গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন বাতিল করলো ফেডারেল কোর্ট

বর্ণমালা ডেস্ক: মিসিসিপিতে নারীদের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে পাস করা একটি আইন বাতিল করে দিয়েছে এক ফেডারেল কোর্ট। এ সংক্রান্ত নির্দেশে আদালত বলেছে, এই আইন পরিষ্কারভাবে নারীদের সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করেছে।
গত ১৯ মার্চ মিসিসিপির গভর্নর ফিল ব্রিয়ান্ট একটি বিলে স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করেন। ওই আইনে বলা হয়, প্রণয় বা ধর্ষণসহ যেকোনও কারণে গর্ভধারণের ১৫ সপ্তাহ পর আর গর্ভপাত করা যাবে না। আইনের একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে জরুরি চিকিৎসা বা ভ্রুণের অস্বাভাবিকত্ব দেখা দিলেই কেবল গর্ভপাত করানো যাবে। আইনটি পাসের পরের দিনই রাজ্যের একমাত্র গর্ভপাত বিষয়ক ক্লিনিক ও চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ রাইটস আদালতে মামলা করে।

আইনটির বিরোধিতাকারীর আবেদনে বলা হয়েছে, এই আইন সংবিধান বহির্ভূত। কারণ কোনও ‘স্টেটে বাস্তব হওয়ার আগে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করতে পারে না। কারণ আমেরিকার সংবিধানের আওতায় কয়েক দশকের সুপ্রতিষ্ঠিত ও পরিষ্কার রুলের মাধ্যমে এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।’ মামলার আবেদনে বলা হয়, গর্ভধারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাধারণত ২৩ সপ্তাহের আগে ভ্রুণের তেমন কোনও বাস্তবতা তৈরি হয় না। আর এই অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়া দরকার। এটা নারীদের স্বাস্থ্য ও ভ্রুণের ওপর নির্ভর করে আলাদা হতে পারে।
মামলার রায়ে বিচারক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অন্যান্য রাজ্যে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পরও মিসিসিপির আইনপ্রণেতারা এই আইন পাস করেছেন। মার্কিন ডিস্ট্রিক জাজ কার্লটন রিভিস এই রায়ে লিখেছেন, ‘এখানকার আসল কারণটি খুবই সহজ। অসাংবিধানিক জানার পরও স্টেটটি একটি আইন পাস করার উদ্যোগ নিয়েছে কারণ জাতীয় স্বার্থন্বেষী দলের মাধ্যমে দশক মেয়াদি প্রচারণাকে তারা সমর্থন জানাতে চায়। যাতে সুপ্রিম কোর্ট রোয়ে বনাম ওয়েড মামলার রায় পরিবর্তন করে’।

১৯৭৩ সালে রোয়ে বনাম ওয়েড মামলার ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের বিষয়ে একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। আইনটি বাতিল বিষয়ে মিসিসিপির গভর্নর ফিল ব্রিয়ান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার দফতর থেকে জানানো হয়, তিনি সফরে আছেন। তাই তাৎক্ষণিকভাবে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। আইনটির পক্ষে আদালতে লড়াইকারী স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকেও কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

মিসিসিপির এই আইনটি বাতিলের মধ্য দিয়ে লুইসিয়ানা স্টেটের আইনটিও কার্যত বাতিল হয়ে গেল। কারণ সেখানে আইন পাসের শর্ত হিসেবে মিসিসিপি’র আইনটির বৈধতা পেতে হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here