জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালিত

0
18

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। সকালে স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করার মাধ্যমে সকালের সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানসূচি শেষ হয়।

বিকেলে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান আলোচনা পর্ব। শুরুতেই জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর প্রণীত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

আলোচনা পর্বের আগে অডিটোরিয়ামে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার বিশেষ বিশেষ অংশ উদ্বৃত করেন। সেই কালজয়ী ভাষণের মধ্যেই যে ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজি’র ১৭টি গোলের অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়েছে, তা তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা জাতিসংঘে সেদিন যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তার মধ্যে স্পষ্টভাবে এসডিজি’র দারিদ্র নির্মূল (গোল-১), ক্ষুধা নির্মূল (গোল-২), সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (গোল-৩), মানসম্মত কাজ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি (গোল-৮), শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (গোল-৯), অসমতা হ্রাস (গোল-১০), জলবায়ু পরিবর্তনে পদক্ষেপ (গোল-১৩), শান্তি, ন্যায় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান (গোল-১৬) এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব (গোল-১৭) এর উল্লেখ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতিসংঘের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড: সিদ্দিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট মিলনায়তনের আলোচনা সভার প্রারম্ভে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন তথা বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক ও বিশ্ব মানবতার অসিসংবাদিত নেতা হিসেবে শেখ মুজিবের আভির্বাব-আলোকে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপরই দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। সর্বস্তরের প্রবাসীর উপস্থিতিতে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here