বোন ফোঁটার উৎস সন্ধানে

ওঁরা সকলে প্রান্তিক বোন, ফোঁটা-উৎসবেই নারীত্বের উদযাপন

।। মিতা চক্রবর্তী ।।

বহু বহু ব্যবহারে ক্লিশে,কিন্তু প্রতিনিয়ত এই কথাটি বলা হয়ে থাকে যে, হিন্দু বাঙালিদের ‘বারোমাসে তেরো পার্বণ’ আর ভারতবাসীর ৩৩ কোটি দেবতা।এ বহু আগের হিসেব।আজকের প্রায় ১৪০ কোটির ভারতবর্ষে যে ৫০ কোটি দেব-দেবী কিলবিল করছে সেকথা হয়ত অত্যুক্তি নয়।পার্বণের কথায় আসি, ‘তেরো পার্বণেও’ যেনো আর কুলোয় না!আমার যেহেতু দেব-দেবী বা পুজো-পার্বণ নিয়ে বিন্দুমাত্রও মাথা ব্যথা নেই,সেই হেতু অনেকেই আমাকে নাস্তিক বলে।তা ব্যঙ্গার্থে না ঘৃণারথে-তা আমি জানি না।যদিও খাতা পত্তরে নানা সময়ে আমাকে লিখতেই হয় যে আমার রিলিজিওন বা ধর্ম কি?উত্তরে বলি ‘হিন্দু’।কিন্তু ধর্মের প্রেক্ষিত থেকে কোনোও পরিচয় বহন করার বিষয়টি আমার একেবারেই না-পসন্দ।আমার প্রথম পরিচয় আমি মানুষ।দ্বিতীয়,আমি নারী।তাই আমি ‘নাস্তিক’ কথাটির ধার ও ভার,দুই-ই বহন করতে সক্ষম এবং আগ্রহী।
আজ সমাজ স্বীকৃতি না দিলেও উল্লেখ্য,বাঙালির তেরো পার্বণের সঙ্গে আরও একটি পার্বণ কিন্তু ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়ে গেছে।তার নাম ‘বোন ফোঁটা’।কন্যা,জায়া,জননী-নারীর এই ত্রিস্তর বিন্যাসের মধ্যে কিন্তু একটি অন্যায্য কথা লুকিয়ে আছে।তা হোলো-ছোটকালে মেয়ে বা কন্যা পিতার অধীনে,তারপরে স্ত্রী বা জায়া স্বামীর এবং বুড়ো বয়সে মা বা জননী পুত্র সন্তানের অধীনে থেকে জীবনটা অতিবাহিত করবে।পুরুষের ক্ষেত্রেও এই একই রকম স্তরবিন্যাসের প্রেক্ষিত থাকলেও,সমাজ তাকে মান্যতা দেয় নি!তাই পুরুষ চিরস্বাধীন।যাক সে কথা।যা বলছিলাম,সেই চোদ্দো পার্বণটির নাম “বোন ফোঁটা”।এর বয়স মাত্র চার বছর।তাই এক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতির কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
সদ্য আমাদের,হিন্দু বাঙালিদের ‘ভাই ফোঁটা’,আর বাকি হিন্দু ভারতবাসীর ‘ভাই দুজ’ উৎসব,মহা সমারোহে সম্পন্ন হোলো।এ সম্পর্কে দু-চার কথা পাঠকের সুবিধার্থে বলা দরকার।তা হলো,কালীপুজোর দিন ভারতবাসীর দীপাবলী উৎসব।পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের আর সমস্ত প্রান্তে কালীপুজোর পরের দিন ‘দিওয়ালী’ উৎসব পালিত হয়।‘দিওয়ালী’ কিন্তু খুব বড়ো উৎসব।‘দীপাবলী’ বা ‘দিওয়ালীর’ মূল কথাটি হোলো তমসা থেকে আলোয় উত্তীর্ণ হওয়া।তাই এই উৎসবের সময় সারাটা দেশ আলোয় আলোকময় হয়ে ওঠে।কালীপুজোর পরের দিন ‘প্রতিপদ’ এবং তার পরের দিন ‘দ্বিতীয়া’ হিসেবে চিহ্নিত।এই প্রতিপদ বা দ্বিতীয়াতে আমরা আমাদের দাদা, ভাইদের নিখাদ মঙ্গল কামনায় ভাই-এর কপালে কাজল,ঘি বা দই আর চন্দনের ফোঁটা দিই।ফোঁটা দেবার সময় যে মন্ত্র পড়া হয় তা হোলো,”ভাই-এর কপালে দিলাম ফোঁটা / যমের দুয়ারে পড়লো কাঁটা /ও ভাই তুমি যেওনা হোতা”।এই ফোঁটা দেওয়া বা নেওয়ার জন্য দূর-দূরান্তই শুধু নয়,দেশ-বিদেশ থেকেও ভাই-বোনেরা একত্রিত হতে মোটেও কার্পণ্য বোধ করে না!পাছে ফোঁটা না পেলে দাদা বা ভাই-এর অমঙ্গল হয়-এই ভয়ে দাদা,ভাই, দিদি বা বোনেদের কাছে চলে আসে,তা যে ভাবেই হোক না কেন।দিদি বা বোনেরা সারাদিন উপোস করে,পঞ্চ-ব্যঞ্জন সাজিয়ে দাদা বা ভাইদের কপালে ফোঁটা দেয়।সত্যি এ এক আনন্দানুষ্ঠান!দাদা বা ভাইদের মঙ্গলের জন্য একটা আবেগ বা আকুলতার নাম ‘ভাইফোটা’।
