আহমদ শফীর বক্তব্য ইসলাম পরিপন্থী : ধর্মীয় চিন্তাবিদরা

0
3

ঢাকা: ‘আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাবেন না। পাঠালেও বেশি হলে ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াবেন। বিয়ের পর স্বামীর টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে হবে। চিঠি লিখতে হবে স্বামীর কাছে। আর বেশি যদি পড়ান, পত্র-পত্রিকায় দেখছেন আপনারা, মেয়েকে এইট, নাইন, টেন, এম এ, বি এ পর্যন্ত পড়ালে কিছুদিন পর ওই মেয়ে আর আপনার মেয়ে থাকবে না। অন্য কেউ নিয়ে যাবে। পত্র-পত্রিকায় এ রকম ঘটনা আছে কি না? ওয়াদা করেন। বেশি পড়াবেন না। বেশি পড়ালে মেয়ে আপনাদের থাকবে না। টানাটানি করে নিয়ে যাবে আরেকজন পুরুষ।’

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে দেয়া হেফাজতে ইসলামের প্রধান আল্লামা আহমদ শফীর এমন বক্তব্যকে ইসলাম পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মীয় চিন্তাবিদরা।

আর নারী নেত্রীরা বলছেন, সমাজকে পিছিয়ে দেয় এমন মত।

নারী নেতৃত্বের জয় জয়কার বাংলাদেশের প্রতিটি অঙ্গন। মেয়েদের পড়াশোনা এগিয়ে নিতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে সরকার, প্রশংসা কুড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। কিন্তু পশ্চাদপদ কিছু বক্তব্যে ম্লান হয়ে যায় সব অর্জন। আরো একবার এমন বক্তব্য দিলেন হেফাজতে ইসলামের প্রধান আল্লামা শফি আহমদ। ১১ জানুয়ারি, শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে নারী শিক্ষা নিয়ে নানা অযাচিত মন্তব্য করেন তিনি।

হেফাজত প্রধানের এ বক্তব্যকে ইসলামী নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিভিন্ন ধর্মীয় চিন্তাবিদরা।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্লাস ফোর ফাইভ পর্যন্ত নিশ্চয়ই পড়েননি। তিনি নিশ্চয়ই মাস্টার ডিগ্রি পাস করেছেন, তাই তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে সবাই। তাহলে তিনি কোন বিবেকে এই কথাটা বললেন এটা জাতির জন্য বড় কলঙ্ক। নারীরা জাতির জন্য, সমাজের জন্য যে অবদান রাখতে পারে, তারা যে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এটার প্রতি তার ন্যূনতম জ্ঞান না থাকার কারণে এসব কথা বলেন। তিনি মাঝেমধ্যে নিজেকে আলোচনায় আনার জন্য অবাঞ্ছিত কথাবার্তা বলেন।’

আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’আতের প্রেসিডিয়াম সদস্য স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, ‘আল্লাহ রাসুল সকল নারী পুরুষের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ করেছেন। ইসলাম নারীদেরকে জ্ঞান অর্জন করতে দূরে রাখতে চায় এটা ইসলামের অব্যাখ্যা।’

নারী নেত্রীরা বলছেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য কেবল মেয়েদের নয়, পুরো সমাজকেই পিছিয়ে দেয়।’

জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বাংলাদেশ যেখানে এগিয়ে গেছে, বিশেষ করে নারী উন্নয়নে, নারীর ক্ষমতায়নে যে ভূমিকা রাখছে, সেখানে মাওলানা আল্লামা শফীর এই কথাটা কোনো মতেই মেনে নেওয়া যায় না। নারীরা যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এটার একটা চক্রান্ত।’

২০১০ সালে প্রস্তাবিত নারী নীতির বিরোধিতা করে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনায় উঠে আসে হেফাজতে ইসলাম ও তার প্রধান আল্লামা আহমদ শফি। এর পর থেকেই নারীদের নিয়ে তিনি একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের হাটহাজী ভিত্তিক এ সংগঠনটির সারাদেশে কয়েক লাখ নেতাকর্মী এবং অনুসারী রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here