উত্তর আমেরিকায় নজরুল সম্মেলনে তার সৃষ্টির ছোঁয়া

0
13

নিউইয়র্ক থেকে: ওয়াশিংটন ডিসির সন্নিকটে ভার্জিনিয়ার এ্যানানডেলস্থ নোভা আর্ট সেন্টার মিলনায়তনে গত ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর অত্যন্ত সাফল্যের সাথে অনুষ্ঠিত হল “১৭তম উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলন”।

বিপুল লোক সমাগমে নজরুল মঞ্চ হয়ে উঠেছিল এক উৎসবের আঙ্গিনা। শুধু মাত্রই নজরুলকে ঘিরে এক মহা আয়োজন এবং নজরুল প্রেমীদের ভীড়ে অনুষ্ঠান মালা, আলাপচারিতা, সেমিনার, সর্বত্র নজরুল আর তার সৃষ্টি নিয়ে আলাপন, স্মৃতিচারণ এবং প্রতিফলন। নজরুল আর তার সৃষ্টির ছোঁয়া।

মূলতঃ  বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন দর্শন এবং তার সাহিত্য সৃষ্টির উপর আলোকপাত করে নজরুল চেতনায় সবাইকে উদ্দীপ্ত করার প্রত্যাশায়ই ছিল “বাই” (বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক) এবং “ধ্রুপদ”-এর এই যৌথ প্রয়াস। এই নান্দনিক আয়োজন সবার ভূয়সী প্রশংসায় অভিনন্দিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার অনবদ্য সৃষ্টি সম্ভার দিয়ে সমৃদ্ধ করে গেছেন বাংলা সাহিত্য এবং অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন বাংলার মানুষের মননশীলতায়, তেমনি বিপ্লবী আন্দোলনে যুগিয়েছে অদম্য অনুপ্রেরণা। তাই তার সৃষ্টি ও জীবনদর্শনের উপর এই মহতী আয়োজন ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং একটি অনন্য প্রয়াস-মন্তব্য সকলের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন মাহবুব হাসান সালেহ। এছাড়াও ছিলেন উত্তর আমেরিকা নজরুল কনভেনশন কমিটির চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ। আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি ছিলেন ভার্জিনিয়ার ডেলিগেট, বিভিয়ান ই, ওয়াটস (এইচএসই, ৩৯তম ডিস্ট্রিক্ট)। এ সম্মেলনে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান, প্রখ্যাত সংবাদ ভাষ্যকার ইকবাল বাহার চৌধুরীকে ‘আজীবন সম্মাননা ক্রেস্ট’ প্রদান করেন পিপল এন টেক-এর প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ। এ সময় সকলে বিপুল করতালিতে ইকবার বাহারকে অভিনন্দন জানান।

সম্মেলনের পরতে পরতে ছিল নজরুল জীবন ও তার সাহিত্য সম্ভারের উপর চমৎকার পরিবেশনা। নজরুল সঙ্গীত, নজরুলের গানের ছন্দে নৃত্যের ঝংকার, নজরুল কাব্য জলসা, নজরুল সৃষ্টির উপর গীতিনৃত্যনাট্য, নজরুলের ব্যক্তি জীবনের উপর স্মৃতিচারণ ও প্রতিফলন, নজরুল গবেষকদের নিয়ে সেমিনার, মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনী, নতুন প্রজন্মকে কবির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য নজরুল প্রতিযোগিতা (নজরজল গীতি, নৃত্য এবং আবৃত্ত) এবং  আরো অনেক চমকপ্রদ আয়োজন।

