স্টেট সিনেটরের শপথ নিয়ে ইতিহাসে বাংলাদেশী শেখ রহমান

জর্জিয়া স্টেট সিনেট প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান ও প্রথম মুসলিম সিনেটর নিচ্ছেন শেখ রহমান

মাহফুজুর রহমান: আমেরিকার জর্জিয়া স্টেট সিনেট প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান ও প্রথম মুসলিম সিনেটরকে স্বাগত স্বাগত জানাল। গত ১৪ জানুয়ারী সোমবার যখন শেখ রহমান চন্দন সিনেটর শপথ নেন তখন আমেরিকা ও একই সাথে জর্জিয়া স্টেটের রাজনীতিতে একটি ভিন্ন মাত্রার ঘটনার সংযোজন হয়।

জর্জিয়ার স্টেট অ্যাসেম্বলিতে তিনি শুধু প্রথম মুসলিম সিনেটরই নন, সেই সাথে তিনি ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার কোনও স্টেট থেকে নির্বাচিত প্রথম কোনও বাংলাদেশি স্টেট সিনেটর নির্বাচত হন।

সেদিন সকালে অন্য সিনেটরদের সাথে প্রথাসিদ্ধভাবে শপথ নেবার পরে কোরআন নিয়ে শপথ নেন জর্জিয়ার প্রথম এই মুসলিম সিনেটর।

আমেরিকার কোন স্টেটের সবোর্চ্চ আইন পরিষদ সদস্য (স্টেট সিনেটর) হয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশী হিসাবে ইতিহাস গড়ার পথে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ নির্বাচনী এলাকা থেকে মিডটার্ম ইলেকেশনে নির্বাচিত নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান নজিবুর রহমান শেখ রহমান চন্দন গত ২২ মে অনুষ্ঠিত প্রাইমারীতে চার হাজার দুই ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে। প্রাইমারীতে চার চারবারের নির্বাচিত সিনেটর কার্ট থম্পসন পান ১ হাজার ৮৮৮ ভোট। আর ৬ ন ভেম্বরের নির্বাচনে শতভাগ ভোট (৩১,৯০৫) পান তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে। এর আগে ২০১২ সালে জর্জিয়া স্টেট রিপ্রেজেটিটিভ হিসাবে এবং ২০১৪ সালে স্টেট সিনেটর পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে অংশ নিয়েছিলেন শেখ রহমান।

১৯৮১ সালে আমেরিকায় এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় লেখাপড়া করার সময়ে ডিশওয়াশারের কাজ করে পড়ার খরচ সংকুলান করলেও আজকে তিনি স্বচ্ছল ব্যবসায়ী এবং ডেমোক্রেট পার্টির শক্তিশালী ডোনারও। ১৯৯৫ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবার পর জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিসিটি থেকে অর্থনীতি ও গ্লোবাল স্টাডিজে আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন করেন। ২০০৮ সালে রাজনীতিতে জড়ান নিজেকে। যোগ দেন ন্যাশনাল একশন নেটওয়ার্ক, সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন ও ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জর্জিয়ায়।
তার বিজয়কে আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটির বিজয় অ্যাখ্যা দিয়ে শেখ রহমান চন্দন বলেন, আমেরিকায় আমাদের উজ্জল ভবিষতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটাকে কাজে লাগাতে আমাদেরকে মূলধারার রাজনীতি করতে হবে মন-প্রাণ দিয়ে। বাংলাদেশকে আমরা ভালবাসবো কিন্তু এখানে বাংলাদেশের রাজনীতি করবো না। আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হলে আমেরিকান রাজনীতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে যেমন চলছে অন্যান্য কমিউনিটি।

পরিবারের সাথে শেখ রহমান

শেখ রহমান আরও বলেন, অনেকে মূলধারার রাজনীতির নামে ফটো সেশনের যে রাজনীতি করেন তা দিয়ে সত্যিকার অর্থে কিছু অর্জন করা সম্ভব না। এসব লোক দেখানো তথাকথিত মূলধারার রাজনৈতিকরা কমিউনিটির মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এছাড়া অমুক এসোসিয়েশন তমুক সমিতি করে মূলধারার রাজনীতিতে কোন ভূমিকা রাখা যায় না। মূলধারা রাজনীতি করতে হলে তা করতে হবে সরাসরি। একই সাথে দেশী পলিটিক্স ও সমিতি-সংগঠন করে মূলধারার রাজনীতি করার কথা যারা বলেন তারা হিপোক্রেট। আর আমি যা বিশ্বস করি তাই বলছি এবং তাতে কেউ মনক্ষুন্ন হলে আমার করার কিছু নেই।
শেখ রহমান বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাননি। তিনি বলেন, আমাদের দেশেতো নির্বাচনের আগেই প্রার্থীকে সিলেকশন করা হয়। তারা সরাসরি এলাকার মানুষের দ্বারা প্রাথমকিভাবে নির্বাচিত হননা।

সবকিছুর পরও বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করেন শেখ রহমান। কিশোর বয়সে (১৩ বছর) মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানী আর্মির হাতে ধরা পড়ার কথা স্মরন করে শেখ রহামন চন্দন বলেন, আমার বাবা ছিলেন ‘আগরতলা জয়বাংলা যুব শিবির’র ক্যাম্প সুপারভাইজার। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নিত। আমার ভাই ও বোনও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু আমার বয়স অনুমোদন না করায় আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। নিজের চাচা মুসলিম নেতা তাকে পাকিস্তান আর্মির কাছে ধরিয়ে দেন বলে বিশ্বাস শেখ রহমানের। তিনি বলেন, সেদিন আমি স্থানীয় বাজার এলাকা দিয়ে আসছিলাম। পথে আমার চাচাকে দেখি। এর কয়েক মিনিট পার আমাকে আর্মিরা ধরে নিয়ে যায়। আমার বিশ্বাস চাচা আমাকে চিনিয়ে দিয়েছিলেন ওদেরকে। অবশ্য সেদিনই ছাড়া পান বাবার তথ্য জানানোর মুচলেকা দিয়ে। কিন্তু পাক বাহিনী কয়েকদিন পরেই তাদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দেয়। আর তাদের বাড়ীতেই রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে। শেখ রহমান বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন শুনেছেন উপস্থিত থেকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং এ নিয়ে তিনি গর্বিত।
স্বাধীনতার পর তার বাবা নজিবুর রহমান বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড ইন পদে কর্মরত ছিলেন। বাবাকে ২০ বছর আগে হারালেও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা তার সকল কাজ ও সাফল্যের অনুপ্রেরণা বলেছেন শেখ রহমান চন্দন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here