কেমন হলো ‘ফ্যানি খান’

0
8

বিনোদন ডেস্ক: ভালো কিছু দেখার প্রত্যাশা নিয়ে ‘ফ্যানি খান’ দেখতে বসেছিলেন যাঁরা, তাঁদের অবিশ্বাস্যরকম হতবাক করে দিল ছবিটি। গতকাল মুক্তি পাওয়া ছবিটি হতাশ করেছে এর দর্শকদের।

বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের নিয়ে তৈরি ছবি ‘ফ্যানি খান’। বেলজিয়ান ছবি ‘এভরিবডিস ফেমাস’-এর রিমেক, তার ওপর অনিল কাপুর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, রাজকুমার রাও অভিনীত ছবিটি এতটা হতাশ করবে, ভাবেননি দর্শকরা।

প্রশান্ত শর্মা অর্থাৎ ফ্যানি খানের ভূমিকায় অনিল কাপুর, ব্লু কলারের কর্মী মেয়ের স্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। মোটা, সাধারণ দেখতে মেয়ের অসাধারণ গানের গলা। সে বিখ্যাত গায়িকা বেবি সিংয়ের ফ্যান। সে চায় বেবির মতো হতে, কিন্তু তার গর্বিত বাবা কিছুই করতে পারছে না।
ছবিটা শুরুই হয় বডি শেমিংয়ের মতো বিষয়ে মানুষের চোখ খুলে দেওয়া নিয়ে। মোটা মেয়েটি তার চেহারার জন্য হাসির পাত্র হয়, যা ধীরে ধীরে মেয়েটির আত্মবিশ্বাসকে ভাঙতে শুরু করে।

এই গল্পের সঙ্গে পরিচিত ভারতীয় ছবির দর্শক। নবাগত অভিনেত্রী লতা অত্যন্ত বাস্তবিক, ছবিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অহরহ মতপার্থক্য লেগেই রয়েছে। ছবিতে এই চরিত্রটাকেই সহ্য করা যায়। আর অন্যদিকে লতা ও মোহম্মদ রফির ফ্যান অনিল কাপুর তার মেয়ের স্বপ্নপূরণের জন্য, তাকে স্পটলাইটে আনার জন্য যেকোনোরকম অপরাধমূলক কাজ করতেও রাজি। এখানেই প্রশ্ন তৈরি হয়। এবং সারাক্ষণ আবেগপ্রবণ হয়ে চিৎকার করা, চোখে গ্লিসারিন, কোথাও অনিল কাপুরের মতো অভিনেতার অভিনয়ের বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করেছে।

তবে এটার জন্য ছবিটাকে সর্বতোভাবে দায়ী করা যায় না। এখানেই অস্বস্তিটার শুরু। হাস্যরসে পূর্ণ একটি উদ্ভট চিত্রনাট্যে অপহরণ, মুক্তিপণ এবং একটা আস্ত ট্যালেন্ট শো– দেখাটা বেশ কঠিন। অপহরণকারীদের দেখে একটুও ভয় পাওয়ার মতো নয়। তার ওপর তাদের আচরণ কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চাদের মতো। নিজের মতো করে অভিনয় করার চেষ্টা করেছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। যদিও অভিনয় করার জায়গা একটা কিংবা দুটো। আর রাজকুমার রাও, কাপুরের পার্টনার ইন ক্রাইম। ছবির মেলোড্রামাটিক ট্রিটমেন্ট দর্শকদের সন্তুষ্ট করার বদলে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেবে।

একজন কুঁড়ে ম্যানেজারের চরিত্রে গিরিশ কুলকার্নি, আর অনিল কাপুরের বাধ্য স্ত্রীয়ের ভূমিকায় দিব্যা দত্ত।

বাকি রইল ছবির গান। মিউজিক্যাল ড্রামা তকমা পাওয়া অর্থাৎ গানের ওপর তৈরি একটা ছবির মিউজিক সিম্পলি ভুলে যাওয়ার মতো। একটা গান তা-ও কিছু মনে ধরলেও, সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভুলে যাওয়ার প্রগাঢ় সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here