নজরুল সম্মেলনকে সার্থক ও সফল করে তোলার জন্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ এবং ভারতের বেশ কিছু প্রথিতযশা জনপ্রিয় স্বনামধন্য শিল্পীবৃন্দ। যাদের অনবদ্য পরিবেশনায় মূর্ত হয়ে উঠেছিল নজরুল মঞ্চ, তারা হলেন বাংলাদেশ থেকে আসা জনপ্রিয় শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, নাশিদ কামাল, ফাতেমাতুজ জোহরা, মেহের আফরোজ শাওন এবং  বাংলাদেশের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার-নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব। এছাড়া ভারতের কোলকাতা ও দিল্লী থেকে আসা সঙ্গীতশিল্পী, যন্ত্রশিল্পীরা নজরুল মঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের সুরের রংধনু, যাদের পরিবেশনায় বাঙময় হয়ে উঠেছে নজরুলের গানের সুরলহরী তারা হলেন ‘পঞ্চকবির কণ্যা’ নামে খ্যাত ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবজীত বন্দ্যোপাধ্যায়, তুষার দত্ত, বিদিশা রায় দাস, খিলখিল কাজী, যন্ত্রশিল্পী জগন্নাথ রয় এবং জনপ্রিয় সঞ্চালক রিনি বিশ্বাস।

নজরুল সম্মেলনের একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নজরুলের উপর সেমিনার। কবি কাজী নজরল ইলসামের জীবনের উপর আলোকপাত করার জন্য এবং  তার সৃষ্টি সম্ভার নিয়ে আলোচনাসহ তার ব্যক্তি জীবনের স্মৃতিচারণ করার জন্য, পারিবারিক বলয়ের আলোকে তার সম্পর্কে অজানা তথ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি তুলে ধরার জন্য এ এক অনন্য আয়োজন। সেমিনার গ্রন্থনা ও পরিচালনায় ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার ব্রডকাষ্টার এবং কবি আনিস আহমেদ, আয়োজন ও সমন্বয়ে ছিলেন ড. মিজানুর রহমান।

এই পর্বে অংশগ্রহণ করেন কবি আনিস আহমেদ, কিংবদন্তী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, ড. শেলী শাহাবুদ্দিন, ড. আমিনুর রহমান, ড. মুস্তফা মুনীর, ড. নাশিদ কামাল, ড. গুলশান আরা কাজী, ড. মিজানুর রহমান, প্রফেসর উইন্সটন ল্যাংলী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কবি পরিবারের খিলখিল কাজী, এ,কে,এম আসাদুজ্জামান, ডরোথী বোস, কামাল মোস্তফ, ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ এবং ফয়সল কাদের।

ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার শিল্পীসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছিলেন শর্বরী গঙ্গোপাধ্যায়, অসীম রানা, তমাল হোসেন, প্রিয়া ইসলাম, মায়শা আমিন, অনিলা চৌধুরী, তসলীম হাসান, আনন্দ খান, প্রভাতী দাস, মেরিনা রহমান, খ্রীষ্টফার গোমেজ, ক্ল্যামেন্ট গোমেজ, সারা লুদমিলা, তনুশ্রী দত্ত, দেবশ্রী মিত্র, পল ফেবিয়ান গোমেজ, মোহাম্মদ মজিদ, শাহনাজ রহমান, অন্তরা রহমান, সিমি নওরীন সোহেল, অদিতি সাদিয়া রহমান, শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি, সামিয়া মাহবুব, ফকির সেলিম, সঞ্চিতা চ্যাটার্জি, সিলিকা কনা, এ,কে,এম আসাদুজ্জামান, বিপ্রদাস দত্ত, সাব্রিনা চৌধুরী ডোনা, মাসুমা খাতুন, অপর্না মিত্র, সঞ্জয় গোস্বামী, ফারাহ সাওয়ার, অদিতি চৌধুরী, নেজা খন্দকার, মেহরোজ পারিসা, শপ্তর্শী বিশ্বাস, মারিয়া ইসলাম, নেহা রহমান, রীম চৌধুরী, আরিয়ানা ইলাহী, মৌরবী মধুব্রত, মোহনা খন্দকার, রোকেয়া জানাহ হাসি, রূম্পা বড়ুয়া, শমি সাত্তার, ডেকিন পাপ্পু প্রমুখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নিউইয়র্ক থেকে “ড্রামা সার্কেল” এবং নিউজার্সী থেকে “শতদল”। ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গন, তা থৈ ড্যান্স গ্রুপ এবং বিসিসিডিয়াই বাংলা স্কুল।

নেপথ্য ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অনুষ্ঠানের কনভেন “ধ্রুপদে”র  হিরণ চৌধুরী এবং “বাই”-এর শফি দেলোয়ার কাজল, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ছিলেন এ্যন্থনী পিউস গোমেজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here