নিউইয়র্কে গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী পালন পাবনায় স্মৃতি সংরক্ষণের দাবী


নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: বাঙ্গালীর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা যোগানো গান ‘শোন একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে’ গানটির অমর গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশীরা।
গত গত  ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বর্ণিল আয়োজনে নিউইয়র্কে প্রথমবারের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে ।  এদিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে গান ও কবিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয় ।  আয়োজনে ছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার স্মরণ সংসদ, নিউইয়র্ক’।   গোপাল সান্যালের সঞ্চালনায় ও সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কন্ঠশিল্পী সহ নানা শ্রেনী পেশার প্রবাসী  বাংলাদেশীরা।  অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শিল্পী মুমু আনসারী শুভেচ্ছা বক্তব্যে অনেকগুলো বিখ্যাত গানের উল্লেখ করে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচয় তুলে ধরেন।  আরও বক্তব্য রাখেন  প্রবীণ সংগীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা সব্যসাচী শিল্পী তাজুল ইমাম, শিতাংশু গুহ,  প্রমুখ। ।বক্তারা উল্লেখ করেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯২৫ সালে ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্ম নেন ‘ তার গানের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার যে অবদান রেখেছেন তা অনস্বীকার্য। তাঁর অবদানকে স্মরণ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই মহান শিল্পীর অবদানের কথা জানাতে তার জন্মস্থান পাবনায়  স্মৃতি রক্ষা খুবই জরুরী বলেও অভিমত পোষন করেন বক্তারা।
৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় তাঁর প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ স্মৃতিচারণায় গৌরীপ্রসন্নকে তুলে ধরেন। উনিশ শ একাত্তরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের  পরিচয়ের সূত্রে স্বল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে গৌরীপ্রসন্ন তাঁকে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন, এবং বাংলাদেশের প্রতি তার অসীম ভালবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি ।
সঙ্গীত পর্বে যোগ দেন ৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান  ।  তিনি শুরু করেন গীতিকার গৌরী প্রসন্নর ‘শোন একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে সুরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি গান দিয়ে আর শেষ করেন ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ দিয়ে । উল্লেখ্য  এই গানটি ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানে ঠাঁই পেয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here