সেশনের খেলা। লিটন ৩৩ ও মুমিনুল ১৫ রানে আউট হন।

রোস্টন চেজের বলে মুমিনুল এলবিডাব্লিউ হলে চা বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়ার। দিনের শেষ সেশনে সাকিবকে সঙ্গ দিতে নেমে মাহমুদউল্লাহ ৪ রানে বিদায় নেন। ৬৭ রানে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারালে অধিনায়কের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু ৩১ রানে তাকে বোল্ড করেন হোল্ডার।

স্বাগতিক অধিনায়কের ওই ওভারেই প্রথম বল খেলতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হন নুরুল হাসান। মাত্র ১০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় নেন। তবে সাকিব ফিফটি করে আউট হলে শেষ আশাটুকুও নিভে যায় সফরকারীদের।

৭৯ বলে ২৩তম ফিফটি হাঁকানো সাকিব দিন শেষ হওয়ার খানিক আগে বোল্ড হন হোল্ডারের বলে। ৮১ বলে ১০ চারে ৫৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কামরুল ইসলাম রাব্বি মাত্র ২ বল খেলে হোল্ডারের পঞ্চম শিকার হন। ওই ওভারেই আবু জায়েদ রাহীকে বোল্ড করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া হোল্ডার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট।

তার আগে দিনের শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন ১ উইকেট নেওয়া সাকিব তৃতীয় দিন পান আরও ৫ উইকেট। ১৯ রানে ১ উইকেট হারিয়ে এদিন খেলা শুরু করে উইন্ডিজ। প্রথম সেশন তারা শেষ করে ৬ উইকেটে ১০৮ রানে। বাকি ৪ উইকেট স্বাগতিকরা হারায় দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই।

দিনের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ডেভন স্মিথকে (১৬) নুরুল হাসানের স্টাম্পিং বানান সাকিব। ১৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার একইভাবে কিমো পলকে (১৩) সাজঘরে পাঠান। পরের ওভারে সাকিব তুলে নেন ক্যারিবিয়ানদের চতুর্থ উইকেট। কিয়েরন পাওয়েল ১৮ রানে এলবিডাব্লিউ হন।

পরের ওভারে তাইজুল ইসলাম এলবিডাব্লিউ করে ফেরান শাই হোপকে (৪)। ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকরা প্রতিরোধ গড়েছিল শিমরন হেটমায়ার ও চেজের জুটিতে। হেটমায়ারকে (১৮) ফিরিয়ে ৩৩ রানের এই জুটি ভাঙেন রাহী।

শেন ডাউরিচের সঙ্গে ২৩ রানে অপরাজিত থেকে চেজ প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চ বিরতির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। ৩২ রানে মিরাজের কাছে বোল্ড হন চেজ। অধিনায়ক হোল্ডার মাত্র ১ রান করে মিরাজের পরের ওভারে আউট হন। ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে মিগুয়েল কামিন্সকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন সাকিব। ওই ওভারের শেষ বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকেও ফেরান বাংলাদেশের এই বাঁহাতি স্পিনার।

১৭ ওভারে ৫ মেডেনসহ ৩৩ রান খরচায় সাকিব নেন ৬ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মিরাজ শেষ ইনিংসে পেয়েছেন ২টি।

প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছিল ১৪৯ রানে। ক্রিকইনফো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here