ধর্ষণ করে খুন করা হলো সাংবাদিককে

0
8

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল নিয়ে বুলগেরিয়ার বড় বড় ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিতে জড়ানোর বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন ভিক্টোরিয়া মারিনোভা। তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।

বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর আশা, হত্যাকারী শিগগিরই ধরা পড়বে। ৩০ বছর বয়সি ভিক্টোরিয়া মারিনোভা বুলগেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের রুসে শহরকেন্দ্রিক টেলিভিশন চ্যানেল টিভিএন-এ কাজ করতেন।

সম্প্রতি বুলগেরিয়ার কয়েকজন সাংবাদিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।ভিক্টোরিয়া মারিনোভা ছিলেন সেই প্রতিবেদনের অন্যতম প্রতিবেদক। শনিবার একটি পার্কে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মাথায় আঘাত এবং শ্বাস রোধ করে হত্যার আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

রুসের স্থানীয় আইনজীবি গিয়র্গি গিয়র্গিয়েভ জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়ার মৃতদেহ পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে তাঁর মোবাইল ফোন, গাড়ির চাবি, চশমা ও পরনের কাপড়ের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি।

বুলগেরীয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্লাদেন মারিনভ জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার কাজের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বয়কো বরিসভ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমি নিশ্চিত যে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শীঘ্রই সম্পন্ন হবে। রুসে শহরে সেরা অপরাধ বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়েছে। দয়া করে তাঁদের ওপর অযথা চাপ বাড়াবেন না।”

ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ওএসসিই)-র মুক্ত সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রতিনিধি, আরলেম দেসির টুইটারে ভিক্টোরিয়া মারিনোভা হত্যার নিন্দা করেছেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স জরুরিভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে। এ বছর মুক্ত সাংবাদিকতার সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বুলগেরিয়াকে ১১১তম স্থানে রেখেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় অঞ্চলে সাংবাদিক নির্যাতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত এক বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে খুন হওয়া তৃতীয় সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারিনোভা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে, মাল্টার সাংবাদিক, ব্লগার কারুয়ানা গালিজিয়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে নিহত হন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলি করে হত্যা করা হয় স্লোভাক সাংবাদিক ইয়ান কুৎসিয়াককে।

– ডিডাব্লিউ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here