ভাইফোঁটা ছাড়াও স্বামী,পুত্রের মঙ্গলের জন্য আরও হরেক অনুষ্ঠান পালিত হয়।কন্যাবস্থায় ঘরে ঘরে মেয়েরা ‘শীবের মতো স্বামী’ পাওয়ার জন্য শীবের উপোস করে।এমনই আরেকটি উৎসবের নাম ‘করওয়া চউথ’।স্বামীর সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় ভারতের ঘরে ঘরে মহা-সোমারহে এই উৎসবটি পালন করা না হলে,তা বউদের ক্ষেত্রে এক অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।জননী বা মায়েরাও শুধুমাত্র পুত্রের কল্যান কামনায় নীলষষ্ঠী বা নীলের উপোস করেন।মায়েদের আরও একটি পার্বণ রয়েছে।তার নাম ‘জামাইষষ্ঠী’।হতদরীদ্র শাশুড়িরাও তাদের জামাইয়ের মঙ্গল,কল্যান কামনা না করে পারেন না!শাকসব্জি থেকে শুরু করে ফলমূল,মিষ্টি,জামাকাপড়ের দাম ওই সময় আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়।কিন্তু তাতে কি?শাশুড়ি মায়েরা ধারদেনা করেও মেয়ে,জামাই,নাতি-নাতনিদের নিমন্ত্রন করে খাইয়ে-দাইয়ে,জামাকাপড় উপহার না দিয়ে থাকতে পারেন না!জামাই বলে কথা!তার মন যতটা সম্ভব জয় না করলে চলে?
তাহলে কি দাড়ালো?শাস্ত্র বা সমাজ উল্লিখিত যা যা আচার অনুষ্ঠানের নিদান দিয়েছে,তার সবই নামে স্বামী,সন্তান,দাদা-ভাইদের মঙ্গলের জন্য হলেও, কার্যক্ষেত্রে তার সবই পুরুষের জন্য চিহ্নিত।কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত ভারতের সর্বত্র মেয়েরা বছরভর পুরুষের মঙ্গল,কল্যান কামনা করে নানাবিধ অনুষ্ঠান যে পালন করে থাকে,তাহলে সেই মেয়েদের,মায়েদের,দিদি বা বোনেদের জন্য মঙ্গল কামনা করার কি কোনও প্রেক্ষিত থাকবে না?তাঁরা চিরকালের অবহেলার পাত্রী হয়েই থাকবে?একটি মাত্র অনুষ্ঠান মেয়েদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।তা হোলো ‘সাধভক্ষন’।গর্ভবতী অবস্থায় হবু মায়েদের সেই পঞ্চ ব্যাঞ্জন সাজিয়ে,নতুন কাপড় পরিয়ে তার কি কি খেতে ইচ্ছে হয়,তাই তাই খাওয়ানো হয়।এই অব্দি ঠিক আছে,কিন্তু এর পরেই যে খারাপ কথাটি হবু মাকে আশীর্বাদ করে বলা হয় “পুত্রবতী” হও।তার মানে এতো যে আচার অনুষ্ঠান,পার্বণের কথা বললাম,সে সব কথারই মূল সুর হোলো,পুরুষতান্ত্রিক সমাজে,পুরুষই হোলো প্রথম এবং শেষ কথা।অথছ মহাত্মালালন শাহ ফকির তাঁর গানে বলেছিলেন “নারী বিনে মিছে কথা”।নজরুলের ‘নারী’ কবিতাতেও সেই একই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায়।সেখানে তিনি বলেন “বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর /অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”।তাহলে এই যে অর্ধেকের কৃতিত্ব,তা থেকে নারীকে কেন বঞ্চিত করা হবে?আসলে এই সব মহাপুরুষের কথায়,তত্বে, সমাজ আত্মস্থ হতে নারাজ।পাছে নারীর মানোন্নয়ন ঘটে,এই ভয়ে!বহু,বহু জনের মতো আমিও এই পুরুষতন্ত্র এবং তার নির্ধারিত আচার অনুষ্ঠানের বিপরীতে অবস্থান করি।অর্থাৎ নিয়ম ভাঙার দলে আছি।ঠিক এই প্রেক্ষিত থেকেই ‘বোন ফোঁটার’ সূচনা ।
