বিরোধীরা এক হলেই সরকার গড়া অসম্ভব ইমরান খানের!

0
11

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: বিদ্রোহী বিরোধী ধাক্কায় সরকার গড়ার স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এখনো ওয়েটিং লিস্টেই রয়েছেন ইমরান খান। জাতীয় নির্বাচনের ২৭০টি আসনের মধ্যে ১১৫টি আসনে জয়ী হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরেই কিং খানের দল পিটিআই। ফলে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৩৭টি আসনের জন্য নির্দলদের সাহায্য নিতেই হবে। যে ২২টি আসনের ঘাটতি রয়েছে সেটা পূরণে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন ইমারানের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা।

নির্বাচনের পর এমন অভূতপূর্ব ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। এদিকে বিরোধীদের মধ্যে প্রধান তিন দল পিএমএল(এন), পিপিপি এবং এমকিউএম নেতৃত্ব যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন- নির্বাচনে চরম রিগিং হয়েছে। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়া হোক। বিরোধীদের সম্মিলিত শক্তির এমন আওয়াজ দেখেনি পাকিস্তানিরা।

এদিকে ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, দি নেশন, জিও টিভি সহ একাধিক পাক সংবাদ মাধ্যমের খবর নতুন সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে তেহরিক ই ইনসাফ। ইসলামাবাদে দলীয় কার্যালয়ে ইমরান খান নিজে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ছোট দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানা গিয়েছে, বিরোধী দলগুলির গোষ্ঠী রাজনীতিকে হাতিয়ার করা হয়েছে। সেই সব দলের বিভিন্ন বিক্ষুব্ধ নেতৃত্বকে সরকারে আসার জন্য টোপ দেওয়া হয়েছে।

সদ্য ক্ষমতা হারানো পিএমএল (এন) দলের আসন প্রাপ্তির সংখ্যা ৬২ আর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিপিপির দখলে গিয়েছে ৪২টি আসন। এর পরেই থাকছে মুত্তাহিদা মজলিশ এ আমল এবং নির্দলরা। তাদের প্রত্যেকের দখলে ১২টি করে আসন। মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) পেয়েছে ৬টি আসন। ক্রমান্বয়ে বাকিরা রয়েছে এরপর। ফলে জোট রাজনীতির সূত্র মানলে বিরোধীরা একযোগে হলেই সরকার গড়া অসম্ভব ইমরান খানের পক্ষে। এই তত্ত্ব মেনেই বিরোধী নেতৃত্ব নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার গঠন করতে না পারলে ফের একবার সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। পাকিস্তান ফের চলে যেতে পারে সামরিক শাসনের কব্জায়।

ওদিকে, ভোট শেষ হওয়ার ৫৬ ঘণ্টার বেশি সময় পর পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) চূড়ান্ত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেছে।

চূড়ান্ত ফলাফলে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৫টি, পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) ৬৪টি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৪৩টি আসন পেয়েছে বলে জানায় দৈনিক ডন।

এছাড়া কয়েকটি ধর্মীয় দলের জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল (এমএমএ) ১২টি এবং মুত্তাহিদা কাউমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) ৬টি আসনে জয় লাভ করেছে।

পিএমএল-কিউ এবং নতুন দল বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি) ৪টি করে আসন পেয়েছে।

জিডিএ ২টি, বিএনপি ৩টি এবং এএনপি, এএমএল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসানিয়াৎ, জেডব্লিউপি ১টি করে আসন পেয়েছে।

১২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। আর কেন্দ্রে হামলার কারণে দুইটি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here