পলাতক ৩ ঘাতককে দেশে ফেরৎ পাঠানোর দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন

0
21

নিউইয়র্ক থেকে: ‘একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফুজ্জামান খান এবং পাক হায়েনাদের বর্বরতায় সহযোগিতার পাশাপাশি মুক্তিকামি বাঙালি নিধনে অংশগ্রহণের দায়ে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার জব্বার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার দায়ে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরী আত্মগোপনে রয়েছে নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায়। এরা ৩ জনই যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সময় একাত্তরের বর্বরতা এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নৃশংসতা সাথে জড়িত থাকার তথ্য গোপন করেছে অথবা মিথ্যা উপস্থাপন করেছে। এই কারণেই প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ৩ জনেরই সিটিজেনশিপ কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া যাবে।

এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয় নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় একাত্তরের ঘাতক আশরাফুজ্জামান খানের আস্তানার সামনে ১০ আগস্ট শুক্রবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এ কর্মসূচির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশ সরকারের সমীপে সোপর্দ করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের। কারণ, এরা সকল সময়ের জন্যেই মানবতার দুশমন। সুযোগ পেলেই এরা হামলে পড়বে অসহায় মানুষের ওপর। এরা সমাজ, জাতি এবং রাষ্ট্রের শত্রু।’

‘এই ঘাতকেরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি লাভ করেছে। এই অপরাধেই ওদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া যায়। তবুও কেন ট্রাম্প প্রশাসন গড়িমসি করছে-তা বোধগম্য নয়’ বলা হয় ঘোষণাপত্রে।

আরো বলা হয়েছে, ‘একইসাথে আমরা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান রাখছি, স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে অবিলম্বে বাংলাদেশে বিচারের রায়ের কপি প্রদান করার জন্যে। বাংলাদেশ সরকারের নিযুক্ত ল’ ফার্মকেও পরামর্শ দেয়া উচিত যে, ওরা মিথ্যা বলে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেয়েছে। এমন মিথ্যা তথ্য প্রদানকারি অসংখ্য মানুষের নাগরিকত্ব ইতিপূর্বে কেড়ে নিয়ে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার নজির রয়েছে। সে সূত্রে এদেরকেও বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হউক।’

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০০৩ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি জঘন্য অপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশেষ একটি অভিযান শুরু করেছে। সেই অভিযানের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১০ আগস্ট শুক্রবার ইউএস ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর হিউম্যান রাইটস ভায়োলেটর্স এ্যান্ড ওয়ার ক্রাইম সেন্টার’র ইউনিট চীফ মার্ক শ্যাফার বলেছেন,  ‘গত ১৫ বছরে মানবাধিকার লংঘন, যেমন গণহত্যা, বর্বরোচিতভাবে নির্যাতন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্মূল এবং ভিটে-মাটি ছাড়া করার মত জঘন্য অপরাধে লিপ্ত অনেক বিদেশীর হদিস উদঘাটন, গ্রেফতার এবং নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

কারণ, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই মানবাধিকার লংঘনকারিদের নিরাপদ আশ্রয় স্থল হতে পারে না। নিজের দেশে অপরাধ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবে-এমন ঘটনাকে বরদাশত করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এহেন অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমান প্রশাসনের সর্বাত্মক সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে।’

এ আলোকে এই মানববন্ধন কর্মসূচির অন্যতম বক্তা মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক লাবলু আনসার উল্লেখ করেন, ‘রাশেদ চৌধুরী, আশরাফুজ্জামান খান, ইঞ্জিনিয়ার জব্বারদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে দু’বছর আগে নাকি একটি ল’ ফার্ম ভাড়া করা হয়েছে। কিন্তু হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ঐ তদন্ত সংস্থার কাছে আজ অবধি ঘাতকদের ব্যাপারে তথ্য পেশ করা হয়নি। তাহলে তারা ওদেরকে চিহ্নিত করবে কিভাবে?’

ফোরামের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি কর্মসূচির প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন।  মানববন্ধনের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পলাতক ঘাতকদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ঘাতকেরা আমেরিকা সমাজের জন্যেও হুমকি। তাই এদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় কার্যকর করার জন্যেই অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা জরুরি।’

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, শরাফ সরকার, ডা. মাসুদুল হাসান, ড. এম এ বাতেন, হাজী এনাম, তৈয়বুর রহমান টনি, বাচ্চু, শুভ রায়, শিবলী সাদিক সিবলু প্রমুখ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আদালতের তদন্ত সংস্থার প্রধান আব্দুল হান্নান খান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, ঐক্য পরিষদের অন্যতম সংগঠক শিতাংশু গুহ, যুবলীগ নেতা নান্টু মিয়া, ফোরামের সহ-সভাপতি হারুন ভূইয়া, আবুল বাশার চুন্নু, কালচারাল সেক্রেটারি সবিতা দাস প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here