ফেসবুক বা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের যথেষ্ট বদনাম রয়েছে।বহুরুপী মানুষজনের অসভ্যতার কথাও সুবিদিত।আমিও ভুক্তভোগী।কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে
ফেসবুকের মতো এতো বড়ো সোশ্যাল নেট ওয়ার্কিং সাইট তো আর নেই,তাই এই ফেসবুক থেকেই আমার অসম এই লড়াইটা শুরু হয়েছিল।একদিন অনায়াসেই একটা প্রস্তাব প্রকাশ্যে আনলাম।তা হোলো,স্বামী,পুত্র,দাদা,ভাইদের কল্যান এবং মঙ্গল কামনায় যুগ যুগ ধরে নারী কতো কিছুই না করে থাকে।কিন্তু সেই নারীর কল্যান এবং মঙ্গল কামনায় একটি উৎসব হোক,তার নাম ‘বোন ফোঁটা’।এই প্রস্তাবটি পোস্ট করার পরে বহু বহু লাইক এলো,কমেন্টসও এলো অনেক।পক্ষে বেশী আর বিপক্ষে কম সাড়া পেলাম।বুঝলাম একটা কিছু করা যাবে।এবার দিন ঠিক করার পালা।কবে করা যায়,তা জানতে চাইলে নানাজনে নানা দিনের কথা বললেন।কেউ বললেন ভাইফোঁটার পরের দিন হোক।কেউ বা মহালয়া থেকে দুর্গা পুজোর মধ্যে যে সাত দিন,সেই সাত দিনের কোনও এক দিনে করার কথা বললেন।কারো কথায়, মহালয়ার পর থেকেই তো দেবীপক্ষ শুরু হয়ে যায়।তাই সেই পুন্যলগ্নে বোন ফোঁটা করলে খুব ভালো হবে।আস্তে আস্তে যে ধর্মীয় ভাবাবেগ উঁকি মারছে,সেকথা বুঝতে পারলাম।আবার অনেকেই বললেন,২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ লা জানুয়ারি পর্যন্ত ফেস্টিভ সিজন।সেই সময় এই অনুষ্ঠান করা যেতে পারে।এসব শুনে ঘাবড়ে গেলাম।অনেক চিন্তা ভাবনার পরে মাথায় এলো ২ রা জুলাই করলে কেমন হয়!কারন ২০১৪ সালে ২রা জুলাই বছরের মধ্যতম দিন ছিল।সব্বাইকে সেই দিনটির কথা জানালাম।বেশীরভাগ বন্ধুই রাজী হয়ে গেলেন।দিনও তাহলে ঠিক হয়ে গেলো।
২০১৪ সালের ২রা জুলাই।শুরু হোলো ‘বোন ফোঁটা’।বাঙালির সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ইতিহাসে ‘বোন ফোঁটা’ নবতম সংযোজন।সেদিন অনুষ্ঠান হলে যাবার আগে কাউকেই কেউ চিনতাম না।কিন্তু ‘বোন ফোটা’ পর্ব শুরু হতেই মনে হোলো,আমরা সব্বাই যেনো একই পরিবারের লোক,না জানি কতো দিনের সব চেনা!তারপর ক্রমেই কখন যেনো ‘আমি’ ‘আমরাতে’ উত্তীর্ণ হয়ে গেলো!।উল্লেখ্য,ভাইফোঁটা বা ভাইদুজ কিন্তু একেবারেই হিন্দুদের উৎসব।কিন্তু জাতিধর্ম,বর্ণ,সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে ‘বোন ফোঁটা’ সব্বার সম্মলিত এক পার্বণ বা আনন্দানুষ্ঠান।এটি একটি সমন্বয়ের উৎসব।তাই তো রোজা চলাকালীন সাহিন ছুটে চলে এসেছিল ফোঁটা নিতে।শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা বা যৌন-শ্রমিক,সমাজ বিজ্ঞানী বা মহিলা হকার,বাড়ির পরিচারিকা বা তাঁর গৃহ কর্ত্রী,সরকারি আমলা বা কেরানি,সবার সমান আনন্দ-উদ্দীপনায় প্রাঞ্জল হয়ে ওঠে ‘বোন ফোঁটা’।
‘বোন ফোঁটা’ কিন্তু কোনও ভাবেই ভাইফোঁটার পরিবর্ত অনুষ্ঠান নয়।এটি এমন একটি অনুষ্ঠান,যার মধ্য দিয়ে সমাজে নারীর মান,মর্যাদা,সামাজিক অবস্থান ইত্যাদিকে উন্নীত,প্রতিষ্ঠিত এবং সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা বজায় থাকবে।আমাদের যে কোনও আচার অনুষ্ঠানে ধর্মের একটা ছাপ বা ষ্ট্যাম্প মেরে দেওয়া হয়,কারন ধর্মের নামে বা কাছে মানুষ সততই নতজানু,তাই এই স্ট্যাম্পটা বড়ো দরকার।কিন্তু সেই ধর্মের প্রেক্ষিত ছাড়াও যে সামাজিক আচার বা অনুষ্ঠান হতে পারে,’বোন ফোঁটা’ সেই সত্যকে সবার সামনে তুলে ধরেছে।
