ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন ইহুদীরা পিটসবার্গের হত্যাকান্ডের জন্য

পিটবার্গ হামলায় নিহতদের প্রতি স্বজনদের শ্রদ্ধা

বর্ণমালা ডেস্ক : পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরের ইহুদি নেতারা বলেছেন, তারা চান না শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের শহরে আসুক। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তার বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লেখা এক খোলা চিঠিতে তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই ইহুদি নেতাদের মধ্যে শনিবার হামলার শিকার ইহুদি উপাসনালয় দ্য ট্রি অব লাইফ সিনাগগের সাবেক সভাপতি লায়নেট লেডারম্যনও রয়েছেন। হামলার নেপথ্যে ট্রাম্পের সংখ্যালঘুবিরোধী মনোভাবের স্পষ্ট সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

শনিবার পিটসবার্গের ‘ট্রি অব লাইফ’ সিনাগগে হামলা চালানোর সময় হামলাকারী চিৎকার করে বলছিলেন, ‘অল জ্যুয়িস্ট মাস্ট ডাই’। বিশেষ অনুষ্ঠান চলাকালে সিনাগগে প্রার্থনারত ইহুদিদের ওপর চালানো এই হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার হোয়াইট হাউস জানায়, পিটসবার্গ সম্প্রদায়কে সমবেদনা জানাতে ও তাদের প্রতি আমেরিকার জনগণের সমর্থন ব্যক্ত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প মঙ্গলবার পেনিসেলভেনিয়ায় যাবেন। তবে হামলার শিকার ইহুদিরাই ট্রাম্পের এই সফরের বিরোধিতা করছেন।

দেশের প্রগতিশীল ইহুদি আন্দোলনের সংগঠন বিহাইন্ড দ্য আর্ক এক চিঠিতে বলেছে, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ট্রাম্পকে স্বাগত জানাবেন না। চিঠিতে সরাসরি ট্রাম্পকে সম্বোধন করে বলা হয়, ‘গত তিন বছর ধরে আপনার বক্তব্য ও নীতি একটি ক্রমবর্ধমান শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে’। এতে আরও বলা হয়, ‘আপনি নিজে এই খুনীকে শয়তান বলেছেন, কিন্তু গতকালের (শনিবারের) সহিংসতা সরাসরি আপনার প্রভাবেই হয়েছে’।

সংগঠনটি বলেছে, ‘ট্রাম্প মুসলিম, সমকামী, কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তাকে হেয় করেছেন। গতকালের (শনিবারের) ব্যাপক হত্যাকাণ্ডই আমাদের দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আপনার উৎসাহে প্রথম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নয়’।

হামলার ঘটনায় গ্রেফতার রবার্ট বাউয়ার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে তাকে ইহুদি বিদ্বেষী বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের সাইট গ্যাব’য়ে দেওয়া পোস্টে বাউয়ার্স লিখেছে, ‘ইহুদিরা শয়তানের সন্তান’। ডানপন্থী উগ্রবাদীদের মধ্যে ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় এই মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টে বাউয়ার্স সুপরিচিত নয়া নাৎসি প্রতীক ও কোড ব্যবহার করেছে। পরে তার অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেয় সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি। বাউয়ার্স ট্রাম্পের প্রতি অভিযোগ এনে বলেছিলেন, তিনি ইহুদিদের থামানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

পিটসবার্গে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মৃত্যুদণ্ডের কথাও বলেন তিনি। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প ঘৃণার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করেছেন যা এই হামলাকে সহজ করেছে।

বিহাইন্ড দ্য আর্ক’র চিঠির পর সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র সঙ্গে কথা বলেছেন দ্য ট্রি অব লাইফ সিনাগগের সাবেক সভাপতি লায়নেট লেডারম্যন। তিনি সেখানে ওই চিঠির সঙ্গে একমত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রেসিডেন্টকে এই শহরে স্বাগত জানাবো না’। ট্রাম্পকে ‘বিদ্বেষী বক্তব্যের উৎস’ অভিহিত করে লেডারম্যান বলেন, ‘আমার কাছে তার এমন ভণ্ডামীপূণ কুটিল বক্তব্যের কোনও অর্থই নেই’। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই শহরে খুবই শক্তিশালী নেতৃত্ব রয়েছে। আমাদের খুবই শক্তিশালী মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন শক্তিশালী মেয়র আছেন। একজন খুবই শক্তিশালী সেস্টট গভর্ণর আছেন। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো জনগণ আছে যারা ইহুদি মূল্যবোধ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। আর এগুলো এই প্রেসিডেন্টের মূল্যবোধ নয়।’

তবে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ট্রি অব লাইফ সিনাগগের আধ্যাত্মিক নেতা রাব্বি জেফরি মিয়ারর্স সংবাদমাধ্যম এনবিসি’কে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে স্বাগত জানাবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের নেতাদের মুখোমুখি হবো আর ঘৃণাকে থামাবো। এই বিদ্বেষী বক্তব্য বন্ধ করতে আমাদের কাজ করা দরকার।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here