ভুটানের সঙ্গে ৫ সমঝোতা স্মারক সই

0
13

ঢাকা: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে পাঁচটি সমঝোতা দলিল সই করেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। গতকাল শনিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক শেষে সেগুলো সই হয়। ওই পাঁচটি দলিলের মধ্যে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি)’ এবং অন্য চারটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং, সংক্ষেপে এমওইউ)। এসওপিটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ট্রানজিট কার্গো চলাচল বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহারে এমওইউ বাস্তবায়নের বিষয়ে। এর মাধ্যমে ভুটান ট্রান্সশিপমেন্টের সুযোগ পাচ্ছে। এমওইউ চারটি স্বাস্থ্য, কৃষি, জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও পর্যটন খাতে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটান পরস্পরের বাজারে কয়েকটি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এ ছাড়া ভুটান বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ভুটান এ দেশের বাজারে তার ১৬টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা চেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভুটানের বাজারে তার ১০টি পণ্যের এই সুবিধা চেয়েছে।’

ভুটানের অনুরোধের বিষয়টি বাংলাদেশ বিবেচনা করবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এখন দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাত অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) চার দেশীয় যোগাযোগ উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দেশ ওই চুক্তি সই করলেও ভুটানের পার্লামেন্ট এখনো এটি অনুমোদন করেনি। ভুটানের নতুন সরকার বলেছে, এই চুক্তি তাদের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তোলা হবে এবং এটি গৃহীত হবে বলে তারা আশাবাদী।

ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে উল্লেখ করে শিগগিরই এ ব্যাপারে চুক্তি হবে বলে পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ভুটানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন। বাংলাদেশে মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজগুলোতে ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫-তে উন্নীত করারও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আজ রবিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুরের ধারা আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর তিনি তাঁর পুরনো বিদ্যাপিঠ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে যাবেন এবং সেখানে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। চার দিনের সফর শেষে তিনি আগামী সোমবার ঢাকা ছাড়বেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here