এবারে ৫ম বছরে ‘বোন ফোঁটা’ পদার্পণ করলো।২০১৪ সাল থেকে ২০১৭-এই চার বছর ২রা জুলাই ‘বোন ফোঁটা’ অনুষ্ঠিত হয়ে এসেছে।এই বছর থেকে প্রতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম রবিবার ‘বোন ফোঁটা’ উৎসব পালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের বোন-ভাইয়েরা আসছেন এই অনুষ্ঠানে।ফোঁটা দিতে বা নিতে।এ যে আমাদের কাছে কী পরম প্রাপ্তি,তা আলাদা করে,বারে বারে বলার দাবী রাখে।সিলেট থেকে, ১৯৩০ সাল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক যুগভেরী’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং ‘অভিমত’ পত্রিকার সম্পাদক অপূর্ব শর্মা এইবারে এসে ,আমাদের বোন ফোঁটা অনুষ্ঠানকে অনেকটাই আলোকিত করেছেন।এই বারে মহা আনন্দ,উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘বোন ফোঁটা’ উৎসব পালিত হয়েছে।আমাদের একটি সংগঠন আছে,তার নাম ‘আমন্দম’।এই সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সারা বছর নানান সমাজ সেবা মূলক এবং সাংস্কৃতিক কাজকর্ম করে থাকি।মূলত ধর্ষিত,অ্যাসিডে আক্রান্ত মেয়েদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই।আরো নানান নারী-সেবার কাজে আমাদের প্রচেষ্টা চলতেই থাকে।আর ‘বোন ফোঁটা’ হোলো আমাদের সবচেয়ে বড়ো সামাজিক আনন্দানুষ্টান।এই অনুষ্ঠান ক্রমেই কলকাতার বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে।আগামীবছরে বাংলাদেশেও এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।এটা কিন্তু একটা খুব বড়ো খবর।মূল ‘বোন ফোটা’ অনুষ্ঠানটি কলকাতায় হয়।এইবারে রুফ টপ অনুষ্ঠান হয়েছিল।আমাদের সভাপতি অধ্যাপিকা সুচরিতা গুহ’র ফ্ল্যাটের দশ তলায় ,গড়ানো বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অনুষ্ঠানের সে কি উত্তেজনা,হৈ চৈ।গান,নাচ,কবিতা পাঠ,খাওয়া দাওয়া-সব মিলিয়ে সে এক জমজমাট আয়োজন!গত বছর থেকে দক্ষিন ২৪-পরগণার,বিষ্ণুপুর গ্রামে ‘বোন ফোটা’ হয়ে আসছে।এই বারে নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদেও ‘বোন ফোটা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।আগামী দিনে আরও নানা জায়গায় ‘বোন ফোটা’ উৎসব পালিত হবে-এই প্রত্যয় আমাদের রয়েছে।
‘বোন ফোঁটা’ আমাদের মেয়েদের বর্তমান সামাজিক অবস্থানকে কিছুটা হলেও উন্নীত করবে।তারজন্য সমবেত,সার্বিক সহায়তা,সহমর্মিতা না হলে আমরা এগুতে পারবনা।নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সক্কলকেই এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।এটা আমাদের আকুল প্রার্থনা।সংবাদ মাধ্যমের আলোও পড়ুক বাঙালীর এই নবতম সামাজিক আনন্দানুষ্ঠানে।এটাও তো কাম্য।‘বোন ফোঁটা’ নারীর জীবন-আঙিনায় নানান আলোর আলোয় আলোকিত করলে,তা যে সমাজকেও সমৃদ্ধ করবে,এ কথা অনস্বীকার্য।সেই আলোকোজ্জ্বল দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
– মিতা চক্রবর্তী, আহ্বায়ক আনন্দম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here