মেয়াদ শেষে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প!

বর্ণমালা ডেস্ক: কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টেরে বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হোয়াইট হাউসে স্বস্তি এসেছে। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে এ নিয়ে এখনো আলোচনার কমতি নেই।
মঙ্গলবার সকালে পেলোসির সভাপতিত্বে দলের কংগ্রেস সদস্যদের এক রুদ্ধকক্ষ বৈঠক হয়। বৈঠকে কোনো সদস্য ইম্পিচমেন্ট নিয়ে স্পিকারের অবস্থানের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেননি।

কোনো কোনো সদস্য বলেছেন, বিচার বা ইম্পিচমেন্টের পথ তাঁরা রুদ্ধ করতে চান না। এঁদের অন্যতম হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান কংগ্রেসম্যান এডাম শিফ।
মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকার সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শিফ বলেন, এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হয়তো দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। বিচার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তবে ক্ষমতা ত্যাগের পর তাঁকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।

শিফ বলেন, মিথ্যাচার ও বেআইনি কার্যকলাপের জন্য ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁকে এ কাজে যিনি নির্দেশ দিলেন, সেই ট্রাম্প কোনো সাজা পাবেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
শিফ বলেন, ‘আমি মনে করি, এখন সম্ভব না হলেও মেয়াদ শেষের পর ট্রাম্পকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’

শিফের দাবি, ট্রাম্প যে আইনভঙ্গ করেছেন, তার পর্যাপ্ত প্রমাণ এখন কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে, সেখানেও তাঁকে অভিযুক্ত করার মতো বিস্তর প্রমাণ রয়েছে।
যে নীতিমালার অধীনে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা যেতে পারে, তার মেয়াদ পাঁচ বছর। অর্থাৎ ২০২০ সালের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে বিচারকার্য শেষ করতে সময় পাওয়া যাবে আরও এক বছর।

কোনো কোনো ভাষ্যকার মনে করেন, ক্ষমতা ত্যাগের পর মামলা এড়াতে ট্রাম্পের একটাই পথ আছে। আর তা হলো দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া।
শিফ সাংবাদিকদের বলেন, এই নীতিমালার পরিবর্তন দরকার। যদি পাঁচ বছরের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করতে হয়, তাহলে ট্রাম্প হয়তো আইনের হাত ফসকে যেতে পারেন।

মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব জানিয়েছেন, পেলোসির আপত্তি সত্ত্বেও তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্পকে অভিশংসিত করার জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। প্রস্তাবটি হয়তো এই মুহূর্তে গৃহীত হবে না। কিন্তু ট্রাম্প যদি অপরাধ করে থাকেন, তার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত। সে জন্যই তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here