৭টি মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় আখের রস

0
11

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আখ বা ইক্ষুর খোসা ছাড়ানো একটু কষ্টকর বলে অনেকেই আখের রসটাই পান করতে অভ্যস্ত। যদিও পথে ঘাটে বিক্রীত আখের রসের চাইতে আখ খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই ভালো, তারপরও কেউ কষ্ট করতে চান না।
গরমে অন্যান্য বোতলজাত পানীয়ের চাইতে আঁখের রসটাকেই অনেকে তেষ্টা মেটানোর জন্য পান করে থাকেন। কিন্তু শুধু তেষ্টাই মেটায় না আখের রস। মাত্র ১ গ্লাস আখের রস প্রায় ৭টি মারাত্মক শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।
১) লিভারের সমস্যা দূর করেঃ
আখের রস পান করার অভ্যাস দেহে বিলুরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং লিভারের সুস্থতায় কাজ করে। আর এ কারণেই অনেক আগে থেকেই জন্ডিসের আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে আখের রস পান করার প্রচলন রয়েছে।
২) হজম সংক্রান্ত সমস্যা প্রতিরোধ করেঃ
আখের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এই পটাশিয়াম অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যা হজমে সহায়তা করে এবং হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর করে।
৩) ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ
অনেকেই ভাবতে পারেন প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ আখের রস ডায়বেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। আখের রসে ডায়েবেটিস চিনির চাইতেও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রয়েছে যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর অন্যান্য যে কোন আর্টিফিশিয়াল চিনির বিপরীতে।
৪) ক্যান্সার প্রতিরোধ করেঃ
জার্নাল অফ ফাইটোকেমিস্ট্রি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায় আখের রসে বিদ্যমান ফ্লেভোনস দেহে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি ও ছড়ানো প্রতিরোধ করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। আখের রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক।
৫) পানি শূন্যতা দূর করেঃ
পানি শূন্যতা এই গরমে খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা যা নানা রোগ বয়ে নিয়ে আসে। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও ম্যাংগানিজ সমৃদ্ধ এই আখের রস ইলেক্টোলাইট ও পানির শূন্যতা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী।
৬) কিডনির সমস্যা দূর করেঃ
আখের রস প্রাকৃতিক অ্যাল্কালাইন যা অ্যান্টিবায়োটিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কিডনির সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। এছাড়াও আঁখের রস পানের অভ্যাস বুক জ্বালা পোড়া ধরণের সমস্যা এবং মূত্র নালীর ইনফেকশন প্রতিরোধ করে।
৭) দাঁত ও মাড়ির সমস্যা প্রতিরোধ করেঃ
আখের রসের প্রাকৃতিক অ্যাল্কালাইন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে যা দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও আখের রস মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও বিশেষভাবে সহায়ক।
মনে রাখুন কিছু জরুরী বিষয়ঃ
১) রাস্তার পাশের আখের রস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় কারণ এতে জীবাণু রয়েছে, আপনি আখের রস পান না করে আখ খাওয়ার অভ্যাস করলেও একই ফলাফল পাবেন, নতুবা বাসায় আখের রস তৈরি করে নিন।
২) অতিরিক্ত আখের রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। দিনে ১ গ্লাস আখের রসই যথেষ্ট, নতুবা আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে এবং ডায়বেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here