যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মাহফুজ নিউজার্সীতে সমাহিত

নিউইয়র্ক : দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের মতো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন নিউইয়র্কে কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ও খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইবনে মাহফুজুর রহমান মাহফুজ (৫৩)। গত ২৬ অক্টোবর শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি ফ্লাশিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাইহে রাজেউন)। তিন বছর আগে ব্রেন হেমারেজের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ্য হন মাহফুজ। সেই থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের বেডেই কাটে তার বাকী জীবন। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মা ও একমাত্র পুত্র ছাড়াও ছয় ভাই ও এক বোন সহ অনেক আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব রেখে গেছেন। মাহফুজের মরদেহ শনিবার (২৭ অক্টোবর) ভোর রাতে হাসপাতাল থেকে নিয়ে রিজউডস্থ পাক ফিউনারেল হোমে রাখা হয়। তার বেদনা বিধুর অকাল মৃত্যুতে কমিউনিটির সর্বত্রই শোকের ছায়া নেমে আসে। ২৮ অক্টোবর রবিবার বিকেলে নিউজার্সীর মুসলিম কবর স্থানে তাক সমাহিত হয়।।
এদিকে মরহুম মাহফুজুর রহমানের জানাজায় সর্বস্তরের শত শত বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিউজার্সীতে দাফন করা হয়। রবিবার (২৮ অক্টোবর) বাদ জোহর জ্যামাইকার দারুস উলুম মসজিদ ও মাদ্রাসায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। খবর ইউএনএ’র।
১৯৬৫ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণকারী মাহফুজুর রহমান ২০১৫ সনের ২২ নভেম্বর নিউইয়র্কে নিজ বাসায় ব্রেন হেমারেজের শিকার হন। এই ঘটনার পর পরই মাহফুজকে স্থানীয় এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরবর্তীতে তাকে ম্যানহাটানের প্রেস বেটারিয়ান হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ফ্লাশিং হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ফ্লাশিং-এর একটি রিহাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ তিনি ফ্লাশিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ব্রেন হেমারেজের পর থেকেই তিনি সঙ্গাহীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা, মিষ্টভাষী ব্যক্তিত্ব খুলনা’র সাবেক ছাত্রনেতা মাহফুজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর ইতিমধ্যে তার সংসারে ঘটে যায় অনেক বিয়গান্তক ঘটনা। নানা কারণে গত বছর তার স্ত্রী নাদিয়া আফরোজ সুমি (৩৯) নিউইয়র্কেই আত্নহত্যা করেন। বাবার অসুস্থতা আর মায়ের আত্নহত্যার পর তাদের একমাত্র পুত্র সামিন ফারুকি থাকেন চাচার কাছে।

গত সপ্তাহে মাহফুজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পুনরায় ফ্লাশিং হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ারে রাখা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। গত ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু ও যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আহমেদ তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।

দাফন: মাহফুজের নামাজে জানাজা শেষে মরহুমের ছোট ভাই ইবনে মাসুদ রহমানের তত্ত্বাবধানে জ্যামাইকা থেকে তার মরদেহ নিউজার্সীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রোববার বিকেলে নিউজার্সীর মুসলিম কবর স্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এসময় তার অন্যান্য নিকটাত্বীয় ছাড়াও ঘনিষ্ট বন্ধুজন উপস্থিত থেকে কবর দেন এবং বিশেষ মুনাজাতে অংশ নেন।

শোক প্রকাশ: কমিউনিটির পরিচিত মুখ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা ও খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইবনে মাহফুজুর রহমান মাহফুজ-এর ইন্তেকালে কমিউটিটির সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্নার শান্তি কামনা করেছেন। সাংবাদিকদের মধ্যে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সিরাজুল ইসলাম ও এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভোয়া’র নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আকবর হায়দার কিরণ, ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী প্রমুখ।

শোক ও সমবেদনা প্রকাশকারীদের মধ্যে আরো রয়েছেন: বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ভূইয়া (মিল্টন ভূইয়া), সাবেক সহ সভাপতি সামসুল ইসলাম মজনু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ফারুক চৌধুরী, ডা. জাহিদুন্নবী দেওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমদ, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, নিউজার্সী বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ জুবায়ের আলী ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি শেখ হায়দার আলী, নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি নেতা ইমরান শাহ রন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ সেলিম (বক্সার), আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন রাজু, সঙ্গীত শিল্প শাহ হামজা প্রমুখ। ছবি: ইউএনএ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here