ইমরান সরকারকে হেনস্তা করে নিউইয়র্কে প্রতিশোধ নিলো যুদ্ধাপরাধীদের দোসরা 

বর্ণমালা নিউজ: ইমরান এইচ সরকারকে হেনস্তা করে নিউইয়র্কে প্রতিশোধ নিলো যুদ্ধাপরাধীদের দোসরা। শিবিরের সাবেক কর্মী ও নিউইয়র্কে বিএনপির ছত্রছায়া রাজনীতি করা জামাত সমর্থক একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ গত ৭ আগস্ট মঙ্গলবার ব্রুকলীনে নিউইয়র্ক সফররত: ইমরান এইচ সরকারকে আক্রমণ করে তাদের ক্ষোভ ঝাড়ে। আক্রমণকারীরা ইমরান সরকারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আক্রমণের সময়ে তারা বলে- ‘তোর জন্যই ফাঁসি হইছে.. কুত্তার বাচ্চা’। ইমরানকে আক্রমণকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে।
এদিকে এই এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি নমনীয় নিউইয়র্কের কয়েকটি মিডিয়া ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইন্টারনেটে ’নিউইয়র্কে প্রবাসীদের হাতে ইমরান এইচ সরকার লাঞ্চিত’ শিরোনামে সংবাদ করে। আর তাদের সংবাদকে সূত্র হিসাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের কিছু মিডিয়াও সংবাদটি প্রচার করে। অবশ্য ইমরান সরকারের সাথে এমন আচরণে নিউইয়র্কের সাধারন প্রবাসীদের কোন সম্পৃক্তার খবর পাওয়া যায়নি। বরং ঘটনার নেপথ্য খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে এই ঘটনার সাথে এক সময়ে দেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরের এক সক্রিয় কর্মী মূল হোতা হিসাবে জড়িত।
যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে গড়ে উঠা গণ জাগরন মঞ্চের মূখপাত্র ইমরান সরকারকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর জামাত-শিবিরের আক্রমণের সময়ে ঘনটনাস্থলের অদূরে কয়েকটি রেস্টেুরেন্টে ও রাস্তার আশে-পাশে ব্রুকলীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই। তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী কোন নেতা-কর্মীই এগিয়ে আসেননি মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী স্লোগান, ‘জয় বাংলা’-কে আবার জাতীয় স্লোগান হিসাবে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে তুলে দেয়া সময়ের এই সাহসী যোদ্ধাকে রক্ষা করতে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইমরান সরকার তার ছোট ভাইর সাথে যখন ব্রুকলীনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এভিন্যুতে আসেন তখন ‘অরিক’ নামের সাবেক এক শিবির কর্মী সোহেল নামের ব্রুকলীনের এক বিএনপি কর্মীকে ফোন করে ইমরানের উপস্থিতি জানান। এই তথ্য পেয়ে সোহেল যিনি নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে একটি পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তিনি তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে ইমরান সরকারকে আক্রমণ করেন। ঘটনাটিকে অনেকেই পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করছেন কারন আকস্মিক এই ঘটনার ভিডিওটি যা সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তা ধারন করেছেন এক সাংবাদিক। যিনি নিজে এটি পোস্ট না করে অন্যদের দিয়ে পোস্ট করিয়েছেন। এই সাংবাদিক এক সময় ঢাকায় যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর দিগন্ত মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন সেই সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে অবস্থান করে ভিডিওটি ধারন করেন।
কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু ঐ এক সাংবাদিকই নন, নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়া বেশ ক‘জন সাংবাদিক এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এদের কেউ কেউ সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের সরকার বিরোধী নানা প্রচারণা করে থাকেন যাতে সরকারের সমালোচনার চেয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে থাকে কটাক্ষ ও বিদ্রুপ। চলতি মাসের শুরুতে ঢাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময়ে এদের কেউ কেউ তাদের ফেইসবুক ও ইউটিউব একাউন্ট ব্যবহার করে ‘শিক্ষার্থীদের হত্যা-ধর্ষন ও চোখ তুলে ফেলার পোস্টগুলি বারবার পোস্ট করেছেন এবং অন্যদের ইনবক্সে পাঠিয়েছেন। এদের এসব পোস্টের কারনে প্রথম দিকে ঢাকার মত নিউইয়র্কের বাংলাদেশীরা বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের প্ররোচণায় নিউইয়র্কের স্কুল শিক্ষাথীরা তাদের সংহতি সমাবেশে শিক্ষার্থী হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে শ্লোগান দিয়েছিল। আর এসব শিক্ষার্থী সমাবেশের কোন কোনটিতে নিউইয়র্কের নামকরা একটি কোচিং সেন্টারের সিইও ও প্রেসিডেন্ট সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। কারন তার পিতা-মাতার সাথে প্রধানমন্ত্রী শেষখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠতা নিউইয়র্কে সবারই জানা। কিন্তু ঘটনার সত্যতা না জেনে শুধু সোস্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথীদের নিয়ে জ্যামাইকায় আয়োজিত সমাবেশে ঢাকায় ’শিক্ষার্থী হত্যা-ধর্ষনের’ মিথ্যা গুজবকে সমর্থন করে স্লোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করার বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কে সরকার সমর্থক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here