কমিউনিটির মুখোমুখী নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট প্রার্থীরা

0
15

নিউইয়র্ক থেকে: নিউইয়র্ক সিটি মেয়র, সিটি কাউন্সিলের সকল সদস্য এবং সিটি প্রশাসনের সকল দফতরের অনিয়ম-দুর্নীতির ওপর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সিটির অধিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার তথা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ওয়াচডগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘পাবলিক এডভোকেট’ পদে প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত সমগ্র কমিউনিটি। কারণ, এ নির্বাচনে ২২ প্রার্থীর অন্যতম হলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান হেলাল শেখ। প্রার্থীতার আবেদনে কিছুটা ত্রুটি থাকায় বাছাইয়ে তাকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু নাছোরবান্দা হেলাল শেখ বোর্ড অব ইলেকশনে আপিল করে প্রার্থীতা ফেরৎ পেয়েছেন।

৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে হেলাল শেখ বাংলাদেশি তথা দক্ষিণ এশিয়ান-আমেরিকান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী হওয়ায় একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ান হিসেবে আমার বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে, তবে এজন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এর আগে ২৮ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় ১৬ প্রার্থীর আরেকটি সমাবেশ হয় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে। এর অন্যতম হোস্ট ছিলেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার বাংলাদেশি আমেরিকান এটর্নি মঈন চৌধুরী। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের ভোটারের সমাবেশ ঘটেছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বিশেষ ঐ নির্বাচনের প্রার্থীদের মুখোমুখী হতে। সকলেই নিজ নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন অবলিলায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে অনেকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মত উদিয়মান কমিউনিটির লোকজনের আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে প্রতিবন্ধকসমূহ বিলুপ্তির চেষ্টা করবেন। ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত কারণে সিটি প্রশাসনে বিদ্যমান বৈষম্যের পরিসমাপ্তি ঘটাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবেন না। হাউজিং সমস্যা, অভিবাসন আইনের কঠোরতা রোধেও বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দফতরকে সোচ্চার করার চেষ্টা করবেন। শুধু তাই নয়, বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি এবং অভারটাইম থেকে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। পাবলিক স্কুলসমূহে লেখাপড়ার পরিবেশ সুন্দর করার পাশাপাশি সকলের জন্যে চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিতে বিদ্যমান আইনকে ঢেলে সাজাতে সিটি প্রশাসনে লবিং চালানোর কথাও বলেছেন প্রার্থীরা।
এ সময় প্রদত্ত শুভেচ্ছা বক্তব্যে অনুষ্ঠানের অন্যতম হোস্ট এটর্নি মঈন চৌধুরী বলেছেন, নিউইয়র্ক সিটির নাগরিকদের জীবন-মানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পাবলিক এডভোকেট। তারা সিটির সকল কার্যক্রমে ওয়াচ ডগ হিসেবে বিরাজিত থাকেন। অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে এই অফিসের দায়িত্ব অপরিসীম। তাই অভিবাসীদের যাবতীয় অধিকার নিয়ে যিনি পরীক্ষিত বন্ধু বলে বিবেচিত তাকেই যেন সকলে ভোট দেন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস গত নভেম্বরের বিশেষ নির্বাচনে ‘স্টেট এটর্নী জেনারেল’ হয়েছেন। তার এ শুন্য পদে বিশেষ নির্বাচনে লড়ছেন ২২ জন। এটর্নি মঈনের অনুষ্ঠানে প্রার্থীর মধ্যে ছিলেন মাইকেল ব্ল্যাক, নমিকি কন্স্ট, ইয়েডানিস রডরিগুয়েজ, বেন ঈ, ল্যাট্রিস ওয়াকার, মেলিসা মার্ক বিভেরিটো, ডেভিড আইজেনব্যাচ, ডন স্মলস, টনি হারবার্ট, জেয়ার্ড রীচ, এরিক আলরীচ, জুমানী উইলিয়ামস, রাফায়েল ইসপিনাল প্রমুখ।

এর আগেরদিন সন্ধ্যায় একইস্থানে প্রার্থীদের নিয়ে আরেকটি অনুষ্ঠান করে নিউ আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক ক্লাব। সেখানে ৪ জন প্রার্থী নিজেদের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এখানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মোর্শেদ আলম এবং সঞ্চালনা করেন রুবাইয়া রহমান। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী এতে অংশ নিয়ে নতুন অভিবাসী সমাজ হিসেবে বাংলাদেশিরা কীভাবে উপকৃত হবেন তা জানতে চান। এ সময় প্রার্থীরা অঙ্গিকার করেন যে, জয়ী হলে অবশ্যই তার অফিসে বাংলাদেশি-আমেরিকানরাও কাজ পাবেন।

৩১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ’ফ্রেন্ডস অব হেলাল এনওয়াইসি’র  সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট প্রার্থী হেলাল শেখ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ’সাউথ এশিয়ান ফর হেলাল শেখ’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, এডভাইজারী কমিটির চেয়ার নার্গিস আহমেদ, সদস্য আসেফ বারী টুটুল প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন থেকে মিডিয়ার আন্তরিক সহায়তা কামনা করা হয় প্রত্যেক বাংলাদেশি-আমেরিকানকে ভোট কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করার জন্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here