মেয়ে বলেই এই শাস্তি পেলাম : সেরেনা

0
10

স্পোর্টস ডেস্ক: ইউএস ওপেনের মঞ্চে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম উপচে পড়েছিল একটা দৃশ্য দেখার জন্য। ফাইনালে নেয়োমি ওসাকাকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ট্রফিটা দুই হাতে ধরে আছেন সেরেনা উইলিয়ামস। সে দৃশ্য তো দেখা যায়নি; যা দেখা গেছে তা নিয়ে চলছে তুলকালাম। স্কোরকার্ড বলছে, ৬-২, ৬-৪ সেটে সেরেনাকে হারিয়ে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নিয়েছেন জাপানের ওসাকা। কিন্তু এই স্কোরকার্ড বলছে না, ৭৯ মিনিটের এই ম্যাচে কত নাটকীয়তা লুকিয়ে আছে!

ম্যাচ চলাকালীন ক্রুদ্ধ সেরেনা ‘চোর’ বলে বসেন চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস র‌্যামোসকে। যে কারণে শাস্তি পেতে হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস খেলোয়াড়কে। পাশাপাশি ওসাকাকে একটি গেম দিয়ে দেন আম্পায়ার। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে টেনিস দুনিয়ায়। ম্যাচের পরে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ আনেন সেরেনা।

তিনি বলেছেন, ‘পুরুষ খেলোয়াড়েরা অনেকে অনেক কিছু বলেন আম্পায়ারকে। কিন্তু কখনও এ রকম শাস্তি পেতে হয় না। আমি মেয়ে বলে আমাকে এই শাস্তি পেতে হল। আমার থেকে একটা গেম নিয়ে নেওয়া হল। আমি এখানে শুধু নিজের জন্য নয়, মেয়েদের অধিকার নিয়ে লড়াই করছি।’

সেরেনার অভিযোগে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন বিলি জিন কিংয়ের মতো কিংবদন্তি। বিলি জিন টুইট করেছেন, ‘যখন কোনো মেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তখন তাকে হিস্টিরিয়াগ্রস্ত বলা হয়। আর কোনো পুরুষ যদি এ ধরনের কথা বলে, তখন বলা হয়, ছেলেটা খোলাখুলি কথা বলতে ভয় পায় না। ছেলেটার কোনো শাস্তিও হয় না। ধন্যবাদ সেরেনা উইলিয়ামস, এই দ্বিচারিতার কথা সামনে নিয়ে আসার জন্য। এই নিয়ে আরও অনেককে মুখ খুলতে হবে।’

শুধু বিলি জিন নন, সেরেনা পাশে পাচ্ছেন তার সমসাময়িক খেলোয়াড়দেরও। ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা টুইট করেন, ‘এটা যদি পুরুষদের খেলা হতো, তাহলে এমন কিছুই হতো না।’

বিলি জিন যেহেতু দীর্ঘ দিন ধরে টেনিস প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত, তার এই মন্তব্যের পরে আম্পায়ার কোনো শাস্তি পান কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সেরেনাকে অবশ্য ১৭ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

সেরেনা বনাম আম্পায়ারের বিবাদের শুরু দ্বিতীয় সেট থেকে। দ্বিতীয় গেমে চেয়ার আম্পায়ার রায় দেন, গ্যালারি থেকে হাতের ভঙ্গিতে সেরেনাকে নির্দেশ দিয়েছেন তার কোচ প্যাটট্রিক মোরাতাগলু। এই নিয়ে সেরেনাকে সতর্ক করলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি। ২৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক বারবার আম্পায়ারের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘আমাকে কেউ কোচিং করাচ্ছে না। আমি প্রতারণা করিনি। জীবনে কখনও চুরি করে জিতিনি। আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে আপনাকে।’

এর পরে পঞ্চম গেমে সেরেনার সার্ভিস ভাঙেন ওসাকা। যার পরে সেরেনা উত্তেজিত হয়ে র‌্যাকেট আছড়ে ভেঙে দেন। যে কারণে রেফারি দ্বিতীয়বার সতর্ক করেন সেরেনাকে এবং তার একটা পয়েন্ট কেটে নেন। ওসাকা যখন ৪-৩ গেমে এগিয়ে ছিলেন। প্রান্ত বদলের সময় আম্পায়ারকে উদ্দেশ করে সেরেনা বলতে থাকেন, ‘আপনি আমার একটা পয়েন্ট চুরি করেছেন। আপনিও চোর।’

সেরেনার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি হিসেবে গেমটি ওসাকাকে দিয়ে দেন আম্পায়ার। আম্পায়ারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েই টেনিস দুনিয়ায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here