আমেরিকা প্রবাসী একটি মহলের মিলিয়ন ডলারের ষড়যন্ত্র

0
15

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর লক্ষ্যে মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত স্বার্থান্বেষী একটি মহল। যুদ্ধাপরাধ মামলা অথবা বিচার ঠেকাতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটেও সফল হতে না পেরে একই মহল মিলিয়ন ডলার ছেড়েছে উত্তর আমেরিকায় হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারণা চালাতে। এ ষড়যন্ত্রে নিউইয়র্কে বসবাসরত অর্ধডজন সাংবাদিকও রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মহলটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নিজ নিজ গণমাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরুও করে দিয়েছে। সূত্রের দাবি, একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা তথা মহাজোট সরকারের ব্যস্ততার মাঝেই নানা ধরনের অপপ্রচারে আন্তর্জাতিক মহলকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে মহলটি। এ জন্য ওই মহল সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই বিভিন্ন পরিচয়ে জাতিসংঘ, ক্যাপিটাল হিল, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রভৃতি সংস্থায় যোগাযোগ করছেন। অর্থের বিনিময়ে সভা, সেমিনার এবং সিম্পোজিয়াম ছাড়াও নামে-বেনামে লেখালেখি করছেন।

কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ রয়েছে তেমন লোকজনের সঙ্গে ডিনার-লাঞ্চে মিলিত হচ্ছেন তাদের বিভ্রান্ত করার অভিপ্রায়ে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নিজের একটি ছবি পত্রিকায় প্রকাশ কিংবা অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারের সুযোগ পেলে একাত্তরের ঘাতকদের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যমের লোকজনকে নিজেদের অনুষ্ঠানে অতিথি করতেও দ্বিধা করেন না আওয়ামী পরিবারের অনেকে।

আরও অভিযোগ রয়েছে যে, জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের মধ্যে আওয়ামী পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। আর এভাবেই সরকারের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছে মিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের সদস্যরা। এমন গণমাধ্যম কর্মীর কেউ কেউ পরিচয় গোপন করে হঠাৎ গজিয়ে উঠা মানবাধিকার সংস্থার কর্মী এবং ভৌতিক থিঙ্কট্যাংকের নেতা হিসেবেও আবির্ভূত হচ্ছেন। সর্বশেষ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও অনেকে এমন কতজনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

এমন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে পোস্টিং দিয়েছেন নিউজার্সিতে বসবাসরত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার গতিবিধি আলোকে।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জয়ের পোস্টিং অনুযায়ী এস কে সিনহাকে যে বা যারা অর্থ দিয়েছে, একই গ্রুপ গণমাধ্যম কর্মীদের প্রকল্পেও অর্থ ঢালছে।

অথচ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার লোকজন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের অনেকেই চিহ্নিত ওইসব গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের লালন-পালনে ব্যস্ত রয়েছেন। এমনকি তারা ওইসব মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিতেও উৎসাহবোধ করছেন।

শুধু তাই নয়, ওই শ্রেণির সাংবাদিকদের খপ্পড়ে পড়ে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিভক্তির রেখা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একজন আরেকজনকে ‘রাজাকার’ বলতেও দ্বিধা করেন না।

অনুসন্ধানকালে আরও জানা গেছে, দলীয় পরিচয়ে ঢাকায় তদবিরবাণিজ্য চালিয়ে উপার্জিত অর্থ ওইসব মিডিয়ায় ঢালার ঘটনাও ঘটছে। কারণ নিজেদের তদ্বির-বাণিজ্য ঢেকে রাখা নিয়ে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশকে সঠিক ট্র্যাকে নিয়ে যাওয়ার চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দায়িত্ব একমাত্র শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারেরই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here