বঙ্গবন্ধু‘কে অবমাননাকারী কেন মন্ত্রীর সাথে মঞ্চে? যারা কেক কেটে তাদের নেত্রীর জন্মদিন পালন করেন তারাই এবিবিএ-কে নিয়ন্ত্রণ করেন : মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার 

এবিএি‘র দেয়া সমবর্ধনায় বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। সর্বডানে ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারী বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ট্রাস্ট্রি বোর্ড চেয়ারম্যান এম আজিজ

বর্ণমালা নিউজ: আমেরিকা বাংলাদেশ বিজনেস এলায়েন্স (এবিবিএ) নামে নিউইয়র্কের ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনকে গত ৭ এপ্রিলে দেয়া সমবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারী বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ট্রাস্ট্রি বোর্ড চেয়ারম্যান এম আজিজকে মূলমঞ্চে মন্ত্রীর সাথে আসনে বসতে দেয়াতে এই সংগঠনটি সম্পর্কে অনেকেই খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আসলে এবিবিএ নামের এই সংগঠনটি মূলত: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিবছর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারন অধিবেশশনে যোগ দেবার সমসয় তার সফরসঙ্গী ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছিলো প্রায় এক দশক ধরে। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী বা পরিকল্পনামন্ত্রীকে সামনে রেখে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের নিয়ে বার্ষিক সেই বিজনেস সেমিনার আয়োজন করলেও এবিবিএ মূলত: গঠন করেছেন নিউইয়র্কে বিএনপি জামাত ঘেষা ব্যবসায়ী কাম রাজনীতিবিদরা। সারা বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি বা জামাতি সংগঠনগুলোর আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা যায় যাদের তাদের মধ্যেকার কিছু ব্যবসায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থ বা পরিকল্পনামন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের নিয়ে সেমিনার আয়োজন করে কেন? এর গুঢ় রহস্য কি তা নিয়ে রয়েছে নানা মুখরোচক কথাবার্তা। এবিবিএ-র সাথে প্রথম দিকে জড়িত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সরাফ সরকার। কিন্তু এখন আর তিনি এর সাথে সম্পৃক্ত নন। তার ভাষায় যারা সারা বছর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন, যারা ১৫ আগস্ট নাজাত দিবস পালন করতেন এক সময় এবং এখন সেই দিনটিতে কেক কেটে তাদের নেত্রীর জন্মদিন পালন করেন তারাই এবিবিএ-কে নিয়ন্ত্রণ করেন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এক সময়ের উপদেষ্ঠা ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ডেকে নিয়ে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেন। সিলেটের একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে জয়ী সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন নিউইয়র্কে সফরে আসলে তাকে তার দলীয় ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীল লীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকে টেক্কা দিয়ে সবার আগে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এবিবিএ-কে কেন সমবর্ধনা দিয়েছে তা নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলাই যায়।
আবার আওয়ামী লীগের মন্ত্রীকে সমবর্ধনা দিতে গিয়ে তার পাশে বঙ্গবন্ধুকে অববমাননাকারী এবং সোসাইটির অফিস থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলার কাজে ইন্ধনদাতাকে বসিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিব্রত করার মথ্যে দিয়ে কোন ষড়যন্ত্র করছে সংগঠনটি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী পরিবারে। তাদের কথা দেশে গিয়ে ড. মোমেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এরও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ছবি নামানোর ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে বসানোর ঘটনায় তিনি বিস্মিত।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন- যার উদ্যোগে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে সোসাইটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ আগস্ট্র জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্ইে জয়নাল আবেদীন বলেন, ১৫ আগস্ট্র শোক দিবস পালন করা হলে তার বাবারও মৃত্যুবার্ষিকী পালনের কথা বলে যিনি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন তাকে বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে বসতে দিয়ে আয়োজকরা বঙ্গবন্ধুকেও অশ্রদ্ধা করেছেন।
এদিকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বঙ্গবন্ধুর খুনীদের একজনকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আইন মেনে আন্দোলন করার জন্য জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানালেন যে ড. আব্দুল মোমেন তার পাশে কিভাবে এবিবিএর কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষকারী ও অবমাননাকারীকে বসতে দিলেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
সমবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চে আসীন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারী এমন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চে জায়গা দেয়ার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।
এম আজিজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দু‘বছর আগে তারেক রহমানের নির্দেশ নিয়ে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করলে এম আজিজকে সেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেন। এছাড়া গত বছর হাসপাতালের হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিলো এম আজিজের বিরুদ্ধে এবং এ সংক্রান্ত সংবাদ মূলধারার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেছেন বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারী এবং তারেক রহমানের মদদপুষ্ঠ ব্যক্তি আজিজকে যারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঞ্চে জায়গা দিয়েছেন তাদেরকে তার জবাব দিতে হবে।
এবিবিএ আয়োজিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমবর্ধনা সভায় মঞ্চে আরও উপবিষ্ঠ ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ও কনসাল জেনারেল মিজ সাদিয়া ফয়জুন্নেসা।
এবিবি-র কর্মকর্তারা শুধু বিএনপি জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন, এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির সভাপতি যেমন রয়েছেন তেমনি রয়েছেন কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি আদায়কারীরা, তেমনি রয়েছেন বাচ্চু রাজাকারকে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ওয়াজ করতে দেয়ার পক্ষে অবস্থানকারী মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার সমর্থক ও অর্থদাতারাও – একথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দুরুদ মিয়া রণেল। রণেল আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছি যাতে আগামীতে এরা আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে কোন প্রশ্রয় না পায়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুকে অবমানকারী এম আজিজকে কেন মঞ্চে বসানো হয়েছে এ বিষয়টি এবিবিএ-র কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তাদের কেউই এর কোন উত্তর দেননি। উল্টো সমবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন মইনুল ইসলাম সাপ্তাহিক বর্ণমালা‘র প্রধান সম্পাদকের প্রতি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তাকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এ সময়ে সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার আসন থেকে নির্বাচন করে ধানের শীষ প্রতীকের সুলতান মনসুরের কাছে পরাজিত এম এম শাহীনের সাথে একই টেবিলে বসে থাকা এম আজিজও সাপ্তাহিক বর্ণমালার প্রধান সম্পাদকের প্রতি কটুভাষা প্রয়োগ করেন। পুরো ঘটনার সময়ে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের মাহফুজুর রহমানের পাশেই ছিলেন।
এদিকে সাপ্তাহিক বর্ণমালার প্রধান সম্পাদকের সাথে এবিবিএ‘র কর্মকর্তাদের অসাদাচারণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে অবমননাকাররি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাহফুজুর রহমান যে সৎ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন তাতে আমি গর্বিত।
মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মেহরাজ খানও নিন্দা জানিয়েছেন এবিবি‘র কর্মকর্তাদের বর্ণমালা‘র প্রধান সম্পাদকের সাথে আচরণের।
যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দুরুদ মিয়া রণেল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীর সহযোগীদের দোসর এবিবিএ কর্মকর্তাদের আচরণের নিন্দা করে তাদেরকে ভবিষতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা খান শওকত ফেইকবুক ভিডিও বার্তায় এবিবিএ‘র কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here